আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
8 views
ago in পবিত্রতা (Purity) by (54 points)
আসসালামু আলাইকুম।আমার সাদা স্রাবের সমস্যা থাকায় বাইরে গেলে বা জার্নিতে লং টাইম টিস্যু পড়ে থাকা হয়।তখন কখনো কখনো দেখা যায় টিস্যুটা কিছুটা হলদে/বাদামী ভাব হয়ে আছে আবার কখনো সাদাই থাকে।এটা নরমাল সময়ে।

হায়েজ এর ক্ষেত্রে ৬/৭ দিনে হায়েজ ভালো হয়ে সাদা স্রাব আসে।যেটা হাতে বা টিস্যু দিয়ে চেক করলেও সাদাই আসে।কিন্তু বাইরে গেলে বা রাতের বেলা লং টাইম টিস্যু পড়ে থাকলে নরমাল সময়ের মতোই হলদে/বাদামী ভাবটা আসে।
যেটা অন্য সময় ও দেখা যায় মাঝে মাঝে।
যখনেই ওয়াশরুমে যাই টিস্যু দিয়ে চেক করলে সাদাই দেখা যায় আবার কখনো কালারটা এত হালকা থাকে যে পার্থক্য করাও কঠিন হয়ে যায়।

১.নরমাল সময়েও যেহেতু দেখা যায় তাহলে কি এটাকে হায়েজ ধরব না?

২. শুধুমাত্র টিস্যুতেই দেখা যায় তাও সেটা অনেক লং টাইম পর পর। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে কখনো সাদাই থাকে আবার কখনো কিছুই থাকে না।লাস্ট ৭/৮ মাস ধরেই এমন খেয়াল করতেছি আগে খেয়াল করা হয় নি।তখন থেকে কখনো ৬/৭ দিনে ভালো হয়ে সাদা স্রাব আসলে ২/৩ ওয়াক্ত অপেক্ষা করে গোসল করে নামাজ পড়ি তারপর টিস্যুতে হলদেটে ভাব দেখে আবার ২/৩ওয়াক্ত অপেক্ষা করে গোসল করি।এভাবেই ১০ দিন পর্যন্ত চলে।১০ দিনের পর আর টিস্যু ইউজ করি না গোসল করে নামাজ,কুরআন পড়া শুরু করি।কিন্তু হায়েজ যে কখন শেষ হয়েছে সেটাই বুঝতে পারি না।এক্ষেত্রে করণীয় কি? ৬/৭ দিনের পর যে লং টাইম দেখা যায় না তখন গোসল করে নামাজ পড়ব? নাকি একবারে ১০দিন পর্যন্তই অপেক্ষা করব?

1 Answer

0 votes
ago by (763,200 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী তুহর তথা দুই হায়েজের মাঝে পবিত্রতার সর্বনিম্ন সীমা পনেরো দিন।
এই পনেরো দিনের মধ্যে কোনো রক্ত আসলে সেটি হায়েজ নয়,বরং সেটি ইস্তেহাজা তথা অসুস্থতা।
এই সময়ে নামাজ রোযা আদায় করতে হবে।    
হজরত হান্নাদ [রহ] আম্মাজান আয়েশা [রা]-এর হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, ফাতিমা বিনতে হুবাইশ নামক এক নারী একবার রাসুল [সা]-এর সমীপে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসুল, আমি একজন ইস্তেহাযাগ্রস্ত মেয়ে। আমি তো পাক হই না। তাই আমি কি নামাজ পড়া ছেড়ে দেবো? রাসুল [সা] বললেন, না, কারণ এ রক্ত হায়েযের নয়; বরং এ হলো শিরা থেকে বেরিয়ে আসা রক্ত। সুতরাং যখন তোমার হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলি আসে তখন সে দিনগুলি নামাজ ছেড়ে দেবে। আর হায়েযের দিন চলে গেলে তোমার রক্ত ধুয়ে নেবে এবং নামাজ আদায় করবে। [তিরমিজি, হাদিস-১২৫]
,
আরো জানুনঃ   

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ৩ তিন,আর সর্বোচ্ছ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬)  

হাদীস শরীফে এসেছে   
أقل الحیض للجاریۃ البکر والثیب ثلاثۃ أیام ولیالیہا وأکثرہ عشرۃ أیام
دار قطني، السنن، 1: 219، رقم: 61
রাসুল সাঃ বলেন  মহিলাদের হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা হলো ৩ দিন ৩ রাত,সর্বোচ্চ সীমা হলো ১০ দিন ১০ রাত।

হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক,সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। 
উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা।
(কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)

তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,

عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "

তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।(মুয়াত্তা মালিক-১২৭)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
এটি যদি হায়েজ বন্ধ হওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যেই আসে,অথবা ৩ দিন ৩ রাত পর্যন্ত না আসে,সেক্ষেত্রে এটি হায়েজ নয়।

এটি ইস্তেহাজা।

(০২)
১০ দিনের মধ্যে যখন আপনার ব্লাড আসা পুরোপুরি বন্ধ হয় বা সাদা স্রাব আসে,সেক্ষেত্রে হায়েজ বন্ধ হয়ছে বলে ধরে নিবেন।

উল্লেখ্য হায়েজের বন্ধ ১০ দিনের পরেও যদি ব্লিডিং, আসে সেক্ষেত্রে পূর্বের মাসের অভ্যাস অনুপাতে এই মাসে হায়েজ ধরতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 283 views
...