আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
27 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (13 points)
আসসালামু আলাইকুম।

আমার ছোট ভাইয়ের বয়স ১১ পার হয়েছে।যখন ওর বয়স ১০ পার হয় তখন আমি ওকে নামাজ পড়ার কথা বলি এবং সে আমার কথা শুনে নামাজ পড়া শুরু করে। কিন্তু আমাদের মা নামাজ পড়েন না।বাবা নেই। তিনিও নামাজ পড়তেন না। আমার আরেকটি ভাই আছে সেও নামাজ পড়ে না।আমি আর আমার ছোট ভাইটা নামাজ পড়ি।আমি ইসলাম মেনে চলার চেষ্টা করি। আলহামদুলিল্লাহ। ছোট ভাইটাকে কোরআন পড়া শিখানো হয়েছে।যখন থেকে কোরআন পড়া শিখতে পেরেছে তারপর থেকে আর কোরআন পড়তে চায় না। স্কুলের পড়া,খেলাধুলা আছে,সময় নাই এইসব অজুহাত দিয়ে পড়তে চায় না। কিন্তু আগে যখন পড়তে বলতাম তখন পড়তো। খেলাধুলার প্রতি খুব আকর্ষন বেড়ে গেছে। সারাদিন ই খেলতে চায়।আগে এরকম ছিল না।আগে আমার কথা খুব শুনতো। কিন্তু এখন শুনতে চায় না। নামাজ এখনো পড়ে জামাতে। নামাজ শুরু হওয়ার ১০-১৫মিনিট আগে থেকেই ওকে জানিয়ে দেই, নামাজে যেতে বলি।তখন সে যাই যাচ্ছি বলতে থাকে।আমি ওকে বারবার বলি যাও তাড়াতাড়ি। কিন্তু ও যাচ্ছি যাচ্ছি বলতে বলতে জামাতে দেরি করে ফেলে।আগে এই সমস্যাটা কম ছিল। কিন্তু ও এখন প্রায় ই এমন করে।তর্ক ও করে এখন। আমলের অবস্থা আগের থেকে খারাপ হয়ে গেছে।

১) ছোট ভাইকে কিভাবে দ্বীন মানাবো? কিভাবে দ্বীনি শিক্ষা দিবো?

২) যেহেতু আমার মা দ্বীন মেনে চলেন না, নামাজ টুকুও পড়েন না সেক্ষেত্রে বড় বোন হিসেবে ছোট ভাইকে দ্বীন মানানোর জন্য আমার কি করণীয়??

৩) ছোট ভাইটার দ্বীনি কোনো ফ্রেন্ড সার্কেল ও নেই।ও একাই দ্বীন মানে এরকম।আমরা যে গ্ৰামে থাকি সেখানে দ্বীনি বন্ধু তো দূরে থাক ভালো কোনো ছেলেপেলেই নেই। আশেপাশের কেউই দ্বীন মানে না।এমন অবস্থায় কি করণীয়?ওকে ঘরে রাখবো সবসময়?বাহির খেলতে দেবো না?এমনটা ওই মানবেও না।নাকি বাহিরে কম খেলতে বলবো নাকি স্বাভাবিক ভাবেই খেলবে?

৪) কোনো আদেশ দিলে সহজে শুনতে চায় না।আম্মুর কথাও শুনতে চায় না। ইদানিং এই সমস্যাটা বেশি হচ্ছে। অনেক অবাধ্য হয়ে গেছে।এরকমটা হওয়ার কারণ কি? এবং কি করলে ও আমাদের কথা শুনবে?

৫) খেলাধুলা প্রতি অনেক আগ্রহ বেড়ে গেছে। অনেক খেলতে চায়।এটা কিভাবে দূর করবো?

৬) আমি যদি ওকে আলেম বা হাফেজ বানাতে চাই তাহলে বোন হিসেবে এটা চাওয়া কি ঠিক হবে?কারণ যেহেতু আম্মুর দ্বীনের বুঝ নাই।

৭)যদি আম্মুকে বুঝিয়ে ওকে মাদ্রাসায় পড়াতে চাই তাহলে কি এটা ঠিক হবে? পরবর্তীতে যদি ও খারাপ হয়ে যায় তখন আমাকে দোষ দিতে পারে যে,আমি মাদ্রাসায় পড়ার কথা বলেছিলাম।তাহলে ওকে স্কুলে পড়াটা ঠিক হবে নাকি মাদ্রাসায়? আমার মনে হয় স্কুলে দ্বীন মেনে চলাটা একটু কঠিন।

৮)ওকে দ্বীনি শিক্ষা দিতে চাইলে কিভাবে দিবো?মানে কোনটা আগে শেখাবো কোনটা পড়ে দেখাবো?কোন বই থেকে দেখাবো?

৯) ছোটদের দ্বীন শেখার জন্য কোন বইগুলো পড়বো এবংওকে পড়তে দিবো সাজেস্ট করবেন।

১০) কিভাবে ওকে শাসন করবো? কোন জায়গায় কি পরিমান কঠোর হবো?কোন জায়গায় কোমল হবো বুঝতে পারি না অনেক সময়।যেমন:ওকে খেলাধুলা কম করতে বললাম।ও কথা শুনলো না।আমি বারবার বললাম,বুঝালাম তাও শুনলো না।তখন কি করবো ? কঠোর হবো?একটু মারবো?নাকি ব্যাপার টা ছেড়ে দিবো?

১১) অনেক সময় ওকে কোনো একটা কথা বারবার বলার পড়েও যখন ওই শুনে না তখন আমি ওর সাথে কিছু সময় কথা বলা বন্ধ করে দেই। নামাজ পড়ার সময় হলেও ওকে বলি না, নামাজের সময় জানিয়ে দেই না।পরে অবশ্য নিজে নিজেই নামাজ পড়তে যায় কিন্তু দেরি করে ফেলে। আবার এভাবে কথা বলা বন্ধ রাখলে কিছু সময় পড়ে অবশ্য আমার কথা মানে। আমার এভাবে কথা বলা বন্ধ রাখা কি ঠিক?

১২) অনেক সময় ওই কথা না শোনার কারণে ওকে মেরেছি। একটু খারাপ আচরণ ও করেছি। তখন জানা ছিল না যে, ছোটদের প্রহার করা যায় না।যখন জানতে পেরেছি তখনো কয়েকবার ওই কথা না শোনার কারণে রাগ করে ওকে মেরেছি। আবার সংশোধনের জন্যে ও মেরেছিলাম।এর জন্য কি আমাকে ওর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে? নাকি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেই হবে?

এত বড় প্রশ্নের জন্য মাফ করবেন হুজুর। বিস্তারিত উওরগুলো দিবেন হুজুর।জাযাকাল্লহু খইরন।আমাদের হেদায়েতের জন্য দোয়া করবেন।

1 Answer

0 votes
ago by (764,700 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

হযরত আমর বিন শুয়াইব তার সুত্রে বর্ণনা করেন,

ﻋَﻦْ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺷُﻌَﻴْﺐٍ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ ﻋَﻦْ ﺟَﺪِّﻩِ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ( ﻣُﺮُﻭﺍ ﺃَﻭْﻟَﺎﺩَﻛُﻢْ ﺑِﺎﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ ﻭَﻫُﻢْ ﺃَﺑْﻨَﺎﺀُ ﺳَﺒْﻊِ ﺳِﻨِﻴﻦَ ، ﻭَﺍﺿْﺮِﺑُﻮﻫُﻢْ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﻭَﻫُﻢْ ﺃَﺑْﻨَﺎﺀُ ﻋَﺸْﺮٍ ، ﻭَﻓَﺮِّﻗُﻮﺍ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﻀَﺎﺟِﻊِ ) .

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানাদিকে নামাযের আদেশ দাও যখন তারা সপ্ত বর্ষে উপনীত হয়।নামায না পড়ার ধরুণ তাদেরকে প্রহার করো যখন তারা দশম বৎসরে উপনীত হয়।এবং সাথে সাথে তাদের শয়নস্থল কে পৃথক করে দাও।(সুনানু আবি-দাউদ-৪১৮)

আল্লামা আলাউদ্দীন হাসক্বফী রাহ. দুর্রুল মুখতার-(৬/৩৮২)এ লিখেনঃ-

(ولا يجوز للرجل مضاجعة الرجل وإن كان كل واحد منهما في جانب من الفراش) قال - عليه الصلاة والسلام - «لا يفضي الرجل إلى الرجل في ثوب واحد ولا تفضي المرأة إلى المرأة في الثوب الواحد» وإذا بلغ الصبي أو الصبية عشر سنين يجب التفريق بينهما بين أخيه وأخته وأمه وأبيه في المضجع لقوله - عليه الصلاة والسلام - «وفرقوا بينهم في المضاجع وهم أبناء عشر» وفي النتف إذا بلغوا ستا كذا في المجتبى،

দু'জন পুরুষের মধ্যে শয়নস্থল এক হওয়া জায়েয হবে না(একি তোষকের নিচে)।যদিও তাদের উভয়ের অবস্থান বিছানার উভয় পার্শ্বে হোক না কেন।রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,এক তোষকের ভিতর এক পুরুষ অন্য পুরুষের সাথে শয়ন করতে পারবে না।এবং এক মহিলা অন্য মহিলার সাথেও একই তোষকের ভিতর শয়ন করতে পারবে না।যখন বালক-বালিকা দশ বৎসরে পৌছে যায়, তখন আপন ভাই-বোন,ছেলে-মা,মেয়ে-পিতার মধ্যকার শয়নস্থল কে পৃথক করে দিতে হবে।কেননা রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,সন্তান দশ বৎসরে উপনীত হয়ে গেলে তাদেরকে পৃথক শয়নস্থলের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।ফেকহী কিতাব 'আন-নুতাফ' এ বর্ণিত রয়েছে যে, সন্তান ছয় বৎসরে উপনীত হয়ে গেলে তাদের জন্য পৃথক শয়নস্থলের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।(মুজতাবা)

উক্ত ইবারতের ব্যখ্যা করতে যেয়ে মুহাম্মদ আমীন ইবনে উমর ইবনে আব্দুল আজীজ আবেদীন(ইবনে আবেদীন) শামী রাহ লিখেনঃ

(قوله مضاجعة الرجل) أي في ثوب واحد لا حاجز بينهما، وهو المفهوم من الحديث الآتي، وبه فسر الأتقاني المكامعة على خلاف ما مر عن الهداية، وهل المراد أن يلتفا في ثوب واحد أو يكون أحدهما في ثوب دون الآخر والظاهر الأول، يؤيده ما نقله عن مجمع البحار أي متجردين، وإن كان بينهما حائل، فيكره تنزيها اهـ تأمل

এক পুরুষের সাথে অপর পুরুষের একত্রে এক বিছানায় ঘুমানো নাজায়েয তখনই হবে যখন উভয় একই তোষকের ভিতর কোনো প্রকার পর্দা ব্যতীত শয়ন করবে।এ বিষয়টাই অন্য একটি হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে। হ্যা যদি সমলিঙ্গের  মধ্যে কাপড় ইত্যাদির দ্বারা প্রতিবন্ধকতা থাকে,তাহলে এমতাবস্থায় একই বিছানায় দু'জন পুরুষের শয়ন করা মাকরুহে তানযিহি হবে।

বিছানা পৃথক হওয়ার অর্থ এই নয় যে, প্রত্যেক সন্তানের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রুমের ব্যবস্থা করে দিতে হবে; বরং একই রুমে ভিন্ন খাট, চকি বা ভিন্ন বিছানার ব্যবস্থা করলেও চলবে। আর যদি তাদের জন্য পৃথক পৃথক বিছানার ব্যবস্থা করা সম্ভব না হয় বরং সকলকে এক বিছানাতেই রাত্রিযাপন করতে হয় সেক্ষেত্রে এ বয়সের সন্তানদের মাঝে কোল বালিশ বা এ ধরনের কোনো কিছু দিয়ে হলেও আড়াল রাখা আবশ্যক। আর মেয়েদের বিছানা বাবা ও ছেলেদের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক হওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে শুধু কোল বালিশ রাখা যথেষ্ট নয়।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(১-১২)
আপনার ছোট ভাইকে ভালো কোন একটি কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিবেন এবং সে যেন সঠিকভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন।

পাশাপাশি তার বাবা মার ওপর দায়িত্ব তাকে শাসন করা। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে বেত্রাঘাত করলেও করতে পারে তদুপরি শাসন চালিয়ে যেতে হবে, তার উপর আপনি যে শাসন করেছেন,এর দ্রুন গুনাহ হবেনা। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...