0 votes
2 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (11 points)
সালামুন আ'লাইক, সম্প্রতি একটি কাজ করার আগে নিয়ত করেছিলাম যে তা আল্লাহর জন্য করব এবং কোনো বিনিময় নিব না। পরবর্তীতে কাজটি দ্বারা অর্থ উপার্জন হয় যেটি এখনও আমার হস্তগত হয়নি।  মালিকপক্ষের সাথে আমার টাকা-পয়সা বিষয়ে কোনো চুক্তিও ছিল না। এখানে উল্লেখ্য যে এই কাজটি (একটি প্রবন্ধ) প্রথমে আমি যে প্রতিষ্ঠানকে দিই তা ছিল স্বেচ্ছায়, খিদমতের উদ্দেশ্যে, কোনো চুক্তি ছাড়াই। কাজটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে থাকায় সেখান থেকে আয়ের কোনো উপায়ও ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে তারা আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে তা দিয়ে দেয় এবং এখানেই এর অর্থমূল্য যুক্ত হয়। এবার কাজটি বাজারে আসার পর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান এর থেকে অর্জিত লভ্যাংশ আমাকেও দিতে চাইছে। কিন্তু শুরুতেই আমার নিয়ত ছিল আল্লাহকে খুশি করা, আল্লাহর জন্য কৃত কাজ, আল্লাহরই রাস্তায়। তাই মন সায় দিচ্ছে না কিছুতেই। আবার অর্থ পেলে আমার কিছু পারিবারিক প্রয়োজনও মিটত। এখন এই টাকা আমার গ্রহণ করা ঠিক নাকি বেঠিক?

1 Answer

+1 vote
by (169,160 points)
edited by

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ-

অন্যর মাল তার অন্তরের সন্তুষ্টি ব্যতীত কারো জন্য হালাল হয় না।বিদায় এসব পরিত্যাজ্য।

কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍْ ﻻَ ﺗَﺄْﻛُﻠُﻮﺍْ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟَﻜُﻢْ ﺑَﻴْﻨَﻜُﻢْ ﺑِﺎﻟْﺒَﺎﻃِﻞِ ﺇِﻻَّ ﺃَﻥ ﺗَﻜُﻮﻥَ ﺗِﺠَﺎﺭَﺓً ﻋَﻦ ﺗَﺮَﺍﺽٍ ﻣِّﻨﻜُﻢْ ﻭَﻻَ ﺗَﻘْﺘُﻠُﻮﺍْ ﺃَﻧﻔُﺴَﻜُﻢْ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠّﻪَ ﻛَﺎﻥَ ﺑِﻜُﻢْ ﺭَﺣِﻴﻤًﺎ

তরজমাঃ-হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু।(সূরা নিসা(২৯)


এবং হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত,

عن ابن عباس قال;قال رسول اللّٰه صلى اللّٰه عليه و سلم 

  " ﻻ ﻳﺤﻞ ﻣﺎﻝ ﺍﻣﺮﺉ ﻣﺴﻠﻢ ﺇﻻ ﺑﻄﻴﺐ ﻧﻔﺲ ﻣﻨﻪ "

নবী কারীম সাঃ বলেনঃ"কোন মুসলমানের জন্য  অন্য কোনো মুসলমানের মাল তার অন্তরের সন্তুষ্টি ব্যতীত হালাল হবে না।(তালখিসুল হাবীর-১২৪৯)আরো জানুন-https://www.ifatwa.info/3747


আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে,

١٨٧٥ - «عن عائشة أن بعض أزواج النبي - صلى الله عليه وسلم - قلن للنبي - صلى الله عليه وسلم -: أينا أسرع بك لحوقا؟ قال: "أطولكن يدا "، فأخذوا قصبة يذرعونها، وكانت سودة أطولهن يدا، فعلمنا بعد أنما كان طول يدها الصدقة، وكانت أسرعنا لحوقا به زينب، وكانت تحب الصدقة» . رواه البخاري. وفي رواية مسلم، قالت: قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم -: " «أسرعكن لحوقا بيأطولكن يدا ". قالت: وكانت يتطاولن أيتهن أطول يدا؟ قالت: فكانت أطولنا يدا زينب ; لأنها كانت تعمل بيدها وتتصدق» .

ভাবার্থ 

কোন এক সহধর্মিনী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললেনঃআপনার মৃত্যুর পর আমাদের মধ্য হতে সবার পূর্বে কে আপনার সাথে মিলিত হবে? তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যার হাত সবচেয়ে লম্বা। তাঁরা একটি বাঁশের কাঠির মাধ্যমে হাত মেপে দেখতে লাগলেন। সওদার হাত সকলের হাতের চেয়ে লম্বা বলে প্রমাণিত হল। পরে [সবার আগে যায়নাব (রাঃ)-এর মৃত্যু হলে] আমরা বুঝলাম হাতের দীর্ঘতার অর্থ দানশীলতা। তিনি [যায়নাব (রাঃ)] আমাদের মধ্যে সবার আগে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) সাথে মিলিত হন এবং তিনি দান করতে ভালবাসতেন।(সহীহ বোখারী-১৪২০)মিশকাত-১৮৭৫


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন! 

আপনার নিয়ত ছিল আল্লাহকে রাজি এবং খুশি করা। এর সওয়াব আপনি পেয়ে যাবেন। ইনশা আল্লাহ। এখন যদি তারা স্বেচ্ছায় আপনাকে কিছু দিতে চায়, তাহলে আপনার সেওয়াবে কোনো কমতি হবে না। বরং আপনি সওয়াব পেয়ে যাবেন। এবং আপনার জন্য ঐ টাকা হালাল হবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (169,160 points)
সংযোজন ও সংশোধন করা হয়েছে। 

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...