আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
125 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (6 points)
আসসালামু আলাইকুম শাইখ।
১) বিয়ের ব্যাপারে যাদুগ্রস্থ না বিয়ের ক্ষেত্রে আসা বাধাগুলো রবের পরীক্ষা,কীভাবে বুঝবো?
২) বিয়ের ব্যাপারে রুকইয়াহ করতে চাইলে পদ্ধতি কী হতে পারে? নিজে করা / রাক্বি'র সাহায্য নেওয়া?
৩) ছোট থেকেই শয়তানের ওয়াসওয়াসায় জ্বিন সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে স্বপ্নে ভয় পেতাম।এতোটাই যে,ঘুম ভেঙে বুক ধরফর করতো,মাথা ঝিম মেরে প্রচুর ব্যথা হতো,সেই রেশ কাটতেও খুব বেগ পেতে হতো।
৪) ২০১৬ সাল থেকে পরিবার বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজছে, তখন আমি পড়তাম স্কুল এ, এখন ২৬ এ এসেও উপযুক্ত পাত্র পাচ্ছে না। এ পর্যন্ত কোনো প্রস্তাব দেখে মনেও হয়নি যে, আমার এখানে ভালো লাগছে। ২/৩টা এমন ছিল,মনে হয়েছিল এগোনো যায়,কিন্তু আর হয়নি। এর মধ্যে আসা প্রস্তাবের পরিমাণ ৮০+।  বর্তমানে একটি প্রস্তাবের ব্যক্তির সাথে কুফু থেকে শুরু করে সব মিলে যাচ্ছিল। আমি ইস্তিখারাও করি,তবে দুয়াটা বাংলায় পড়ে মোনাজাত করি।
২ দিন করি, ২ দিনই স্বপ্নে এমন কিছু দেখতাম, যেটা অন্য প্রসংগে থাকতো এবং প্রথমে ঠিকঠাক কিন্তু শেষে গিয়ে আমি ভয় পেয়ে ঘুম ভেঙে উঠতাম।
কিন্তু,মন এইদিকেই ঝুঁকে ছিল,প্রশান্ত ছিল। কোনো অস্থিরতা ছিলনা। ওনারা দেখতে এসে ভালোই পজিটিভ দেখান। যাওয়ার পরও জানানো হয় ছেলে এবং ছেলের সাথে যারা এসেছিল,তারা রাজি। বাকিদের তথ্য বাকি।
সব স্বাভাবিক ছিল।
হঠাৎ, ৯ দিন পর পাত্র জানায়, হ্যা বা না কিছুই সে জানাতে পারছেনা,আমি অন্য জায়গায় চেষ্টা করতে পারি। এই প্রস্তাব আসার পর থেকে মাঝে অনেক গ্যাপ ছিল, সব কিছুই সময় পরিকল্পনা থেকে দূরে ছুটে যেত।
সবকিছুতেই কেমন হতে নিয়ে কাজটা হতো না বা বলা যায় ব্যাপারটা আগাতো না।
সেও ১ম দিকে আসার আগে একটা কথা বলেছিল,ওনার ও এখানে টান ফিল হয় তবে উনি বুঝতে পারছেনা যে এটা কোনো যাদু বা বদ নজর কি না। কারণ, যখনই এগোতে নেয়, কিছুদিক যেমন সহজ হয়ে যায় আবার কিছু প্রতিবন্ধকতা এসে জড়ো হয়, হয় ওখান থেকে আর নাহয় এখান থেকে।
আজ একটা স্বপ্ন দেখলাম, ওনারা আবার আসছেন, তবে দেখতে যাওয়ার আগে আমি অপ্রস্তুত, আমি ফ্রেশ হবো কিন্তু পরিস্থিতি হচ্ছিল না। অন্য একজায়গায় প্রস্তুতি নিতে ওয়াশরুমে যেতে চাইলাম। দেখলাম কিছু পুরুষের বাজে চোখ আমার দিকে,এরপর স্বপ্ন টা আরও জটিল হতে থাকলো,  শয়তানি দুনিয়ার মতো একটা হালত।
এরপর শেষে তাদের সাথে আর দেখা হলোনা। ওনারাও জানালেন,যদি ছেলের এমন মেয়েকে বিয়ে করতে সমস্যা না হয়,তাদেরও নেই।
এই সমস্যা টা আসলে কী?  কোনো খারাপের সংস্পর্শ! এই ব্যাপারগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
ওনাদের থেকে পাত্র এ কথা বলার পরও মন শান্ত, মনে হচ্ছে এখানেই লিখা। সবকিছু শান্ত তবে পরিস্থিতি কেমন হয়ে যাচ্ছে।  ৬মাসের ব্যবধানে দেখা পর্যন্ত গড়িয়েছিল। নিজেরা দ্বীন এর জন্য কথা বার্তায় সংযত ছিলাম। এখনও।
তবে এসবের কারণ কী?
৫) এটা কী আল্লাহর পরীক্ষা?
৬) নাকি আল্লাহর কোনো সৃষ্টির অনিষ্টতা কামনা?
৭) এ ব্যাপারে আমার কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?
৮) বিয়ের আমলও করি তবে এমন হওয়ার কারণ কী? বারবার হতে গিয়েও আটকে যাওয়া। কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে না পারা,এতো জটিলতা।
ডিটেইলস উত্তর জানালে উপকৃত হবো ইন্ শা আল্লহ্।
আল্লাহ ভালো জানেন

1 Answer

0 votes
by (769,290 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

যাদু করে বিয়েতে বাধা দেওয়া,কাহারো আয় উন্নতির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যেতে পারে। যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইহুদীরা যাদু করে অসুস্থ্য করে দিয়েছিল। দীর্ঘদিন যাবত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদুর প্রভাবে অসুস্থ্যতায় ভুগছিলেন। তখনি সূরা ফালাক ও সূরা নাস নাজিল হয়।
,
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
 
عَنْ عَائِشَةَ، ” أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَتَى إِلَى فِرَاشِهِ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ، ثُمَّ نَفَثَ فِيهِمَا، وَقَرَأَ فِيهِمَا: قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ، وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ، وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ، ثُمَّ مَسْحَ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِهِ، يَبْدَأُ بِهِمَا عَلَى رَأْسِهِ وَوَجْهِهِ وَمَا أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهِ، يَفْعَلُ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ

হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। প্রতি রাতে রাসূল সাঃ যখন বিছানায় আসতেন, তখন দুই তালুকে একত্র করতেন। তারপর তাতে ফুঁ দিতেন। পড়তেন “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ” এবং “কুল আউজু বিরাব্বিল ফালাক” ও “কুল আউজু বিরাব্বিন নাছ”। তারপর শরীরের যতটুকু অংশ সম্ভব মুছে দিতেন।  শুরু করতেন মাথা ও চেহারা ও শরীরের সামনের অংশ থেকে। এভাবে তিনবার করতেন। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৪৮৫৩, সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫০১৭}

এই দোয়া পড়তে হবেঃ

- أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ الَّتِي لَا يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَلَا فَاجِرٌ، مِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَعْرُجُ فِيهَا، وَمِنْ شَرِّ مَا ذَرَأَ فِي الْأَرْضِ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا، وَمِنْ شَرِّ فِتَنِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ طَارِقٍ إِلَّا طَارِقًا يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمَنُ»

অর্থ : ‘আমি আল্লাহর ঐ সকল পরিপূর্ণ বাণীসমূহের সাহায্যে আশ্রয় চাই যা কোনো সৎব্যক্তি বা অসৎ ব্যক্তি অতিক্রম করতে পারে না; আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, অস্তিত্বে এনেছেন এবং তৈরি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে; আসমান থেকে যা নেমে আসে তার অনিষ্ট থেকে এবং যা আকাশে উঠে তার অনিষ্ট থেকে, আর যা পৃথিবীতে তিনি সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে; আর যা পৃথিবী থেকে বেরিয়ে আসে, তার অনিষ্ট থেকে; দিনে ও রাতে সংঘটিত ফেতনার অনিষ্ট থেকে; আর রাতের বেলায় হঠাৎ করে আগত অনিষ্টতা থেকে। তবে রাতে আগত কল্যাণকর আগমনকারী ব্যতিত, হে দয়াময়।’ (হিসনুল মুসলিম)

- أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ

অর্থ : ‘আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণী সমূহের ওসিলায় আশ্রয় চাই তাঁর রাগ থেকে, তাঁর শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে, শয়তানদের কুমন্ত্রণা থেকে এবং তাদের উপস্থিতি থেকে।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে  জাদুর প্রভাব রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। প্রতিদিন ফজর ও মাগরিব নামাযের পর এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চার কুল তথা সূরা কাফিরূন, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা  নাস পড়ে, হাতে তালুতে ফুঁ দিয়ে সাড়া শরীর মুছে নিবেন। এভাবে তিনবার করবেন।  
উপরোক্ত দোয়া গুলিও আপনি পাঠ করতে পারেন। 

আশরাফ আলী থানবী রহঃ রচিত একটি বই আছে। যার নাম হল, “আমালে কুরআনী” বাংলায় অনুবাদ হয়েছে। বইটি সংগ্রহ করে এর মাঝে এ বিষয়ক আমল রয়েছে। তা থেকে নিয়মিত আমল করতে পারেন। ইনশাআল্লাহ সমস্যার সমাধান হবে।

আরো জানুনঃ- 
,
বাকি এর পরও যদি কাজ না হয়, তাহলে কোনো বৈধ রুকইয়াহ কারীর শরণাপন্ন হবেন,সে যদি কুফরী কালাম না করে, বরং কুরআন ও হাদীসের আলোকে তদবীর দেন, তাহলে তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (6 points)
তিনি বলতে,আমি কি ওনাকেও এটা জানাবো? নাকি আমি নিজেই করবো?
by (769,290 points)
আপনি নিজেই আমল করবেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...