আস্সালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেব।
আমার বাবা জজকোর্টে চাকরি করতেন। সেখানেই আমার মামার জন্য একটা চাকরির ব্যাবস্থা করার জন্য তিনি অফিসেরই আরেক ব্যাক্তিকে চাকরি হওয়ার জন্য ঘুস বাবাদ ২ লাখ টাকা দেন।
পরে সেই ব্যাক্তি চাকরি দিতে অক্ষম হন। এবং কিছু টাকা ফিরিয়ে দেন। এখন তার কাছে থেকে মোট পাওনা ১ লাখ ৩১ হাজার।
ঐ ব্যাক্তি টাকা দিচ্ছে না অনেক বছর থেকেই। এদিকে মামা আমার বাবাকে চাপ দিচ্ছেন টাকা তুলে দেয়ার জন্য। এদিকে আব্বারও চেষ্টা অব্যাহত রাখছেন। কিন্তু টাকা তোলা এখন সম্ভব হচ্ছে না ঐ প্রতারক ব্যাক্তির কারণে।
মামার দাবি ছিলো ঐ ব্যাক্তির উপর মামলা করে দেয়ার যাতে চাপে পরে সে টাকা দিতে বাধ্য হয়। কিন্তু আব্বা যেহেতু সরকারি চাকরিতে ছিলেন তাই তার চাকরির যেনো কোনো সমস্যা না হয় তাই আব্বা মামলা দেয়ার পক্ষে ছিলেন না (কারণ সরকারি চাকুরেদের কোনো মামলায় সম্পৃক্ততা থাকলে চাকরির সসস্যার সম্ভাবনা থাকে)। এদিকে মামা পিরাপিরি করলে আম্মা মামাকে বলেন তুই আপাতত চুপ থাক। প্রয়োজনে তোর দুলাভায়ের রিটায়ার্ডের পরে আমাদের পকেট থেকে তোকে তোর পাওনা দিয়ে দিবো।
এখন গতো দেড় বছর আগে আমার আব্বা চাকরি থেকে রিটায়ার করেন এবং আমার আম্মাও দেড় বছর আগে ইন্তেকাল করেন।
এমতাবস্থায় মামা সেই পুর্বের কথা আমাকে মানে তার বড়ো ভাগিনা তথা আমাকে জানায় এই লেনদেনের বিষয়ে।
এটা নতুন করে আমি আব্বাকে জানালে তিনি বলেন যখন আমরা প্রথম টাকা দেই তখন তাদেরকে রিস্ক মাথায় রেখে টাকা দিতে বলেছিলাম। মানে কোন ধরনের সমস্যা হলে সেখানে আমার আব্বার দায় থাকবে না।
কিন্তু একথা মামাকে এসে বললে তিনি বলেন এতোদিন আগের কথা উনার মনে পড়তেছে না। মামা অবশ্য বাস্তবিক ভাবেই পুর্বের/অতীতের কথা তেমন মনে রাখতে পারেন না (এমন গুণের অধিকারী আমার আম্মাও ছিলেন)। আর লেনদেরটি হওয়েছিলো ২০১১ সালে।
মামা অবশ্য ক্ষতিপূরণ দিলে সেটা তিনি নিবেন এমনই ভাব প্রকাশ করতেছেন। কিন্তু কোন ঝগড়াঝাঁটি তিনি করবেন না হয়তো। এখন আমার বাবার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যকতা কতটুকু ইসলামী শরীয়ার আলোকে যদি সেটা বিস্তারিত জানাতেন খুবই ভালো হতো।
আমরা আসলে ইসলামী শরিয়ার আলোকে এই লেনদেনটাকে কিভাবে সমাধান করতে পারি?
জাযাকাল্লাহু খাইরান কাসিরান।