আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
6 views
ago in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম। আমার এই প্রশ্নের উত্তর টা জানা জরুরি। আমি এই বিষয়টি নিয়ে খুবই হতাশায় আছি। আল্লাহ কেনো তার একেক বান্দার সাথে একেক রকম আচরণ করেন। কখনো কোনো গুনাহ হয়ে গেলে সাথে সাথে আমার জীবনে সেই গুনাহ সংক্রান্ত  বড় ধরনের আযাব নেমে আসে। আরও ২/১ জন মানুষকে এমন দেখেছি। কিন্তু আশেপাশেই এমন অসংখ্য মানুষ দেখি যারা এর চাইতেও বড় গুনাহ করে খুব ভালো আছে।  তাদের জীবনে সেই গুনাহ সংক্রান্ত কোনো সমস্যা বা বিপদ আপদ আসে নাহ। এর কারণ কি?

1 Answer

+1 vote
ago by (763,500 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

প্রশ্নে আপনি যেমন ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন, তাহা এমন নহে।
গুনাহ করলেউ বিপদ আসবে, গুনাহ না করলে বিপদ আসবে না, বিষয়টি এমন নয়।
বরং তাকদীরে যাহা আছে,তাহাই হবে।

আল্লাহ তা’আলা সকল মাখলুকের তাকদীর আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বৎসর পূর্বে লিখেছেন। সেখানে যাহা লেখা আছে,তাহাই হবে।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَرْحٍ حَدَّثَنَا ابْنُ، وَهْبٍ أَخْبَرَنِي أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلاَنِيُّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو، بْنِ الْعَاصِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " كَتَبَ اللَّهُ مَقَادِيرَ الْخَلاَئِقِ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ -
আবূ তাহির, আহমাদ ইবনু আমর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ...... ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা সকল মাখলুকের তাকদীর আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বৎসর পূর্বে লিখেছেন।  (মুসলিম শরীফ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৫০৭, ইসলামিক সেন্টার ৬৫৫৮)

ইমরান বিন হুসাইন (রদ্বি, ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন,

لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَطَيَّرَ، أَوْ تُطُيِّرَ لَهُ أَوْ تَكَهَّنَ، أَوْ تُكُهِّنَ لَهُ أَوْ سَحَرَ، أَوْ سُحِرَ لَهُ-

, ‘‘সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি (কোন বস্ত্ত, ব্যক্তি কর্ম বা কালকে) অশুভ লক্ষণ বলে মানে অথবা যার জন্য অশুভ লক্ষণ দেখা (পরীক্ষা) করা হয়, যে ব্যক্তি (ভাগ্য) গণনা করে অথবা যার জন্য (ভাগ্য) গণনা করা হয়। আর যে ব্যক্তি যাদু করে অথবা যার জন্য (বা আদেশে) যাদু করা হয়।’’ (ত্বাবারানী ১৪৭৭০, সহীহুল জামে’ ৫৪৩৫ ,সিলসিলা ছহীহা ২১৯৫)

এগুলোতে বিশ্বাস করা শিরক। এভাবে শুভ অশুভ নির্ণয়ের বিধান প্রসঙ্গে রসূলুল্লাহ (স) বলেন,

اَلطِّيَرَةُ شِرْكٌ

‘কুলক্ষণে বিশ্বাস করা শিরক’।[আবুদাঊদ, তিরমিযী; মিশকাত, ৪৫৮৪]

আব্দুল্লাহ বিন আমর বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স) একদা বললেন, কুলক্ষণ যে ব্যক্তিকে কোন কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখে, নিশ্চয়ই সে শিরক করে। ছাহাবীগণ আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! উহার কাফফারা কি হবে? তিনি বললেন, ঐ ব্যক্তি বলবে-

اَللَّهُمَّ لاَ خَيْرَ إِلاَّ خَيْرُكَ وَلاَ طَيْرَ إِلاَّ طَيْرُكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ

‘হে আল্লাহ! আপনার কল্যাণ ছাড়া কোন কল্যাণ নেই। আপনার সৃষ্ট কুলক্ষণ ছাড়া কোন কুলক্ষণ নেই। আর আপনি ছাড়া কোন মা‘বূদও নেই’    [আহমাদ ৭০৪৫, সিলসিলা ছহীহা ১০৬৫]


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ago by (1 point)
আসলে আমি হয়তো আপনাকে বোঝাতে পারিনি। আমি কোনো কিছুকে কোনো কিছুর লক্ষ্মণ মনে করিনি। গুনাহ করলে বিপদ আসবে না করলে আসবে নাহ আমি এমন ধারণায় বিশ্বাসী নই। আমি জানতে চেয়েছি, ধরুন আমি একটা গুনাহ করলাম, ধরুন ১০হাজার টাকা ঘুষ খেলাম, পরবর্তী তে সাথে সাথেই দেখা যায় যে আমার এই ঘুষের জন্য আমি চাকরিটা হারিয়ে ফেলেছি বা সেটা সবার মধ্যে ছড়ে গিয়ে আমি খুবই বাজেভাবে লাঞ্ছিত হচ্ছি, বা আমার জীবনে এতো বড় বিপদ আসলো যার জন্য ১০হাজার এর চেয়েও কয়েকগুণ বেশি টাকা লাগলো। কিন্তু আমি এই কাজটা ধরুন আমার জীবনে শুধু মাত্র একবার করেছি এতেই এমন পরিণতি  অন্যদিকে  কেউ লক্ষ কোটি টাকা ঘুষ খাচ্ছে, তাও বছরের পর বছর ধরে কিন্তু এটা প্রকাশ পেয়ে সে অপদস্হ হচ্ছে নাহ, তার চাকরি হারাতে হচ্ছে নাহ বরং আরও পদোন্নতি পাচ্ছে। এমন হওয়ার কারণ কি? একই পরিমাণ গুনাহের জন্য যেখানে সাথে সাথে কেউ ভয়াবহ শাস্তি পেয়ে যায় অন্যদিকে কেউ  এর চাইতেও বেশি গুনাহ করে শাস্তি পাওয়া তো দূরে থাক বরং আরও  বেশি ভালো থাকে।  আমার প্রশ্ন হলো এমনটা কেনো হয়? আল্লাহ কেনো তার একেক বান্দার সাথে একেক রকম আচরণ করেন। 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...