+1 vote
27 views
in Halal & Haram by
closed ago by

আমি অনলাইনে কিছু সফটওয়্যার বিক্রি করি। সফটওয়্যারগুলো উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম কিংবা এম.এস. ওয়ার্ড সফটওয়্যার এর মত। অর্থাৎ এগুলোর মালিক মাইক্রোসফট কিন্তু দোকানদাররা সফটওয়্যার সেটআপের জন্য টাকা নেয়। আমি আমার এই সফটওয়্যারগুলো মুলত কাফের মুশরিকদের কাছে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া বিক্রি করি। সফটওয়্যারটা একবার আমি কিনেছি। এরপর এইগুলো অন্যদের কাছে বিক্রি করি। এবং অন্যরা যাতে সফটওয়্যাগুলো ব্যবহার করতে পারে সেজন্য আমি আর একটি সফটওয়্যার তৈরী করেছি। তাই সফটওয়্যার বিক্রির সময় দুইটা সফটওয়্যার বিক্রি করি। একটা আমার তৈরী করা সফটওয়্যার এবং আরেকটি মাইক্রোসফটের মত আর একটা সফটওয়্যার । অন্যদিকে মাইক্রোসফট বা সফটওয়্যার তৈরি কারক কোম্পানী সরাসরি অনুমতি দেয় না সফটওয়্যারগুলোকে বিক্রির জন্য। আমি এ কাজটি করছি কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করেঃ ১. এই সফটওয়্যারগুলো তৈরী করেছে কাফেররা। আর এর মুনাফার অংশ কোন না কোনভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। তাই আমি মনে করি কাফেররা কিছু অংশে হলেও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

২. আমি মনে মনে নিয়ত করি সফটওয়্যার বিক্রির সময় আমি যেটা তৈরী করেছি ঐইটাই বিক্রি করছি। কিন্তু মেইন সফটওয়্যারুগুলো ফ্রি দিচ্ছি। ৩. আমি এই সফটওয়্যারুগুলো থেকে যে আয় হয় তার কিছু অংশ ৫-১০ ভাগ বিভিন্ন মাদ্রাসা ও দ্বীনের খেদমতে ব্যয় করছি।

৪. অন্যদিকে এই সফটওয়্যার কোম্পানীগুলো তাদের খরচ অনেক আগেই উছে গেছে। তাই এগুলো তাদের লসের অংশ নয়।
৫. অনেক দেশে তারা এই সফটওয়্যারগুলো অনেক দামে বিক্রি করছে । আমরা কম দামে বিক্রি করছি।
৬. আর অন্যদিকে সফটওয়্যার কোন বস্তুগত সম্পদ নয়। এটা একটা অবস্তুগত সম্বদ।

৭. আর আমরা সফটওয়্যাগুলো সেটআপ দিয়ে অনেকসময় ট্রেনিং ও দিচ্ছি আবার অনেক সময় চালানোর  নিয়মের ব্যপারে হেল্প করছি। 
এমতাবস্থায় এই বেচা কিনা আমার জন্য হালাল হবে কিনা?
আরও যদি কিছু জানার থাকে তবে: 01811114486
 

closed

1 Answer

0 votes
ago by (3.3k points)
selected ago by
 
Best answer

বিসমিহি তা'আলা

জবাবঃ-

পাইরেটেড ইউন্ডোজ সফটওয়্যার বা নকল সফটওয়্যার ব্যবহার বা ক্রয়-বিক্রয় জায়েয কি না?

এ সম্পর্কে বুঝতে হলে প্রথমেই আমাদেরকে ভূমিকা সরূপ এহতেকার সম্পর্কে কিছুটা ধারণা নিতে হবে।

প্রথম অধ্যায়ঃ-

এহতেকার বা সিন্ডিকেট/গোদামজাত  চার মাযহাব মতে হারাম।

আল্লাহ তা'আলা বলেন,

ﺇِﻥَّ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍ ﻭَﻳَﺼُﺪُّﻭﻥَ ﻋَﻦ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﺍﻟْﺤَﺮَﺍﻡِ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺟَﻌَﻠْﻨَﺎﻩُ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ ﺳَﻮَﺍﺀ ﺍﻟْﻌَﺎﻛِﻒُ ﻓِﻴﻪِ ﻭَﺍﻟْﺒَﺎﺩِ ﻭَﻣَﻦ ﻳُﺮِﺩْ ﻓِﻴﻪِ ﺑِﺈِﻟْﺤَﺎﺩٍ ﺑِﻈُﻠْﻢٍ ﻧُﺬِﻗْﻪُ ﻣِﻦْ ﻋَﺬَﺍﺏٍ ﺃَﻟِﻴﻢٍ

যারা কুফর করে ও আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং সেই মসজিদে হারাম থেকে বাধা দেয়, যাকে আমি প্রস্তুত করেছি স্থানীয় ও বহিরাগত সকল মানুষের জন্যে সমভাবে এবং যে মসজিদে হারামে অন্যায়ভাবে কোন ধর্মদ্রোহী কাজ করার ইচ্ছা করে, আমি তাদেরকে যন্ত্রানাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করাব।

সূরা হজ্ব-২৫

উক্ত আয়াতে ইলহাদের ব্যখায় উলামায়ে কেরাম নিম্নোক্ত হাদীস পেশ করে বলেন যে ইলহাদ তখনই হবে যখন এহতেকার পাওয়া যাবে।

হযরত ইয়া'লা ইবনে উমাইয়্যা থেকে বর্ণিত,

عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ أَنَّ الرَّسُول صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَال: احْتِكَارُ الطَّعَامِ فِي الْحَرَمِ إِلْحَادٌ فِيهِ.

عون المعبود رقم الحديث ٢٠٢٠

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন- হরম শরীফে খাদ্যকে গোদামজাত করণ ধর্মদ্রোহের শামিল।

হযরত উমর রাযি থেকে বর্ণিত

ﻋﻦ ﻋﻤﺮ - ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ - ، ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻗﺎﻝ : " ﺍﻟﺠﺎﻟﺐ ﻣﺮﺯﻭﻕ ﻭﺍﻟﻤﺤﺘﻜﺮ ﻣﻠﻌﻮﻥ " . ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ ، ﻭﺍﻟﺪﺍﺭﻣﻲ

ব্যবসায়ী রিযিকপ্রাপ্ত,এবং সিন্ডিকেটকারী অভিশপ্ত।

মিশকাত-২৮৯৩

হযরত মা'মার ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি থেকে বর্ণিত

عَنْ مَعْمَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ قَال: قَال رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنِ احْتَكَرَ فَهُوَ خَاطِئٌ

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন-

যে মূল্যবৃদ্ধির জন্য গোদামজাত করল সে গোনাহগার।

সহীহ মুসলিম-১৬০৫

এহতেকার কাকে বলে?

সে সম্পর্কে সম্পর্কে  চার মাযহাব সম্বলীত সর্ব বৃহৎ ফেক্বাহী গ্রন্থ

"আল-মাওসু'আতুল ফেক্বহিয়্যায়(২/৯৪) "

বিশদ আলোচনা করা হয়েছে।নিম্নে তার চুম্বকাংশ তুলে ধরছি....

أَمَّا فِي الشَّرْعِ فَقَدْ عَرَّفَهُ الْحَنَفِيَّةُ بِأَنَّهُ: اشْتِرَاءُ طَعَامٍ وَنَحْوِهِ وَحَبْسُهُ إِلَى الْغَلاَءِ.

পরিভাষায় এহতেকার বলা হয়,

খাদ্য বা খাদ্য জাতীয় বস্তুকে খরিদ করে মূল্য বৃদ্ধি পর্যন্ত মওজুদ রাখা।

কোন কোন জিনিষে এহতেকার হবে সে সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়,

ইমাম মালিক ও আবু ইউসুফ রাহ বলেন,

الثَّانِي: أَنَّ الاِحْتِكَارَ يَجْرِي فِي كُل مَا يَحْتَاجُهُ النَّاسُ، وَيَتَضَرَّرُونَ مِنْ حَبْسِهِ، مِنْ قُوتٍ وَإِدَامٍ وَلِبَاسٍ وَغَيْرِ ذَلِكَ. وَهَذَا مَا ذَهَبَ إِلَيْهِ الْمَالِكِيَّةُ وَأَبُو يُوسُفَ مِنَ الْحَنَفِيَّةِ

ভাবার্থ-

প্রত্যেক ঐ জিনিষ যা সিন্ডিকেট করে রাখলে জনসাধারণ ভুগান্তিতে পড়বে।চায় তা খাদ্য হোক বা পোষাক হোক বা অন্য কিছু হোক।

এহতেকার হারাম হওয়ার হেকমত হল,

الْحِكْمَةُ فِي تَحْرِيمِ الاِحْتِكَارِ:

٦ - يَتَّفِقُ الْفُقَهَاءُ عَلَى أَنَّ الْحِكْمَةَ فِي تَحْرِيمِ الاِحْتِكَارِ رَفْعُ الضَّرَرِ عَنْ عَامَّةِ النَّاسِ. وَلِذَا فَقَدْ أَجْمَعَ الْعُلَمَاءُ عَلَى أَنَّهُ لَوِ احْتَكَرَ إِنْسَانٌ شَيْئًا، وَاضْطُرَّ النَّاسُ إِلَيْهِ،وَلَمْ يَجِدُوا غَيْرَهُ، أُجْبِرَ عَلَى بَيْعِهِ - عَلَى مَا سَيَأْتِي بَيَانُهُ - دَفْعًا لِلضَّرَرِ عَنِ النَّاسِ، وَتَعَاوُنًا عَلَى حُصُول الْعَيْشِ (١) . وَهَذَا مَا يُسْتَفَادُ مِمَّا نُقِل عَنْ مَالِكٍ مِنْ أَنَّ رَفْعَ الضَّرَرِ عَنِ النَّاسِ هُوَ الْقَصْدُ مِنَ التَّحْرِيمِ، إِذْ قَال: إِنْ كَانَ ذَلِكَ لاَ يَضُرُّ بِالسُّوقِ فَلاَ بَأْسَ (٢) وَهُوَ مَا يُفِيدُهُ كَلاَمُ الْجَمِيعِ (٣) .

ফুকাহায়ে কিরাম একমত যে,এহতেকার হারাম হওয়ার হেকমত হল, জনসাধারণকে ভুগান্তি থেকে রক্ষা করা।এজন্য ফুকাহায়ে কিরাম একমত যে,যদি কোনো মানুষ কোনো জিনিষ গোদামজাত করে নেয়,আর লোকজন সে জিনিষের প্রতি মুখাপেক্ষী থাকে,তারা অন্য কারো থেকে ক্রয় করতে পারে না,তাহলে ঐ ব্যক্তিকে সাধারণ বাজার মূল্যর উপর বিক্রি করতে বাধ্য করা হবে।জনসাধারণকে ভুগান্তি থেকে বাঁচাতে এবং সাধারণ জীবনাচরণ ফিরিয়ে আনতে।

এটা ইমাম মালিক রাহ এর উক্তি থেকে স্পষ্টই বু্ঝা যায় যে, তিনি বলেছে 'এহতেকার হারাম হওয়ার মূল উদ্দেশ্যই হল জনসাধারণ কে কষ্ট থেকে মুক্তি দেয়া।কিন্তু যদি এহতেকারে ধরুণ জনসাধারণের কষ্ট না হয়, তাহলে তাতে কোনো সমস্যা নাই।

সমস্ত ফুকাহায়ে কেরামদের মূল উদ্দেশ্যই হল জনসাধারণ কে মুক্তি দেয়া।

এহতেকারে শাখাপ্রশাখা গত কিছু আলোচনা,

وَقَدْ صَوَّرَهُ ابْنُ الْقَيِّمِ بِقَوْلِهِ: أَنْ يَلْزَمَ النَّاسَ أَلاَّ يَبِيعَ الطَّعَامَ أَوْ غَيْرَهُ مِنَ الأَْصْنَافِ إِلاَّ نَاسٌ مَعْرُوفُونَ، فَلاَ تُبَاعُ تِلْكَ السِّلَعُ إِلاَّ لَهُمْ، ثُمَّ يَبِيعُونَهَا هُمْ بِمَا يُرِيدُونَ. فَهَذَا مِنَ الْبَغْيِ فِي الأَْرْضِ وَالْفَسَادِ بِلاَ تَرَدُّدٍ فِي ذَلِكَ عِنْدَ أَحَدٍ مِنَ الْعُلَمَاءِ. وَيَجِبُ التَّسْعِيرُ عَلَيْهِمْ، وَأَنْ يَبِيعُوا وَيَشْتَرُوا بِقِيمَةِ الْمِثْل مَنْعًا لِلظُّلْمِ. وَكَذَلِكَ إِيجَارُ الْحَانُوتِ عَلَى الطَّرِيقِ أَوْ فِي الْقَرْيَةِ بِأُجْرَةٍ مُعَيَّنَةٍ، عَلَى أَلاَّ يَبِيعَ أَحَدٌ غَيْرُهُ، نَوْعٌ مِنْ أَخْذِ أَمْوَال النَّاسِ قَهْرًا وَأَكْلِهَا بِالْبَاطِل، وَهُوَ حَرَامٌ عَلَى الْمُؤَجِّرِ وَالْمُسْتَأْجِرِ-

ইমাম ইবনুল কায়্যিম রাহ, এহতেকার এর শাখাপ্রশাখাগত আলোচনা করতে যেয়ে তার একটি পদ্ধতি এরূপ বর্ণনা করেন যে,মানুষের উপর অত্যাবশ্যকীয় করে দেয়া যে,উক্ত খাদ্য বা এজাতীয় অন্যান্য জিনিষ নির্দিষ্ট সংখ্যক কিছু লোক(ডিলার) ছাড়া অন্য কেউ বিক্রি করতে পারবে না।সুতরাং উক্ত জিনিষকে শুধুমাত্র ঐ সমস্ত ব্যক্তিবর্গের(ডিলারদের) নিকটই বিক্রি করা হয়।এ?আর তারা যেভাবে ইচ্ছা মূল্যনির্ণয় পূর্বক বিক্রি করে।এটা নিঃসন্দেহে যমিনে বিশৃঙ্খলা ও ফাসাদ সৃষ্টির অন্যতম কারণ।তাদেরকে সহজ সাধারণ বাজারমূল্য  নির্ধারণ ও মুক্তভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য বাধ্য করা মুসলমানদের উপর ওয়াজিব।

ঠিক তেমনিভাবে রাস্তার ধারে বা গ্রামে নির্দিষ্ট ভাড়ার বিনিময়ে কোনো দোকান ঐ শর্তে ভাড়া দেয়া ও নেয়া যে,সে ব্যতীত আর কেউ বিক্রয় করতে পারবে না।

এটা মানুষের মালকে অন্যায়ভাবে জোড়করে করে আত্মসাৎ করা ও বাতিল ত্বরিকায় উপার্জন করার নামান্তর।

এক্ষেত্রে দোকান ভাড়ায় প্রদানকারী ও ভাড়াটি উভয় ই গোনাহগার হবেন।

আল-মাওসুআতুল ফেকহিয়্যাহ 2/94

দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ-

পাইরেটেড সফটওয়্যার সম্পর্কে কয়েকটি দারুল ইফতার ফাতাওয়া।

সফটওয়্যার বা অনুরূপ জিনিষ যেমন কিতাব ইত্যাদির স্বত্ব মালিক কর্তৃক সংরক্ষিত থাকে।সেগুলোকে কপি করে বিক্রি করা বা ব্যবহার করা জায়েয কি না? এনসম্পর্কে

আল-লাজনাতু-দ্দায়িমাহ লিল-বুহুছিল ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা(সৌদি আরব)এর সিদ্ধান্ত নিম্নরূপ।

১৩/৮৮

أعمل في مجال الحاسب الآلي ، ومنذ أن بدأت العمل في هذا المجال أقوم بنسخ البرامج للعمل عليها ، ويتم ذلك دون أن أشتري النسخ الأصلية لهذه البرامج ، علمًا بأنه توجد على هذه البرامج عبارات تحذيرية من النسخ ، مؤداها : أن حقوق النسخ محفوظة ، تشبه عبارة ( حقوق الطبع محفوظة ) الموجودة على بعض الكتب ، وقد يكون صاحب البرنامج مسلمًا أو كافرًا ، وسؤالي هو : هل يجوز النسخ بهذه الطريقة أم لا ؟

فأجابوا :

" لا يجوز نسخ البرامج التي يمنع أصحابها نسخها ، إلا بإذنهم ؛ لقوله صلى الله عليه وسلم : ( المسلمون على شروطهم ) ؛ ولقوله صلى الله عليه وسلم : ( لا يحل مال امرئ مسلم إلا بطيبة من نفسه ) ؛ وقوله صلى الله عليه وسلم : ( من سبق إلى مباح فهو أحق به ) ، سواء كان صاحب هذه البرامج مسلماً أو كافراً غير حربي ؛ لأن حق الكافر غير الحربي محترم كحق المسلم ، وبالله التوفيق " انتهى .

আল-লাজনাতু-দ্দায়িমাহ কে প্রশ্ন করা হয়েছিল,

প্রশ্নঃ-

আমি একটি একজন কম্পিউটার প্রগ্রামার।আমি একটি সফটওয়্যার এর নকল কপি বানিয়েছি।ঐ নকল কপি দ্বারা যে কোনো কম্পিউটার চালানো যায়।আমি জানি এরকম কপি করা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিষিদ্ধ।এ নিষেধাজ্ঞা এমন যেন তা কিতাবের প্রারম্ভে 'প্রকাশনাস্বত্ত সংরক্ষিত' লিখে কপি নিষেধাজ্ঞার অনুরূপ।

কখন উক্ত সফটওয়্যার এর নির্মাতা মুসলিম হন আবার কখনো অমুসলিম হন।এখন আমার প্রশ্ন হল,এরকমভাবে সফটওয়্যার নকল করা কি জায়েয আছে?

তারা জবাবে বলেছেন,

সফটওয়্যারের কপি যা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিষিদ্ধ-কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত বিক্রি করা জায়েয হবে না।কেননা রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,

'মুসলমানগণ চুক্তি পালনে বদ্ধপরিকর'(যে চুক্তি তারা শরীয়ত পালনার্তে পরস্পর করবে)

এবং তিনি আরো বলেন-

কোন মুসলমানের জন্য  অন্য কোনো মুসলমানের মাল তার অন্তরের সন্তুষ্টি ব্যতীত হালাল হবে না।

এবং তিনি আরো বলেন-

যে ব্যক্তি কোনো মুবাহ জিনিষকে আয়ত্ব করে নেবে, সে জিনিষের সর্বস্বত্ত তারই মালিকানাধীন থাকবে।

এখন চায় উক্ত সফটওয়্যারের মালিক মুসলিম হোক বা গায়রে হারবী(মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত নয় এমন) অমুসলিম হোক।কেননা এমন অমুসলিমের মাল ও সম্পদও চুক্তি অনুসারে নিরাপদ।

কিছুসংখ্যক উলামায়ে কেরাম মনে করেন,যদি কেউ ব্যবসার জন্য সফটওয়্যার কপি করে তবে তা নাজায়েয। আর যদি নিজের ব্যবহারের জন্য কপি করে তবে তা জায়েয।

শায়েখ সা'দ হুমাইয়্যিদ মনে করেন,

ব্যবসা বা মূল মালিককে ক্ষতি পৌছানোর জন্য কিতাব বা কোনো জিনিষের কপি তৈরী করা জায়েয হবে না। আর যদি কোনো মানুষ তার নিজের জন্য একটি কপি তৈরী করে নেয়,তাহলে আমি মনে করি তাতে কোনো অসুবিধা হবে না।তবে সর্বাবস্থায় কপি থেকে বেছে থাকাই উত্তম।

এ সম্পর্কে ইবনে উছাইমিন রাহ এর ফাতাওয়া

السؤال : فضيلة الشيخ ! هل يجوز نسخ برامج الحاسب الآلي مع أن الشركات تمنع ذلك والنظام ؟ وهل يعتبر ذلك احتكاراً وهي تباع بأسعار غالية ، وإذا نسخت تباع بأسعار رخيصة ؟ .

الشيخ : أما إذا كانت الدولة مانعة : فهذا لا يجوز ؛ لأن الله أمر بطاعة ولاة الأمور ، إلا في معصية الله ، والامتناع من تسجيلها ليس من معصية الله ، وأما من جهة الشركات : فالذي أرى أن الإنسان إذا نسخها لنفسه فقط : فلا بأس ، وأما إذا نسخها للتجارة : فهذا لا يجوز ؛ لأن فيه ضرراً على الآخرين ، يشبه البيع على بيع المسلم ؛ لأنهم إذا صاروا يبيعونه بمائة ونسختَه أنت وبعته بخمسين : هذا بيع على بيع أخيك . 

السائل : وهل يجوز أن أشتريها بخمسين من أصحاب المحلات وهو منسوخ . 

الشيخ : لا يجوز ، إلا إذا قدم لك أنه مأذون له ، وأما إذا لم يقدم : فهذا تشجيع على الإثم والعدوان . 

السائل : إذا لم يؤذن له هو - جزاك الله خيراً - ؟ . 

الشيخ : وإذا كنت أيضاً لا تدري ، أحياناً الإنسان لا يدري يقف على هذا المعرض ويشتري وهو لا يدري ، هذا لا بأس به ، الذي لا يدري ليس عليه شيء .

" لقاءات الباب المفتوح " ( 178 / السؤال رقم 6 ) .

ইবনে উছাইমিন রাহ কে প্রশ্ন করা হয়েছিল

প্রশ্নঃ সফটওয়্যার কপি করে বিক্রি করা কি জায়েয?কর্তৃপক্ষ এতে নিষেধ করে থাকে এজন্য যে যাতে করে তারা বেশ মূল্যে বিক্রি করতে পারে।

আর কপি হলে বাজারে অল্পমূল্যে পাওয়া যাব।

জবাবঃ-

যদি রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কপি কে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়, তবে তা কপি করা অবশ্যই নাজায়েয। কেননা শরীয়ত বিরোধী নয় এমন রাষ্ট্রীয় বিধিমালা মানার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কপিকে নিষদ্ধ ঘোষনা করা আল্লাহর নাফরমানি নয়।

নিষিদ্ধ ঘোষনা যদি কোনো কম্পানি কর্তৃক হয়ে থাকে।তাহলে আমি মনে করি যে নিজ ব্যবহারের জন্য কপি করা জায়েয আর ব্যবসার জন্য করাটা নাজায়েয। কেননা এদ্বারা অন্যকে ক্ষতি পৌছানো হচ্ছে 

প্রশ্নঃ সস্তায় কপিকৃত সফটওয়্যার ক্রয় করা কি জায়েয?

জবাবঃ মূল মালিকের অনুমতিতে কপি হলে জায়েয।অন্যথায় নাজায়েয।

কেউ যদি কখনো না জেনে কপিকৃত জিনিষ ক্রয় করে নেয় তবে তাতে কোনো সমস্যা নাই।

তৃতীয় অধ্যায়ঃ-

সু-প্রিয় পাঠকবৃন্দ!

প্রচলিত পাইরেটেড সফটওয়্যার তথা অনুমতি বিহীন ডাউনলোড সাধারণত তিন ভাবে হতে পারে। যথা-

(১)ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে তথা নিজে লাভবান হওয়ার নিয়তে পাইরেটেড সফটওয়্যার বিক্রয় ও পরিবেশন করা। এটা নাজায়েয। কেননা, এর দ্বারা নির্মাতা বা আবিস্কারকের লাভের অধিকারকে হরণ করা হয়। আর হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ﻻ ﺿﺮﺭ ﻭﻻ ﺿﺮﺍﺭ ‘নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও অন্যকে ক্ষতি সাধনের কোন অনুমতি ইসলামে নেই।’

(সুনানে দারাকুতনী ৩০৭৯)

(২)

ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে পাইরেসি তথা সফটওয়্যারটি নিজে ব্যবহার করা কিংবা বিক্রয় বা পরিবেশন না করে নিজেদের ব্যবস্যায়িক বা আর্থিক কাজে লাগানো। এ প্রকারের সফটওয়ারের ক্ষেত্রে যদি কপিরাইট অধিকারীর মৌন সম্মতি থাকে, তাহলে তা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মৌন সম্মতির পাশাপাশি যদি জেনুইনটি কেনার মোটেও সামর্থ্য না থাকে তাহলে মুফতিগণ এর ব্যবহার জায়েয বলে থাকেন।

(ফাতওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ fatwa ID : 903-917/N=8/1435-U)

নকল সফটওয়্যার তৈরীর প্রতি তাদের মৌন সম্মতি রয়েছে।

(https://www.microsoft.com/en-us/legal/পাইরেসিt)

সুতরাং এগুলোর ব্যবহার -বিশেষ করে জেনুইনটি কেনার মোটেও সামর্থ্য না থাকলে- নাজায়েয হবে না।

(দরসুল ফিকহ, দারুল উলুম হাটহাজারী ২/৩৮৪, ৩৮৫)

(সংগৃহীত)

৩- ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়;বরং সর্বসাধারণের নাগালে রাখার জন্য কপিরাইটেড সফটওয়্যার ক্র্যাক করে বিক্রি করা।

যদি এ এরকম নকল সফটওয়ার তৈরীর ধরুণ সফটওয়্যার কোম্পানির বড় ধরণের কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে তাহলে তা জায়েয হবে না।তবে যদি কোন ক্ষেত্রে এমন হয় যে, কোম্পানি সফটওয়্যার বিক্রয় করে উপযুক্ত লাভ অর্জন করে নিয়েছে।এবং যার মূল্যও নাগালের বাইরে,এখন নকল সফটওয়ার তৈরীর প্রতি কোম্পানির মৌন সমর্থন রয়েছে বা এর দ্বারা কোম্পানির কোন ক্ষতি হবে না, তাহলে এ ধরণের নকল সফটওয়্যার জায়েয তৈরী আছে।

মোটকথাঃ

হ্যা কম্পানির লাভ হোক বা ক্ষতি হোক, উক্ত কম্পানির সফটওয়ারের মূল্য যদি সর্বসাধারণের নাগালে বাইরে থাকে, তাহলে কম্পানিকে সফটওয়ার মূল্য জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রথমে অনুরোধ করা হবে।যদি তারা মূল্যহ্রাস না করে তাহলে মূল্যহ্রাস পযন্ত উক্ত সফটওয়্যারের নকল বিক্রি করা সহনশীল মূল্যে বৈধ হবে।

যেমন ইতিপূর্বে আমরা 'আল-মাওসু'আতুল ফেক্বহিয়্যায়'(২/৯৪) দেখেছি,সেখানে বর্ণিত রয়েছে,

وَلِذَا فَقَدْ أَجْمَعَ الْعُلَمَاءُ عَلَى أَنَّهُ لَوِ احْتَكَرَ إِنْسَانٌ شَيْئًا، وَاضْطُرَّ النَّاسُ إِلَيْهِ،وَلَمْ يَجِدُوا غَيْرَهُ، أُجْبِرَ عَلَى بَيْعِهِ -

এজন্য সমস্ত উলামায়ে কেরাম এ কথার উপর একমত যে,যদি কেউ কোনো জিনিষ মূল্যবৃদ্ধির আশায় গোদামজাত করে রাখে।(তথা কমমূল্যে বিক্রি না করে) এবং মানুষও সে ব্যতীত অন্য কারো নিকট উক্ত মাল না পায়।

তাহলে উক্ত গোদামজাতকারীকে বিক্রির উপর যেকোনো ভাবে বাধ্য করা হবে।

তাছাড়া আমরা জানি যে, মাইক্রসফট কম্পানির সফটওয়্যার ব্যতীত কম্পিউটার অচল।বাধ্য হয়ে উক্ত সফটওয়্যার ক্ররিদ করতেই হবে।তাই কম্পানি তাদের ইচ্ছানুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করে রেখেছে।এবং সে কম্পানি দিন দিন ধনী হয়ে আজ টানা কয়েক বছর যাবৎ বিশ্বের এক নাম্বার ধনী হিসেবে রয়েছে।

অথচ ধন-সম্পদ কোনো এক ব্যক্তি বা কোন এক দলের নিকট হস্তগ্রত হয়ে থাকা কুরআনী বিধানাবলীর উদ্দেশ্যের বিপরিত।

যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন-

ﻣَّﺎ ﺃَﻓَﺎﺀ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﺳُﻮﻟِﻪِ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻘُﺮَﻯ ﻓَﻠِﻠَّﻪِ ﻭَﻟِﻠﺮَّﺳُﻮﻝِ ﻭَﻟِﺬِﻱ ﺍﻟْﻘُﺮْﺑَﻰ ﻭَﺍﻟْﻴَﺘَﺎﻣَﻰ ﻭَﺍﻟْﻤَﺴَﺎﻛِﻴﻦِ ﻭَﺍﺑْﻦِ ﺍﻟﺴَّﺒِﻴﻞِ ﻛَﻲْ ﻟَﺎ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺩُﻭﻟَﺔً ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟْﺄَﻏْﻨِﻴَﺎﺀ ﻣِﻨﻜُﻢْ ﻭَﻣَﺎ ﺁﺗَﺎﻛُﻢُ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝُ ﻓَﺨُﺬُﻭﻩُ ﻭَﻣَﺎ ﻧَﻬَﺎﻛُﻢْ ﻋَﻨْﻪُ ﻓَﺎﻧﺘَﻬُﻮﺍ ﻭَﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺷَﺪِﻳﺪُ ﺍﻟْﻌِﻘَﺎﺏِ

আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর, রসূলের, তাঁর আত্নীয়-স্বজনের, ইয়াতীমদের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্যে, 

"যাতে ধনৈশ্বর্য্য কেবল তোমাদের বিত্তশালীদের মধ্যেই পুঞ্জীভূত না হয়।" 

রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।

সূরা হাশর০৭

এজন্যই কুরআনে কারীম যাকাতের বিধান সহ তাওফিক অনুযায়ী আরোও বিভিন্নরকম দান খায়রাতের ঘোষণা দিয়েছে।

বছরের পর বছরধরে মানুষের ক্ষয়ক্ষমতার বাইরে মূল্যনির্ণয় পূর্বক কোনো এক স্থানে পৃথিবীর সম্পদের একটি বড় অংশকে কুক্ষিগত করে রাখা

অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দিত কাজ।

তাই মূল্যহ্রাসের জন্য তাকে বাধ্য করা ইসলামী হুকুমতের দায়িত্ব।কিন্তু যেহেতু এটা অমুসলিম দ্বারা পরিচালিত যেখানে খেলাফত থাকলে ও তাতে হাত বাড়ানোর সুযোগ নেই, তাই বিকল্প রাস্তা বের করতে হবে।

আর এই বিকল্প রাস্তাসমূহের মধ্য সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ রাস্তা এটাই মনে হচ্ছে, যে সে সফটওয়্যারের মূল্যহ্রাস পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ হিসেবে সেই সফটওয়্যারের নকল কপি তৈরী করে জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

যখন তারা ক্রয়ক্ষমতার ভিতরে নিয়ে আসবে তখন অবশ্য সে সফটওয়্যারের নকল কপি তৈরী করা আর জায়েয হবে না।

(এখানকার কিছু তত্ব ইন্টারনেট থেকে সংযোগিত ও সংগৃহীত)

অাল্লাহ-ই ভালো জানেন।

ইসলামিক ফতোয়া ওয়েবসাইটটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত। যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।
...