0 votes
13 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (5 points)
১. টিভিতে সংবাদ পাঠিকা হিসেবে চাকুরী করা কি কোন মুসলিম নারীর জন্য বৈধ? এমন চাকুরীজীবি কোন মহিলার উপার্জন হতে দেওয়া উপহার গ্রহণ জায়েজ?

২. রোজা অবস্থায় শাওয়ারের নিচে গুসল করার সময় নাকের ভেতর দিয়ে পানি মগজে যাওয়ার অনুভূতি হলে সেই রোজার কাজা করা জরুরি?

৩. ইশার সালাতের সাথে বিতর পড়ে নিলে পরে যদি শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়ার তাওফিক হয়, তখন কি আবার বিতর পড়তে হয়?

৪. কুরআন খতমের আমল সহীহভাবে কবুল হবার জন্য কি পোষাকের বা উজু অবস্থার পবিত্রতার কোন শর্ত আছে? কয়েক পারা কুরআন  পবিত্র পোষাকে পাঠ করার পর যদি কিছু অংশ পাঠ করার সময় পোষাক বা জায়গা পাক না থাকলে কি কুরআন খতম সহীহ হয়েছে ধরা যায়?

৫. ঘুম ভাঙার পর হাত নাপাক থাকে তাই ধুয়ে নিতে হয় বলে জানি। ঘুম ভাঙার পর মুখ না ধুয়ে বা কুলি না করে কিছু খাওয়া কি জায়েজ?

৬. হাঁস মুরগি কবুতর কোয়েল বা যে কোন হালাল পাখির গোশতে হারাম অংশ কী কী আছে যা ফেলে দিতে হয়?

৭. নফল রোজা রাখতে স্বামীর অনুমতি নিতে হয়। একই ভাবে কি অন্যান্য নফল ইবাদাত যেমন নফল নামাজ সাদাকাহ ইত্যাদির জন্যেও স্বামীর অনুমতি নেওয়া জরুরি?

1 Answer

0 votes
by (39.8k points)

বিসমিহি তা'আলা

জবাবঃ-
সংবাদ পাঠিকার চাকুরী বৈধ হবে না।তবে যেহেতু উনি কোনো একটা কাজের বিনিময়ে টাকা নিচ্ছেন,তাই উনার উপার্জিত টাকাকে যদিও হারাম বলা যাচ্ছে না,তবে উনার জন্য এমন চাকুরী করা কখনো জায়েয হবে না।

সুতরাং এ চাকুরীর উপার্জিত টাকা থেকে হাদিয়্যা গ্রহণ করা উচিৎ হবে না।এবং এ হাদিয়্যা কখনো উপকারী হবে না।বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- 1338

(২)জ্বী, কা'যা করা জরুরী।তবে যেহেতু উনি ইচ্ছা করে রোযা ভাঙ্গেননি,তাই কাফফারা আসবে না।

(৩)জ্বী, ইশার পর বিতির পড়ে নিলেও পরবর্তীতে তাহাজ্জুদ পড়া যাবে।

(৪)পবিত্রতম স্থানে এবং পবিত্র কাপড় পরিহিত অবস্থায় ওজুর সাথে কুরআন পড়াই সাধারণ নিয়ম।বিনা অজুতে কুরআন স্পর্শ করা জায়েয হবে না।এবং অপ্রবিত্রতম স্থানে অপবিত্র কাপড় নিয়ে কুরআন পড়া কখনো জায়েয হবে না।কুরআনে কারীমের যতটুকু অংশ পবিত্রতার সাথে পড়া হয়েছে,ততটুকু অংশ অবশ্যই আল্লাহর কাছে মকবুল হয়েছে।আর যতটুকু অপবিত্র স্থানে বা অপবিত্র কাপড় নিয়ে পড়া হয়েছে,ততটুকু সম্পর্কে বলা যায় যে,এরকম করাটা উচিৎ হয়নি।আল্লাহ চাইলে কবুল করতে পারেন,আবার না চাইলে কবুল নাও করতে পারেন।

(৫)ঘুম থেকে উঠে মিসওয়াক করা মুস্তাহাব।কেননা ঘুমের সময় মুখের ভিতর জীবানু তৈরী হয়ে যেতে পারে।সেজন্য ইবনুল হুমাম রাহ মিসওয়াক করার কথা বলেছেন।কিন্তু মুখ না ধুয়ে কিছু খাওয়া আবার হারাম না।

(৬)এ সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন- 339

(৭)নফল রোযায় স্বামীর অনুমতি নিতে হয়,কেননা এখানে স্বামীর হক্ব রয়েছে।স্বামী যে কোনো সময় স্ত্রীর কাছে সহবাসের আবেদন করতে পারে।এ হক্বের কারণেই মূলত স্বামীর অনুমতির কথা বলা হয়েছে।যেহেতু নামায এবং স্ত্রীর নিজ মাল থেকে সাদাকাহ স্বামীর হক্বের প্রতিবন্ধক নয়।তাই এগুলো স্বামীর অনুমতি ব্যতীত করা জায়েয হবে।
আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ, Iom.

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

...