আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
11 views
ago in সাওম (Fasting) by (5 points)
আস্ সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।
মৃত ব্যক্তির  রমজান মাসে কাযা রোজা সম্পর্কে জানতে চাই।

আমার মা ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল (২৩ শে রমজান) মারা যায়। আমি যতটুকু জানি , মা সব সময় বলতো আমার ছোট ভাই হওয়ার সময় ( হওয়ার আগে/ না পরে সঠিক জানা নেই) ওনি রোজা রাখেন নাই বা রাখতে পারে নাই। আর ২০১৮ সালে রোজার সময় সম্ভবত ৪ রোজা রাখার পর ওনি ব্রেইন স্ট্রোক করেন। এজন্য পরবর্তী রোজাগুলো রাখা হয় নি। আর ২০২২ সালে মারা যাওয়ার আগে ওনি ২১ সালের ডিসেম্বরে আবার ব্রেইন স্ট্রোক করেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পরও এমনি রোজার শুরুতেও ওনি অসুস্থ ই ছিলেন তারপরও সম্ভবত প্রথম ১০ টা রাখেন তারপর আবার স্ট্রোক করেন এবং আবারও খাওয়া এবং কথা বন্ধ হয়ে যায় এবং ২৩ শে রমজান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এক্ষেত্রে আমি আমার মায়ের রোজা গুলো করে দিতে চাচ্ছি। যেহেতু আমার পক্ষে করা সম্ভব নয় বা কাউকে দিয়ে করানোও প্রায় অসম্ভব তাই আমি এর পরিবর্তে টাকা দিয়ে দিতে চাচ্ছি।

এক্ষেত্রে টাকার হিসাব কিভাবে হবে এবং পরিমাণ কত? এবং কিভাবে বন্টন বা কোন কোন খাতে বন্টন করতে পারব বা এক ব্যক্তিকে দিলে হবে নাকি একাধিক ব্যাক্তিকে দেওয়া যাবে বলে দিলে খুবই মুনাসিব হয়।

বি:দ্র: ওনি মারা যাওয়ার আগে সব সময় প্রায় আফসোস এর মতো করে এই রোজাগুলোর কথা বলত, যে এই রোজা গুলো রাখতে পারেন নাই। আমি শুধু আমার মায়ের এই রোজা গুলোর কথাই জানি বাকি অন্যান্য কাজা রোজা গুলো সম্পর্কে আমার জানা নেই( করেছে কি করেন নাই)। সবকিছু বিবেচনা করে টাকার পরিমাণ ও বন্টন বলে দিলে খুবই মুনাসিব হয়।

জাযাকাল্লাহু খয়রন।

1 Answer

0 votes
ago by (763,500 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ    

أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۚ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ ۚ وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ [[٢:١٨٤]

গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার। [সূরা বাকারা-১৮৩-১৮৪]


★যদি এমন অসুস্থতা হয় যা সুস্থ হয়ে রোজা রাখার মতো সম্ভাবনা না থাকে বা কম থাকে অথবা বার্ধক্যজনিত কারণে রোজা পালনে সম্পূর্ণ অক্ষম হন, তাহলে প্রতি রোজার জন্য এক ফিতরা পরিমাণ ফিদইয়া দিতে হবে।

যদি এমন অসুস্থ্য হন যে, রোযা রাখতেই পারেন না, এমতাবস্থাই তার মৃত্যু চলে আসে, তাহলে তার রোযার ফিদিয়া ও আদায় করতে হবে না।
যদি কষ্টকর হয়, কিন্তু আদায়ে সক্ষম হন, তাহলে ফিদিয়া আদায় করতে হবে।
প্রতিটি রোযার ফিদিয়া হল, গরীব মিসকিনকে প্রতিটি রোযার বদলে সদকায়ে ফিতির পরিমাণ টাকা বা গম, চাল, যব ইত্যাদি প্রদান করা।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার মায়ের পক্ষ থেকে রোজা রাখার কোন সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে আপনারা ফিদইয়াহ আদায় করতে পারেন।

আপনার ধারনা মোতাবেক তার জিম্মায় যতগুলো রোজার কাজা ছিল, সে কয়টি রোজার ফিদইয়াহ আদায় করে দিবেন।

প্রতি রোযার ফিদইয়াহ হলো একটি সদকায়ে ফিতর সমপরিমান টাকা গরিব মিসকিনকে দান করা।   


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...