আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
29 views
in হজ ও উমরা (Hajj and Umrah) by (8 points)

আসসালামু আলাউকুম। জনৈক ব্যক্তি হজ্জ আদায় করেন। হজের মূল কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরে শুধু বিদায়ী তাওয়াফ বাকি ছিল এমন অবস্থায় মক্কা থেকে দলের সাথে তায়েফ শহরে জিয়ারা করতে যান। তায়েফে যেতে হারামের সীমানা অতিক্রম করতে হয় বিধায় পুনরায় মক্কায় ফেরার পথে তায়েফ অঞ্চলের জন্য নির্দিষ্ট মিকাত অতিক্রমকালে ইহরাম বেঁধে নেয়া ও মক্কায় ফিরে উমরাহ করা জরুরি ছিল। কিন্তু মাসয়ালা ভুলে যাওয়ায় তিনি এই ইহরাম করেননি, দলের বাকিরাও ওই মুহূর্তে বুঝিয়ে বলতে পারেনি। রাতে বিষয়টি জানতে পেরে পরদিন সকালে তিনি হযরত আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা) মসজিদে যান এবং সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে নিয়ে মক্কায় এসে উমরাহ সম্পন্ন করেন। কিন্তু তার পরে আবার নতুন একটি সন্দেহ দেখা দেয়, সেটা হচ্ছে এই যে: ওনার কি তায়েফের জন্য নির্দিষ্ট মিকাতে ফিরে গিয়েই ইহরাম বাঁধা জরুরি ছিল কিনা। অর্থাৎ হযরত আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা) মসজিদ থেকে তিনি যে ইহরাম করে উমরাহ আদায় করলেন তাতে  আগের দিনের তায়েফ থেকে ফেরার পথে ছুটে যাওয়া ইহরামের প্রয়োজনীয়তা পূরণ হয়েছে কিনা সেটা নিয়ে ওনার মনে সন্দেহ দেখা দেয়। আবার একা একা তায়েফে যেতে তিনি সাহস পাচ্ছিলেন না। তখন তিনি পশু ফিদিয়া/ দমের নিয়তে একটি ভেড়া জবাইয়ের জন্য সৌদির adahi.org ওয়েবসাইটে টাকা জমা দেন এবং পরবর্তীতে দমটি সম্পন্ন হয়। 

 

প্রশ্ন হচ্ছে যে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় কি ওনার তায়েফের ইহরামের প্রয়োজনীয়তা আদায় হয়েছিল? যদি না হয়ে থাকে তাহলে এখন কি করণীয়?

1 Answer

0 votes
by (769,290 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ النَّاسُ يَنْصَرِفُونَ فِي كُلِّ وَجْهٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَنْفِرَنَّ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِ بِالْبَيْتِ إِلَّا أَنَّهُ خُفِّفَ عَنِ الْحَائِضِ»

’আব্দুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (হজ্জ/হজ সম্পন্ন করে শেষ তাওয়াফ না করেই) লোকজন চারদিক হতে দেশের দিকে ফিরতে শুরু করতো। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের কেউ যেন বায়তুল্লাহর সাথে (শেষ) সাক্ষাৎ না করে বাড়ীর দিকে রওয়ানা না হয়। তবে ঋতুমতী মহিলাদের (প্রতি শিথিলতা স্বরূপ) এর থেকে বিরত থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছে। 

সহীহ : বুখারী ১৭৫৫, মুসলিম ১৩২৭, ইবনু মাজাহ ৩০৭০, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১৩৫৯৭, আহমাদ ১৯৩৬, দারিমী ১৯৭৪, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ৩০০০, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১০৯৮৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৯৭৪৪।

যে সকল মানুষ মীকাতের বাইরে বসবাস করেন, তাদের জন্য হজের পর মিনা থেকে ফিরে মীকাত ত্যাগ করার আগে বিদায়ী তাওয়াফ করা ওয়াজিব। তবে, তাওয়াফে যিয়ারাতের পর করা যেকোনো নফল তাওয়াফকেই বিদায়ী তাওয়াফ হিসেবে গণ্য করা হবে। 

সুতরাং, উক্ত ব্যাক্তি যদি তাওয়াফে যিয়ারাতের পর অন্য কোনো নফল তাওয়াফ করে থাকেন, তবে তিনি যিয়ারতের জন্য তায়েফে যেতে পারেন। 

কিন্তু, যদি তিনি কোনো তাওয়াফ না করে থাকেন এবং বিদায়ী তাওয়াফ করার আগে মীকাত ত্যাগ করেন, তবে তাকে দম দিতে হবে। 

তবে, যদি তিনি তায়েফ থেকে ফিরে উমরার জন্য ইহরাম অবস্থায় প্রবেশ করেন এবং আবার ফিরে আসেন, তাহলে দম বাতিল হয়ে যাবে।

কিন্তু, এমন করা মন্দ, এবং তার উচিত প্রথমে মীকাত থেকে উমরার জন্য ইহরামের অবস্থায় প্রবেশ করা এবং তারপর বিদায়ী তাওয়াফ করা।

بدائع الصنائع:

"فصل مكان طواف الصدر:وأما مكانه فحول البيت لا يجوز إلا به لقول النبي - صلى الله عليه وسلم - «من حج هذا البيت فليكن آخر عهده به الطواف» ، والطواف بالبيت هو الطواف حوله، فإن نفر ولم يطف يجب عليه أن يرجع، ويطوف ما لم يجاوز الميقات؛ لأنه ترك طوافا واجبا، وأمكنه أن يأتي به من غير الحاجة إلى تجديد الإحرام فيجب عليه أن يرجع، ويأتي به، وإن جاوز الميقات لا يجب عليه الرجوع؛ لأنه لا يمكنه الرجوع إلا بالتزام عمرة بالتزام إحرامها ثم إذا أراد أن يمضي مضى، وعليه دم، وإن أراد أن يرجع أحرم بعمرة ثم رجع، وإذا رجع يبتدئ بطواف العمرة ثم بطواف الصدر، ولا شيء عليه لتأخيره عن مكانه، وقالوا الأولى أن لا يرجع، ويريق دما مكان الطواف؛ لأن هذا أنفع للفقراء، وأيسر عليه لما فيه من دفع مشقة السفر، وضرر التزام الإحرام، والله أعلم."

(کتاب الحج،ج:2،ص:143،ط:سعید)

মর্মার্থঃ-
বিদায়ী তওয়াফের আগে মিকাতের সীমা অতিক্রম করে,সেক্ষেত্রে তার উপর দম আবশ্যক। যদি সে পুনরায় ইহরাম বেধে এসে উমরাহ করে হজ্বের বিদায়ী তওয়াফ করে,সেক্ষেত্রে তার দম রহিত হয়ে যাবে। 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নের বিবরন মতে তার এ কাজ শুদ্ধ হয়নি। তার জন্য পুনরায় তায়েফ বা অন্য কোন মিকাত থেকে ইহরান বেধে এসে উমরাহ করে বিদায় তওয়াফ করা উচিত ছিল। মসজিদে আঈশা থেকে ইহরাম বাধা,এটি তার জন্য কোন কাজে দেবে না।

সুতরাং এক্ষেত্রে তিনি যেহেতু আপনার দম দিয়েছেন,সুতরাং তার দম দেয়ার দরুন তার ওয়াজিব রহিত হয়েছে।

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে উক্ত ব্যাক্তি যদি তাওয়াফে যিয়ারাতের পর অন্য কোনো নফল তাওয়াফ করে থাকেন,সেক্ষেত্রে সেটিই বিদায়ী তওয়াফ বলে গন্য হবে,এমতাবস্থায় সেই দম আবশ্যক হবেনা।

তবে তায়েফ থেকে ইহরাম ছাড়া হারাম এলাকায় আসার দরুন দম আবশ্যক হবে।

তিনি যেহেতু দম আদায় করেছেন,সুতরাং আর সমস্যা নেই।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...