0 votes
84 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (34 points)
edited by

(১)ঘরের মেঝের টাইলস্ কে কী যমীন বলা যাবে?এই টাইলস্ এ যদি না পাক মিশ্রিত পানি পড়ে শুকিয়ে যায় তাহলে টাইলস্ পবিত্র হয়ে যাবে কী? পবিত্র যদি না হয় তাহলে করণীয় কী?         (২)আমি যদি পায়খানা করার পর পায়ুপথ হাত দিয়ে ধুয়ে না পাক হাত দিয়ে গোসলখানার দরজা ধরি এবং পরবর্তীতে দরজার ঐ জায়গায় যদি আমার শরীরের পবিত্র কাপড় লেগে যায় এবং ঐ কাপড় পরেই যদি বিছানায় শুই তাহলে বিছানা না পাক হয়ে যাবে কী?পায়খানার গন্ধ বা পায়খানা দরজায় ছিল কিনা সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত না।আমার মনে হচ্ছে বিছানা নাপাক হয়ে গেছে।(৩)জামায়াতে বিতর সালাত আদায়কালীন শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে জিহ্বা উপরে উঠে গেলে এবং এর ফলে মাখরাজ পরিবর্তন হয়েছে কী না তা একেবারে সঠিকভাবে জানা না থাকলে সালাত হবে কী?যদি ভুলবশত মাখরাজ পরিবর্তন হলেও হরফ উচ্চারিত হয় তাহলে সালাত হবে কী?

1 Answer

0 votes
by (203,080 points)
edited by

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ-

(১) ঘরের মেঝের টাইলসে যদি নাপাকি পড়ে তা শুকিয়ে যায়, তাহলে টাইলস পবিত্র হয়ে যাবে। কিন্তু আবার ভিজে গেলে তা অপবিত্র হয়ে যাবে। 

(২) যতক্ষণ পর্যন্ত নাপাকির আছর দৃশ্যমান হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত উক্ত বিছানা বা দরজা কোনোটিই নাপাক হবে না। 

(৩)প্রকাশ থাকে যে,

ক্বেরাত বিশেষজ্ঞ উলামায়ে কেরাম বলেন,তাজবিদ শিক্ষা করা প্রত্যেকে মুসলমানের উপর ফরযে (আইন)।

ক্বেরাত বিশেষজ্ঞ মুহাস্মদ ইবনে জাযরি রাহ বলেন,

ﻭﺍﻷﺧﺬ ﺑﺎﻟﺘﺠﻮﻳﺪ ﺣﺘﻢ ﻻﺯﻡ ﻣﻦ ﻟﻢ ﻳﺠﻮﺩ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺁﺛﻢ .

তাজবিদ সহকারে কোরআন শিক্ষা করা অতি অত্যাবশ্যকীয়।তাজবিদ সহকারে যে কুরআন পড়বে না সে গোনাহগার হবে। 

কিন্তু উনার ছেলে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ জাযরি এই কবিতার ব্যখ্যায় লিখেন,যাদের জন্য পূর্ণ তাজবিদ সহকারে কুরআন তেলাওয়াত সম্ভব। শুধুমাত্র তাদের জন্যই পূর্ণ তাজবিদ সহকারে কুরআন তেলাওয়াত করা ওয়াজিব।

আর যাদের বেলায় সম্ভব নয়, তাদের জন্য পূর্ণ তাজবিদ সহকারে কুরআন তেলাওয়াত করা ওয়াজিব নয়।বরং অর্থে পরিবর্তন আসেনা এমনকরে কুরআন পড়াই তাদের জন্য যথেষ্ট হবে।

এমনকি তারা পূর্ণ তাজবিদ সহকারে না পড়লেও তাদের কোনোপ্রকার গোনাহগার হবেন না।(শরহু তাইয়্যিবাতুন-নাশর-৬৩)


কেননা হাদীস শরীফে এসেছে,

হযরত আয়েশা রাযি থেকে বর্ণিত,

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: " «الْمَاهِرُ بِالْقُرْآنِ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ، وَالَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيَتَتَعْتَعُ فِيهِ وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌّ لَهُ أَجْرَانِ» " مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন, কুরআন সম্পর্কে বিজ্ঞজনদের হাশর হবে, আ'মলনামা লিখক পবিত্রতম ফিরিস্তাদের সাথে। আর যে ব্যক্তি কোরআন পড়তে আটকে যায় এবং এমন অবস্থায় সে কুরআনকে পড় যে, কুরআনের উচ্ছারণ তার জন্য কষ্টকর লাগে।সে ব্যক্তি দু'টি সওয়াব পাবে।(প্রথম সওয়াব পাবে পড়ার জন্য এবং দ্বিতীয় সওয়াব পাবে কষ্ট করে পড়ার জন্য)

(মিশকাতুল মাসাবিহ-২১১২) দেখুন-(মাওসুাতুল ফেকহিয়্যাহ-১০/১৭৮)বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/1126


সু-প্রিয় পাঠকবর্গ!

মাখরাজ পরিবর্তন হওয়ার এবং অর্থ বিগড়ে যাওয়া সম্পর্কে ইয়াকিন বিশ্বাস না জন্মিলে এদ্বারা আপনার নামাযে কোনো সমস্যা হবে না। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (203,080 points)
সংযোজন ও সংশোধন করা হয়েছে।

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...