0 votes
8 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (12 points)
আসসালামু আলইকুম। আমার প্রশ্ন হচ্ছে ওলামা একরাম বলে থাকেন আকিকার ব্যাপারে ছেলে হলে দুইটা ছাগল এবং মেয়ে হলে একটা ছাগল। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে যদি ছেলে হয় ছেলের বাবার যদি আর্থিক সামর্থ্য না থাকে আকিকা দুইটা ছাগল দেওয়ার এবং সে যদি নিয়ত করে আমি একটা ছাগল আকিকা দেবো এটা কি সহীহ হবে কিনা?

1 Answer

0 votes
by (39.8k points)

বিসমিহি তা'আলা

জবাবঃ-

আলহামদুলিল্লাহ।

(এক)
আকিকা করা সুন্নত(সুন্নতে যায়েদা)।আকিকা করলে সওয়াব হবে,তবে ছেড়ে দিলে কোনো প্রকার গোনাহ হবে না।
যেমন ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে
العقيقة عن الغلام وعن الجارية وهي ذبح شاة في سابع الولادة وضيافة الناس وحلق شعره مباحة لا سنة ولا واجبة كذا في الوجيز للكردري.
ছেলে সন্তান এবং মেয়ে সন্তান উভয়ের পক্ষ্য থেকে সপ্তম দিনে আকিকা করা হবে এবং যিয়াফত করানো হবে ও চুল মুন্ডানো হবে।এটা মুবাহ তথা সুন্নতে যায়েদা।সুন্নতে মু'আক্বাদা বা ওয়াজিব নয়।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-৫/৩৬২)

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,
( مَنْ وُلِدَ لَهُ وَلَدٌ فَأَحَبَّ أَنْ يَنْسُكَ عَنْهُ فَلْيَنْسُكْ ، عَنْ الْغُلامِ شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ ، وَعَنْ الْجَارِيَةِ شَاةٌ )
যদি কারো সন্তান জন্ম নেয় এবং সে যদি পছন্দ করে আকিকা দিতে,তাহলে সে যেন বরাবর দুটি ছাগল দ্বারা ছেলের আকিকা করে।এবং একটি ছাগল দ্বারা মেয়ের আকিকা করে।(সুনানু আবু-দাউদ-২৮৪২)


فعلق النبي صلى الله عليه وسلم أمرها على محبة فاعلها، وهذا دليل على أنها مستحبة غير واجبة.
রাসূলুল্লাহ সাঃ উক্ত হাদিসে আকিকাকারীর মহব্বতের উপর বিষয়টাকে ছেড়ে দিয়েছেন।কাজেই বু্ঝা গেল,আকিকা করা সুন্নতে মুসতাহাব্বাহ এর অন্তর্ভুক্ত।ওয়াজিব নয়।করলে সওয়াব ও ফযিলত আছে।না করলে কোনো প্রকার গোনাহ হবে না।(তুহফাতুল মাওলুদ-১৫৭)

(দুই)
ছেলের পক্ষ্য থেকে দুইটি ছাগল দ্বারা আকিকা করা এবং মেয়ের পক্ষ্য থেকে একটি ছাগল দ্বারা আকিকা করা মুস্তাহাব।

হযরত উম্মে কুরয রাযি থেকে বর্ণিত রয়েছে,
عن أم كرز أنها سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن العقيقة ، فقال عليه الصلاة والسلام : ( عَنْ الْغُلَامِ شَاتَانِ وَعَنْ الْأُنْثَى وَاحِدَةٌ )
তিনি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে আকিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে রাসূলুল্লাহ সাঃ জবাবে বললেন,ছেলের পক্ষ্য থেকে দুইটি এবং মেয়ের পক্ষ্য থেকে একটি ছাগল দ্বারা আকিকা করা হবে।(সুনানু তিরমিযি-১৫১৬,সুনানু নাসাঈ-৪২১৭)

তবে ছেলে-মেয়ে যে কারো পক্ষ্য থেকে একটি ছাগল দ্বারাও আকিকা করা যায়।যেমন ইবনে আব্বাস রাযি থেকে বর্ণিত রয়েছে,
عن ابن عباس رضي الله عنه قال: ( عق رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الحسن والحسين عليهما السلام كبشا كبشاً ).." انتهى.
তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাঃ হাসান এবং হুসাইন উভয়ের পক্ষ্য থেকে একটি একটি করে ছাগল দ্বারা আকিকা করেছেন।

ইমাম নববী রাহ বলেন,
" السنة أن يعق عن الغلام شاتين, وعن الجارية شاة , فإن عق عن الغلام شاة حصل أصل السنة,
ছেলের জন্য দু'টি ছাগল এবং মেয়ের জন্য একটি ছাগল দ্বারা আকিকা করা সুন্নত।তবে ছেলের পক্ষ্য থেকে একটি ছাগল দ্বারা আকিকা করলেও সুন্নত আদায় হয়ে যাবে।(শরহুল মুহাযযাব-৮/৪০৯)

চার মাযহাব সম্বলীত সর্ববৃহৎ ফেক্বাহী গ্রন্থ
"আল-মাওসু'আতুল ফেক্বহিয়্যায়(৩০/২৮০) "এ বর্ণিত রয়েছে,
" وذهب الشافعية والحنابلة إلى أنه يستحب أن يعق عن الذكر بشاتين متماثلتين ، وعن الأنثى بشاة ؛ لحديث عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم: ( أمرهم عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية بشاة ) . ويجوز العق عن الذكر بشاة واحدة؛ لحديث ابن عباس رضي الله عنهما ...وذهب الحنفية والمالكية إلى أنه يعق عن الغلام والجارية : شاة شاة ؛ وكان ابن عمر رضي الله تعالى عنهما يفعله..." انتهى.
শাফেয়ী এবং হাম্বলী মাযহাব মতে ছেলের জন্য দুইটি ছাগল দ্বারা আকিকা করা এবং মেয়ের জন্য একটি ছাগল দ্বারা আকিকা করা মুস্তাহাব।কারণ হিসেবে তারা হযরত আয়েশা রাযি এর হাদীস উল্লেখ করেন,যেখানে রাসূলুল্লাহ সাঃ ছেলের জন্য দু'টি এবং মেয়ের জন্য একটি ছাগল দ্বারা আকিকা করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।হ্যা ছেলে পক্ষ্য থেকে একটি ছাগল দ্বারা আক্বিকা করার কথাও বর্ণিত রয়েছে।যেমন ইবনে আব্বাস রাযি কর্তৃক বর্ণিত উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত রয়েছে।
হানাফি এবং মালিকী মাহযাব মতে ছেলে-মেয়ে যে কারো পক্ষ্য থেকে একটি করে ছাগল দ্বারা আকিকা করাই যথেষ্ট হবে।কেননা ইবনে উমর রাযি এমনটা করতেন।


ছেলের পক্ষ্য থেকে একটি ছাগল দ্বারা আকিকা করলেও তা যথেষ্ট হবে।(আহসানুল ফাতাওয়া-৭/৫৩৫)

আরো জানতে ভিজিট করুন- 318

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
ছেলে হোক মেয়ে হোক, একটি করে ছাগল দ্বারা আকিকা করা সুন্নত।তবে
ছেলের জন্য দুইটি ছাগল দ্বারা আকিকা করা এবং মেয়ের জন্য একটি ছাগল দ্বারা আকিকা করা মুস্তাহাব।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, Iom.

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

Related questions

...