0 votes
28 views
in পবিত্রতা (Purity) by (1 point)
আমাদের মধ্যে কোনোরকম যৌন আলাপ হয়না। চলমান রমজান মাসে এমন পরিস্থিতিতে আমি প্রচন্ড হতাশ হয়ে পড়েছি। আমি নিয়মিত সালাত আদায় করছি। এবং এই মেয়েকে বিয়ে করারা ব্যাপারে আমি মোটামোটি নিশ্চিত। তাই দীর্ঘদিন কথা চালিয়ে যাচ্ছি।

1 Answer

0 votes
by (170,760 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
বিবাহ বহির্ভূত নারী-পুরুষের দেখা সাক্ষাৎ কথা বার্তা ও আমোদ পুর্তি সবকিছুই হারাম ও নাজায়েয। বিয়ের পূর্বে পুরুষ প্রস্তাবকৃত মহিলার সাথে প্রয়োজনীয় কিছূ কথাবার্তা বলতে পারবে। 
যদি কেউ কোনো মহিলাকে বিয়ে করার পূর্ণ ইচ্ছা করে নেয়,তাহলে ঐ মহিলাকে দেখতে পারবে এবং কথাও বলতে পারবে।

হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি থেকে বর্ণিত,
(إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمْ الْمَرْأَةَ ، فَإِنْ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى مَا يَدْعُوهُ إِلَى نِكَاحِهَا ، فَلْيَفْعَلْ)
যদি কেউ কোনো মহিলাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে চায়,তাহলে সে যেন যযথাসম্ভব ঐ মহিলাকে দেখে নেয়।(সুনানু আবি দাউদ-২০৮২)

হযরত আবু হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত,
عن أبي هريرة، قال: كنت عند النبي صلى الله عليه وسلم، فأتاه رجل فأخبره أنه تزوج امرأة من الأنصار، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أنظرت إليها؟»، قال: لا، قال: «فاذهب فانظر إليها، فإن في أعين الأنصارشيئا»
তিনি বলেন,আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ এর পাশে বসা ছিলাম।একব্যক্তি এসে বলল, আমি আনসারি এক মহিলাকে বিয়ে করতে চাই।রাসূলুল্লাহ বললেন,তুমি কি পাত্রী দেখেছো?তিনি বললেন,না।রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন,যাও গিয়ে পাত্রী দেখে আসো।কেননা আনসারীদের চোখে নীল বা এ জাতীয় কিছু থাকে।
(সহীহ মুসলিম-১৪২৪)

" يَجُوزُ تَكْرَارُ النَّظَرِ إِنِ احْتَاجَ إِلَيْهِ لِيَتَبَيَّنَ هيئتها ، فَلاَ يَنْدَمُ بَعْدَ النِّكَاحِ ، إِذْ لاَ يَحْصُل الْغَرَضُ غَالِبًا بِأَوَّل نَظْرَةٍ ".
বারংবার দৃষ্টি দেয়া জায়েয।যাতেকরে পাত্রীর পূর্ণ অবয়ব পরিস্কার ভাবে ফুটে উঠে।এবং যাতেকরে বিয়ে পরবর্তী লজ্জিত হতে না হয়।কেননা একবারের দৃষ্টি অধিকাংশ সময়ে যথেষ্ট নাও হতে পারে।(আল-মাওসুআতুল ফেকহিয়্যাহ-২২/১৭)

পাত্র-পাত্রীর পরস্পর দেখা সাক্ষাৎ ও আলাপ চারিতার কয়েকটি মূলনীতি-
(১)খালওয়াত হতে পারবে না।
(২)মুবাহ বিষয় ব্যতীত অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাবে না।
(৩)ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকতে হবে।যদি কামভাব জাগ্রত হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে যায়,অথবা কোনো একজন উপভোগ করতে শুরু করে নেয়,তাহলে তখন সেটা হারাম হয়ে যাবে।
(৪)মহিলা নরম ভাষায় কথা বলতে পারবে না।
(৫)মহিলা পূর্ণ হেজাব তথা কবজা পর্যন্ত হাত,টাখনু পর্যন্ত পা,এবং মুখ ব্যতীত সমস্ত শরীর ঢেকে রাখবে।
(৬)প্রয়োজন অতিরিক্ত কথাবর্থা বলা যাবে না।
যখন এই সব শর্ত পাওয়া যাবে, তখনই মূলত পাত্র-পাত্রী পরস্পর আলোচনা ও দেখা সাক্ষাৎ করতে পারবে।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- 2898

প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
যদিও কোনো মেয়েক বিয়ে করার পূর্ণ ইচ্ছা করে নেয়া হোক না কেন ।  ওই মেয়ের সাথে বিয়ের আগ পর্যন্ত একসাথে মেলামেশা করা, অর্থাৎ কথা বলা , ঘুরতে যাওয়া কোনো কিছুই জায়েয হবে না। শুধুমাত্র উপরোক্ত শর্তাদির আলোকে বিয়ের প্রস্তাবকৃত নারীর সাথে এক আধবার সাময়িক দেখা করা যাবে। ধারাবহিক দেখা সাক্ষাৎ করা কখনো জায়েয হবে না। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/11615 মযি,বীর্য,ওদী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/1689

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন! 
এটা মযি । এজন্য আপনার রোযা যদিও ফাসিদ হবে না। তথাপি এরকম হারাম ভাবে কথা বলা কখনো জায়েয হবে না। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...