আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
16 views
in কুরবানী (Slaughtering) by (10 points)
আসসালামু আলাইকুম ওস্তাদ।

 .

আমার হাজব্যান্ড এবং ভাসুরেরা পাঁচ ভাই, আমার হাজব্যান্ড সহ ৩ ভাসুর আল্লাহর দয়ায় প্রতি বছর কুরবানী আদায় করেন।

আমার শ্বশুরের মোট ৯-১০ বিঘার মতো জমি। আমরা কেউ ভাগ করে নিইনি ছোট ভাসুরই চাষাবাদ করেন এবং বাড়িতে থাকেন । আর উনার একটা ছোট ওষুধের দোকান আছে।
আমার ছোট ভাসুর কুরবানী আদায় করেন না। দুই ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী নিয়ে উনার সংসার।

.
এই বছর আমরা বাড়িতে গিয়ে ছাগল কোরবানি দেওয়ার নিয়ত করেছি। যেহেতু অংশীদার নিলে তাদের ইনকাম এবং মনের অবস্থা সম্পর্কে আমরা জানিনা সেজন্য।

.

আমার ছোট ভাসুর যিনি বাড়িতে থাকেন তিনি বলতেছিলেন যে আমরা কোরবানির জন্য গরু দিলে ভালো হয় ছাগলের মাংস স্বাদ লাগে না। আমার হাজব্যান্ড ছাগলই কুরবানী দিবেন বলেছেন।

.
তো এখন আমার ছোট ভাসুর আমাদের কাছে ২০০০ করে টাকা চেয়েছেন। আমার হাজবেন্ড এবং বাকি তিন ভাসুরের কাছে, উনি সমাজের অন্য ৬ জনের সাথে গরু কোরবানি দিবেন ( ভাগে )।

.
ওনার কথাবার্তাতে মনে হচ্ছে না, এইটা অন্তর থেকে কোরবানির নিয়ত। মাংসের পরিমান বা স্বাদটা মুখ্য, তাছাড়া অন্যদের গরু আমাদের ছাগল।

.
কারণ উনি আমাদের কাছে কোরবানির এই টাকাটা ধার হিসেবে চান নাই । চার ভাই দুই হাজার করে দিলে ৮ হাজার টাকা হবে, উনি বাকি টাকা যোগ করে গরু কোরবানিতে অংশীদার হবেন।

.

তো এখন আমার প্রশ্ন হলো -
1) এভাবে কুরবানী দিলে কি উনার কুরবানী হবে?

2) যাদের সাথে কোরবানির অংশীদার হইতেছেন তাদের কি কুরবানী হবে?

3) যেহেতু বাড়ি যাব আল্লাহ পাক নিলে। উনি এইভাবে কোরবানি দিলে সেই মাংস কি খাওয়া যাবে?

4) আমাদের কি টাকা টা দেওয়া উচিত হবে?
.

[নোট : আমার হাসব্যান্ড আমাকে জিজ্ঞেস করলে, বলেছি - বুঝিয়ে বল (জানি লাভ হবে না।)। মাংস কিনার জন্য সমপরিমাণ টাকা দাও। উনার কুরবানী ওয়াজিব না, উনার সাথে সাথে বাকিদেরও কুরবানী নষ্ট হবে। এইটা সাপোর্টও করা যাবে না। ]
.

আমার ভুল হলে দয়া করে ধরিয়ে দিবেন। সঠিক পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করুন।

1 Answer

0 votes
by (769,290 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/48120/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
আল্লাহ তা’আলা বলেন, 

لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِن يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنكُمْ كَذَلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ

এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া। এমনিভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের বশ করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা কর এ কারণে যে, তিনি তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন। সুতরাং সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। (সূরা হাজ্ব-৩৭)

শরীয়তের বিধান হলো যদি কেউ আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কুরবানী না করে শুধু গোশত খাওয়ার নিয়তে কুরবানী করে তাহলে তার কুরবানী সহীহ হবে না। তাকে অংশীদার বানালে শরীকদের কারো কুরবানী হবে না। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শরীক নির্বাচন করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৮, কাযীখান ৩/৩৪৯)

فتاوی شامی (6/ 326)
'' قد علم أن الشرط قصد القربة من الكل''۔
সারমর্মঃ
জানা গেলো যে সকলের হতে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নিয়ত করা শর্ত।

الفتاوى الهندية (5/ 304)
'' وإن كان كل واحد منهم صبياً أو كان شريك السبع من يريد اللحم أو كان نصرانياً ونحو ذلك لا يجوز للآخرين أيضاً، كذا في السراجية

তরজমাঃযদি সাত শরীকের সাতজনই শিশু হয়,বা একজন গোস্তের নিয়তে শরীক হয় বা একজন খৃষ্টান হয়, তাহলে অন্যান্য শরীক(যাদের নিয়্যাত কুরবানি করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন )তাদের কারো কুরবানি সহীহ হবে না, বরং সবার কুরবানি নষ্ট হয়ে যাবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া;৫/৩০৪) 

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/18148

(إن کان شریک الستة نصرانیا أو مریدا اللحم لم یجز عن واحد منہم لأن الإراقة لاتتجزأ ۔ (الدرالمختار، کتاب الأضحیة: ۹/۴۷۲، ط: زکریا) ۔
সারমর্মঃ
যদি ছয় শরীকের মধ্যে কেহ নাসারা হয়,বা গোশত খাওয়ার নিয়ত করে,তাহলে কাহারো থেকেই কুরবানী জায়েজ হবেনা। 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
আপনারা যদি সে টাকা উনাকে দিয়ে তাকে সে টাকার মালিক বানিয়ে দেন, তাহলে তার কুরবানী হবে।

তবে গোশত খাওয়ার নিয়ত করলে তার কুরবানির আদায় হবেনা।

(০২)
যদি শরীকদের মধ্যে সকলেই মুসলমান হয়,এবং কাহারো থেকে এটি প্রকাশ্যভাবে বলা হয়নি যে সে গোশত খাওয়ার নিয়তে অংশ নিচ্ছে,তাহলে মুসলমানের মুআমেলাহ সঠিকতার উপর ধরা হবে,এবং ভালো ধারণা এটি রাখা হবে যে যে কুরবানীর দিন গুলোতে মুসলমান কুরবানীরই নিয়তে পশু জবাই করে,বা শরীক হয়।

এ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ- 

(০৩)
হ্যাঁ,  খাওয়া যাবে।

(০৪)
এটি আপনার স্বামীর ব্যক্তিগত ব্যাপার তিনি চাইলে দিতে পারেন, নাও দিতে পারেন। তার উপর এই টাকা দেয়া আবশ্যক নয়।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...