আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
55 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ

দয়া করে একটু তাড়াতাড়ি উত্তর দেবেন, মিন ফাদ্বলিক, কারণ মার্চ মাসের ১২ তারিখের মধ্যে আমাকে অ্যাডমিশন নিতে হবে।

ইসলামে জ্ঞান অর্জন করার কথা বলা হয়েছে , সেটা কোন রকমের জ্ঞান? আমরা সাধারণত দুই ভাগে ভাবি জ্ঞানটাকে একরকম হলো ইসলামিক শিক্ষা কোরআন তিলাওয়াত থেকে শুরু করে ইসলামী সমস্ত রকম তরিকা সমস্ত কিছু হাদিস এ সমস্ত কিছু জানা টাকে আমরা ইসলামিক জ্ঞান হিসেবে ধরি। আর দ্বিতীয় দুনিয়াবী জগতের শিক্ষা, একজন ডাক্তার হতে গেলে যেমন তাকে পড়াশোনা করতে হয়, এমবিবিএস এটা এক রকমের শিক্ষা। ইসলামে কিরকম শিক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বা জ্ঞান অর্জন করার কথা বলা হয়েছে, ইসলামিক জ্ঞান নাকি সমস্ত রকম দুনিয়াবি এবং দিনের সমস্ত রকম জ্ঞান নেওয়ার কথা বলা হয়েছে?

যদি দুই রকমই জ্ঞান নেওয়ার জন্য বলা হয়ে থাকে তো আজকালকার সময়ে শিক্ষা যে রকম ভাবে দেওয়া হয়, স্কুল বা কলেজে বা ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে শিক্ষা অর্জন করতে হয়। তো ওখানে এখনকার সময় অনুযায়ী ছেলে মেয়ে সমস্ত কিছুর ব্যবস্থাপনা একসাথে । একসাথেই ছেলেমেয়েদেরকে একটি ক্লাস রুমের মধ্যে শিক্ষা দেয়া হয়। তো এরকম জায়গায় গিয়ে কী একজন মেয়ের শিক্ষা অর্জন করা যাবে?

আর একজন মেয়ে কি একজন মাহরাম পুরুষ ছাড়া বাড়ির বাইরে বার হতে পারে। আমি একজন মেয়ে আমি এটা প্রশ্ন করছি কারণ আমি ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হব তো আমার বাড়ি থেকে ইউনিভার্সিটির দূরত্ব অনেকটা, বাড়ি থেকে যাতায়াত করা সম্ভব হবে না। আমাকে ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করতে হলে ওখানে রুম নিয়ে থাকতে হবে। তো, ওখানে আমার বাড়ির কোন মানুষ আমার যে মেহেরাম পুরুষ আছে আমার বাবা বা ভাই কেউ গিয়ে থাকতে পারবে না তো এটা কি পড়াশোনার ক্ষেত্রে জায়েজ হবে?

 যদি আমি আমার পর্দা বজায় রেখে জীবন যাপন করি বা পড়াশোনা করি আর পুরুষদের সাথে ইন্টার‍্যাকশন থেকে বিরত থাকি তাহলে এইভাবে কি শিক্ষা নেওয়া যাবে? কারণ আমাদের দেশে (ভারতে) কোনরকম শিক্ষা ব্যবস্থায় এরকম নয় যে মেয়েদের পর্দার ব্যাপারটা মেনটেইন করা হয়েছে। সমস্ত জায়গায় ছেলে মেয়ে একসাথে, কোন কোন জায়গায় মেয়েদের জন্য আলাদাভাবে স্কুল বা ইউনিভার্সিটির কলেজ করা থাকলেও সেখানে পুরুষ শিক্ষক দিয়ে পড়ানো হয়। আমাদের দেশে এরকম আলাদাভাবে কোন রকম ব্যবস্থাপনা করা নেই তো এই ক্ষেত্রে আমরা মেয়েরা তাহলে কিভাবে শিক্ষা নেব?
জাযাকাল্লাহু খায়রান

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
জেনারেল শিক্ষা অর্জন সম্পর্কে আমরা ইতি পূর্বে বলেছিলাম যে,
বলা যায় মুসলিম দেশের মুসলিম সরকারের জন্য ওয়াজিব যে,অচিরেই পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা।
প্রয়োজনে এ জন্য শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করা সমস্ত মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য।
কিন্তু যতদিন পর্যন্ত এই পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু না হচ্ছে ,ততদিন প্রয়োজনের তাগিদে নিম্নোক্ত শর্তাদির সাথে কলেজ-ভার্সিটিতে শিক্ষা গ্রহণের পরামর্শ দেয়া যেতে পারে।

১/শিক্ষা অর্জন দেশ ও মুসলিম জাতীর খেদমতের উদ্দেশ্যে হতে হবে।
২/চোখকে সব সময় নিচু করে রাখতে হবে,প্রয়োজন ব্যতীত কোনো শিক্ষক/শিক্ষিকার দিকে তাকানো যাবে না।মহিলা/পুরুষ তথা অন্য লিঙ্গের  সহশিক্ষার্থীদের সাথে তো কোনো প্রকার সম্পর্ক রাখা যাবেই না।সর্বদা অন্য লিঙ্গর শিক্ষার্থী থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে।(ফাতাওয়া উসমানী ১/১৬০-১৭১)(শেষ)
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/434

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
উপরোক্ত শর্তাদির আলোকে বর্তমান সময়ে প্রয়োজন বিবেচনায় আপনি প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায়ও শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন। মাহরাম ব্যতিত সফর সমপরিমাণ দূরত্বের কোথাও আপনি একাকি সফর করতে পারবেন না। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...