0 votes
17 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (2 points)
মূসা (আঃ) কিবতী সম্প্রদায়ের একজন লোক কে ঘুসি মেরেছিলেন। এতে লোকটি মারা যায় ।এটা কি হত্যার মধ্যে পড়ে ?

1 Answer

0 votes
by (39.8k points)
বিসমিহি তা'আলা

জবাব
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَدَخَلَ الْمَدِينَةَ عَلَى حِينِ غَفْلَةٍ مِّنْ أَهْلِهَا فَوَجَدَ فِيهَا رَجُلَيْنِ يَقْتَتِلَانِ هَذَا مِن شِيعَتِهِ وَهَذَا مِنْ عَدُوِّهِ فَاسْتَغَاثَهُ الَّذِي مِن شِيعَتِهِ عَلَى الَّذِي مِنْ عَدُوِّهِ فَوَكَزَهُ مُوسَى فَقَضَى عَلَيْهِ قَالَ هَذَا مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ عَدُوٌّ مُّضِلٌّ مُّبِينٌ
তিনি শহরে প্রবেশ করলেন, যখন তার অধিবাসীরা ছিল বেখবর। তথায় তিনি দুই ব্যক্তিকে লড়াইরত দেখলেন। এদের একজন ছিল তাঁর নিজ দলের এবং অন্য জন তাঁর শত্রু দলের। অতঃপর যে তাঁর নিজ দলের সে তাঁর শত্রু দলের লোকটির বিরুদ্ধে তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করল। তখন মূসা তাকে ঘুষি মারলেন এবং এতেই তার মৃত্যু হয়ে গেল। মূসা বললেন, এটা শয়তানের কাজ। নিশ্চয় সে প্রকাশ্য শত্রু, বিভ্রান্তকারী।(সূরা ক্বাসাস-১৫)

মুসা আঃ ইচ্ছাকৃত উক্ত কিবতিকে হত্যা করেননি।মাজুলকে সাহায্য করার জন্যই মূলত তিনি তাকে ঘুষি মেরে সরিয়ে দিতে চাইছিলেন।কেননা তখন কিবতিরা বনি ইসরাঈলের উপর জুলুম-নির্যাতনের ষ্টীম রোলার চালাতো।

ইমাম কুরতুবী রাহ উক্ত আয়াতের ব্যখ্যায় বলেন,
قال القرطبي : " وَإِنَّمَا أَغَاثَهُ لِأَنَّ نَصْرَ الْمَظْلُومِ دِينٌ فِي الْمِلَلِ كُلِّهَا عَلَى الْأُمَمِ، وَفَرْضٌ فِي جَمِيعِ الشَّرَائِعِ. قَالَ قَتَادَةُ: أَرَادَ الْقِبْطِيُّ أَنْ يُسَخِّرَ الْإِسْرَائِيلِيَّ لِيَحْمِلَ حَطَبًا لِمَطْبَخِ فِرْعَوْنَ فَأَبَى عَلَيْهِ، فَاسْتَغَاثَ بِمُوسَى "
মুসা আঃ বনি ইসরাঈলের ঐ লোককে সাহায্য করেছিলেন,কেননা মাজলুমকে সাহায্য করা প্রত্যেক ধর্মে ফরয করা হয়েছে।কাতাদাহ রাহ বলেন,কিবতি লোকটি চেয়েছিলো,বনি-ইসরাঈলের ঐ লোক যেন ফেরআউনে রান্নাঘরের লকড়িকে বহন করে নিয়ে যায়।বনি-ইসরাঈলের ঐ লোক অস্বীকার করার ধরুণ নির্যাতিত হয়।এবং তখনই সে মুসা আঃ কে সাহায্যর আবেদন করে।

মূসা আঃ কিবতিকে জুলুম-নির্যাতন থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে তাকে ঘুষি মেরে সরিয়ে দিতে চাইছিলেন।কিন্তু ঘটনাক্রমে উক্ত ঘুষি দ্বারা ঘটনাস্থলেই কিবতি লোকটি মারা যায়।এদ্বারা মূসা হত্যাকারী সাব্যস্ত হচ্ছেন না। এবং উনার কোনো প্রকার গোনাহ ও হবে না।যেজন্য উনি সাথে সাথেই উক্ত কাজকে শয়তানের দিকে মনসুব করেন।কিন্তু যেহেতু বাহ্যিক দৃষ্টিতে উক্ত কাজ হত্যার মতই,সেজন্য মূসা আঃ নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে বলছেন,

قَالَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَغَفَرَ لَهُ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
মূসা বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের উপর জুলুম করে ফেলেছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।(সূরা ক্বাসাস-১৬)

ইমাম কুরতুবী রাহ উক্ত আয়াতের ব্যখ্যায় লিখেন,
وقال القرطبي أيضا في تفسير قوله تعالى )قالَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَغَفَرَ لَهُ) :" نَدِمَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ عَلَى ذَلِكَ الْوَكْزِ الَّذِي كَانَ فِيهِ ذَهَابُ النَّفْسِ، فَحَمَلَهُ نَدَمُهُ عَلَى الْخُضُوعِ لِرَبِّهِ وَالِاسْتِغْفَارِ مِنْ ذَنْبِهِ ...
মূসা আঃ লজ্জিত হয়ে উনার সেই লজ্জাকে আল্লাহর সামনে তুলে ধরলেন,এবং ঐ কাজকে গোনাহ মনে করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেন।আল্লাহ তা'আলা যেহেতু মূসা আঃ এর উদ্দেশ্য জানতেন, তাই আল্লাহ তা'আলা সাথে সাথেই উনাকে ক্ষমার ঘোষনা দিয়ে বুঝাতে চেয়েছেন,হে মূসা এটা তুমি ইচ্ছাকৃত করনি।সুতরাং এ বিষয়ে তুমি (ইচ্ছাকৃত)হত্যাকারী সাব্যস্ত হচ্ছো না।

وَكَانَ قَتْلُهُ مَعَ ذَلِكَ خَطَأً فَإِنَّ الْوَكْزَةَ وَاللَّكْزَةَ فِي الْغَالِبِ لَا تَقْتُلُ.وَرَوَى مُسْلِمٌ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ: يَا أَهْلَ الْعِرَاقِ مَا أَسْأَلَكُمْ عَنِ الصَّغِيرَةِ، وَأَرْكَبَكُمْ لِلْكَبِيرَةِ! سَمِعْتُ أَبِي عَبْدَ اللَّهِ بن عمر يقول سمعت رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول:" إن الفتنة تجئ من ها هنا- وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ نَحْوَ الْمَشْرِقِ- مِنْ حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنَا الشَّيْطَانِ وَأَنْتُمْ بَعْضُكُمْ يَضْرِبُ رِقَابَ بَعْضٍ وَإِنَّمَا قَتَلَ مُوسَى الَّذِي قَتَلَ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ خَطَأً فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: ( وَقَتَلْتَ نَفْساً فَنَجَّيْناكَ مِنَ الْغَمِّ وَفَتَنَّاكَ فُتُوناً) " انتهى مختصرا من "تفسير القرطبي" (13/261) .
মূসা আঃ কর্তৃক উক্ত হত্যাকান্ড ছিলো কতলে খা'তা।কেননা ঘুষি-লাতি কখনো মানুষকে মৃত্যুর দিকে, ঢেলে দেয় না।সহীহ মুসলিম শরীফের(হাদীস নং ২৯০৫) বর্ণনায় এসেছে,

‘হে ইরাকের অধিবাসী! ছোট ছোট বিষয়ে জানতে চাও অথচ বড় বড় পাপ করে থাকো। আমি আমার পিতা আব্দুল্লাহ বিন ওমর হতে শ্রবণ করেছি যে, তিনি বলতেন, নিশ্চয়ই ফেতনা এখান হতে আসবে। আর তিনি স্বীয় হাত দ্বারা পূর্ব দিকে ইশারা করলেন যে, এখান থেকে শয়তানের শিং বের হবে’ তোমরা পরস্পর পরস্পরকে হত্যা করবে।মূসাঃ ফেরআউনে দলের এক ব্যক্তিকে যে হত্যা করেছিলেন,সেটা মূলত ক্বতলে খা'তা ছিলো।আল্লাহ তা'আলা বলেন,

তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে, অতঃপর আমি তোমাকে এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেই; আমি তোমাকে অনেক পরীক্ষা করেছি।(সূরা তাহা-৪০)

(তাফসীরে কুরতুবী-১৩/২৬)

وقال القسطلاني :" ولا يقدح في عصمته ؛ لكونه خطأ ، وعدّه من عمل الشيطان في الآية ، وسماه ظلمًا ، واستغفر منه ؛ على عادتهم في استعظام محقرات فرطت منهم "

এই হত্যাকান্ড দ্বারা মূসা আঃ এর নিষ্পাপ হওয়ার উপর কোনো প্রকার অভিযোগ আসবে না।কেননা এটা অনিচ্ছায় ভূলক্রমে হয়েছে।এজন্যই মূসা আঃ এই কাজকে গোনাহ সাব্যস্ত করেছেন।এবং জুলুম সাব্যস্ত করেছেন।এবং সাথে সাথে এত্থেকে ক্ষমা চেয়েছেন।তাদের অাদত অনুযায়ী যখন কোনো তুচ্ছ সীমালঙ্ঘনকে তারা বড় মনে করতেন,তখন সাথে সাথেই ক্ষমা চেয়ে নিতেন।(ইরশাদুস-সারি-৭/২০৬)আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, Iom.

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

...