0 votes
7 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (16 points)
১.কিসমিস ভিজিয়ে সেই পানি খাওয়া জায়েজ হবে?সম্ভবত কিসমিস বা আঙুর দ্বারা মদ তৈরি করা হয়,তাই তা খাওয়া জায়েজ হবে কি?

২.নামাজের মধ্যে ঢেকুরের সাথে হালকা পানি ও ভাতের দানার মতো গলা পর্যন্ত আসলে এমনকি মুখ পর্যন্তও আসেনি   তবে কি নামাজ ভেঙে যাবে?যদি ভেঙে যায় তবে ঐ দিনে ঐ নামাজ আদায় করে থাকলে পরে আবার কাযা আদায় করতে হবে?

1 Answer

0 votes
by (170,760 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
https://www.ifatwa.info/165 নং ফাতাওয়ায় আমরা বলেছি যে,
প্রথমেই ফাতাওয়ায়ে শামীর ইবারত আমরা লক্ষ্য করি..........তথায় লিখিত রয়েছে...
ﻭﺍﻟﻤﺤﺮﻡ ﻣﻨﻬﺎ ﺃﺭﺑﻌﺔ ) ﺃﻧﻮﺍﻉ
ﺍﻷﻭﻝ ( ﺍﻟﺨﻤﺮ ﻭﻫﻲ ﺍﻟﻨﻲﺀ ﻣﻦ ﻣﺎﺀ ﺍﻟﻌﻨﺐ ﺇﺫﺍ ﻏﻠﻰ ﻭﺍﺷﺘﺪ ﻭﻗﺬﻑ ﺑﺎﻟﺰﺑﺪ ﻭﺣﺮﻡ ﻗﻠﻴﻠﻬﺎ ﻭﻛﺜﻴﺮﻫﺎ ) ﺑﺎﻹﺟﻤﺎﻉ
( ﻭ ) ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ ( ﺍﻟﻄﻼﺀ ﻭﻫﻮ ﺍﻟﻌﺼﻴﺮ ﻳﻄﺒﺦ ﺣﺘﻰ ﻳﺬﻫﺐ ﺃﻗﻞ ﻣﻦ ﺛﻠﺜﻴﻪ ﻭﻗﻴﻞ ﻣﺎ ﻃﺒﺦ ﻣﻦ ﻣﺎﺀ ﺍﻟﻌﻨﺐ ﺣﺘﻰ ﺫﻫﺐ ﺛﻠﺜﺎﻩ ﻭﺑﻘﻲ ﺛﻠﺜﻪ ) ﻭﺻﺎﺭ ﻣﺴﻜﺮﺍ ( ﻭﻫﻮ ﺍﻟﺼﻮﺍﺏ ﻭﻧﺠﺎﺳﺘﻪ ﻛﺎﻟﺨﻤﺮ ) ﺑﻪ ﻳﻔﺘﻲ
( ﻭ ) ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ( ﺍﻟﺴﻜﺮﻭﻫﻮ ﺍﻟﻨﻲﺀ ﻣﺎﺀ ﺍﻟﺮﻃﺐ )
( ﻭ ) ﺍﻟﺮﺍﺑﻊ ( ﻧﻘﻴﻊ ﺍﻟﺰﺑﻴﺐ ﻭﻫﻮ ﺍﻟﻨﻲﺀ ﻣﻦ ﻣﺎﺀ ﺍﻟﺰﺑﻴﺐ ) ﺑﺸﺮﻁ ﺃﻥ ﻳﻘﺬﻑ ﺑﺎﻟﺰﺑﺪ ﺑﻌﺪ ﺍﻟﻐﻠﻴﺎﻥ

( ﻭﺍﻟﻜﻞ ) ﺃﻱ ﺍﻟﺜﻼﺛﺔ ﺍﻟﻤﺬﻛﻮﺭﺓ ( ﺣﺮﺍﻡ ﺇﺫﺍ ﻏﻠﻲ ﻭﺍﺷﺘﺪ ) ﻭﺇﻻ ﻟﻢ ﻳﺤﺮﻡ ﺍﺗﻔﺎﻗﺎ ﻭﺇﻥ ﻗﺬﻑ ﺣﺮﻡ ﺍﺗﻔﺎﻗﺎ ﻭﻇﺎﻫﺮ ﻛﻼﻣﻪ ﻓﺒﻘﻴﺔ ﺍﻟﻤﺘﻮﻥ ﺃﻧﻪ ﺍﺧﺘﺎﺭ ﻫﺎ ﻫﻨﺎ ﻗﻮﻟﻬﻤﺎ
( ﺗﻨﻮﻳﺮ ﺍﻷﺑﺼﺎﺭ ﻣﻊ ﺍﻟﺪﺭ ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ - ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻷﺷﺮﺑﺔ - 2/259

পানীয় র মধ্য থেকে চার প্রকারের পানীয় হারাম।
যথা-
(১)মদ (الخمر)
আঙ্গুরের কাঁচা রস উথলানোর পর যখন তা গাড়/শক্ত হয়ে উঠে (এমন পর্যায়ে পৌছে যাতে নেশা চলে আসে)।এবং যখন তাতে ফেনা সৃষ্টি হয়।একেই খামর বলে। যার কমবেশি সর্বসম্মতিক্রমে হারাম।
(২)তি'লা (ﺍﻟﻄﻼﺀ)
আঙ্গুরের কাঁচা রস পাকানোর পর যদি দুই তৃতীয়াংশের কম বা দুই তৃতীয়াংশ শুকিয়ে যায়।
এটাও নেশাপ্রবণ। তাই মদের মত এটাও হারাম।এবং এর উপরই ফাতাওয়া।
(৩)নাকীউত তামার (نقيع التمر)
পাকা শুকনা খেজুরের শরাব যা পানিতে ভিজিয়ে করা হয়।
(৪)নাকীউয যাবীব(نقيع الزبيب)
শুকনা কিসমিস কয়েকদিন পর্যন্ত পানিতে ভিজিয়ে রাখার পর যখন তাতে ভাপ সৃষ্টি হয়,তখন একে নাকীউয যাবীব বলা হয়।

প্রথম প্রকার বিধান তো পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে।তথা হারাম।এখন বাকী তিন প্রকারেরর হুকুম হল,যদি তা উথলানোর পর যখন তা গাড় বা শক্ত হয়ে উঠে,তাহলে এগুলাও হারাম।নতুবা হারাম হবে না।
আর যদি তাতে ফেনা চলে আসে তবে তা ঐক্যমতে হারাম হবে।উক্ত বিষয়ে সাহাবাইন রাহ এর মতামতের উপর-ই ফাতাওয়া।(তথা ফেনা উঠা শর্ত নয়)(ফাতাওয়ায়ে শা'মী;২/২৫৯)

হেদায়া গ্রন্থের সর্বজনখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল কাদীরে বর্ণিত রয়েছে......
যে সমস্ত এলকোহল খেজুর বা আঙ্গুর দ্বারা বানানো হয়নি, তেমন বস্তু নেশা না আসা পর্যন্তের জন্য ব্যবহার জায়েজ ইমাম আবু হানীফা রহঃ এবং ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ এর মতানুসারে। 
{ফাতহুল কাদীর-৮/১৬০)আরো বর্ণিত রয়েছে- (ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-৫/৪১২, আল বাহরুর রায়েক-৮/২১৭-২১৮, ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-২৭/২১৯} (শেষ)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন! 
কিসমিস ভিজিয়ে সেই পানি খাওয়া জায়েজ হবে , তবে যদি তাতে নেশা চলে আসে , তাহলে আর জায়েয থাকবে না। 

(২)
আপনি বলেছেন,
”নামাজের মধ্যে ঢেকুরের সাথে হালকা পানি ও ভাতের দানার মতো গলা পর্যন্ত আসলে এমনকি মুখ পর্যন্তও আসেনি ” 
এমতাবস্থায় আপনার নামায ফাসিদ হবে না। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...