আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
67 views
in পবিত্রতা (Purity) by (16 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম উস্তায, আমি মার্চের ১৩ তারিখে রক্ত দেখি। নরমালি যে পরিমাণ যায় তারচেয়ে কম৷ তারপর ১৫ তারিখ ফজর থেকে আর কিছু দেখি না। পবিত্রতা অর্জন করে নামাজ রোযা কান্টিনিউ করি। ২১ তারিখ সহবাসের পর সামান্য এবং হালকা গোলাপি কালারের রক্ত দেখি। আমার মনে হচ্ছিল কয়েকদিন পর সহবাস করায় হতো রক্ত এসেছে। এরপর আর রক্ত দেখিনি।
এপ্রিলের ২ তারিখে রক্ত যাওয়া শুরু হয়েছে এখনো চলছে। প্রথমদিকে রক্ত কম গিয়েছে। এখন বেশি যাচ্ছে। আমার প্রস্রাবে বেশি ইনফেকশন এবং রক্তেও অল্প চলে গিয়েছে এজন্য হয়ত হায়েযের শুরুর দিকে নরমালি রক্ত যায়নি। এখন আমার প্রশ্ন উস্তায, আমার মার্চেরটা তো ইস্তিহাযাই ধরবো? আর এই মাসেরটা হায়েয? আর যদি ১০দিনের পরও রক্ত যায় তাহলে ১০দিন পর্যন্ত হায়েয ধরবো? নাকি হায়েযের অভ্যাস অনুযায়ী ৭দিন ধরবো? রক্ত যেহেতু প্রথমদিকে ভালো করে যায়নি তাই স্বাভাবিকভাবেই এখন বেশি যাচ্ছে। (উল্লেখ্য, আমার অনিয়মিত হায়েয এবং ৩ মাস পর হায়েয হয়েছে)

আরেকটি প্রশ্ন, স্বপ্নে কেউ যদি কাউকে বারবার মুমূর্ষ ব্যক্তি হিসেবে দেখে এবং ওই ব্যক্তিকে হত্যা করা হচ্ছে দেখে তাহলে কি বুঝতে হবে এর পিছনে রুকইয়াহ জনিত সমস্যা?

1 Answer

0 votes
by (768,810 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী তুহর তথা দুই হায়েজের মাঝে পবিত্রতার সর্বনিম্ন সীমা পনেরো দিন।
এই পনেরো দিনের মধ্যে কোনো রক্ত আসলে সেটি হায়েজ নয়,বরং সেটি ইস্তেহাজা তথা অসুস্থতা।
এই সময়ে নামাজ রোযা আদায় করতে হবে।    
হজরত হান্নাদ [রহ] আম্মাজান আয়েশা [রা]-এর হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, ফাতিমা বিনতে হুবাইশ নামক এক নারী একবার রাসুল [সা]-এর সমীপে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসুল, আমি একজন ইস্তেহাযাগ্রস্ত মেয়ে। আমি তো পাক হই না। তাই আমি কি নামাজ পড়া ছেড়ে দেবো? রাসুল [সা] বললেন, না, কারণ এ রক্ত হায়েযের নয়; বরং এ হলো শিরা থেকে বেরিয়ে আসা রক্ত। সুতরাং যখন তোমার হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলি আসে তখন সে দিনগুলি নামাজ ছেড়ে দেবে। আর হায়েযের দিন চলে গেলে তোমার রক্ত ধুয়ে নেবে এবং নামাজ আদায় করবে। [তিরমিজি, হাদিস-১২৫]
,
আরো জানুনঃ   

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ৩ তিন,আর সর্বোচ্ছ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬)  

হাদীস শরীফে এসেছে   
أقل الحیض للجاریۃ البکر والثیب ثلاثۃ أیام ولیالیہا وأکثرہ عشرۃ أیام
دار قطني، السنن، 1: 219، رقم: 61
রাসুল সাঃ বলেন  মহিলাদের হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা হলো ৩ দিন ৩ রাত,সর্বোচ্চ সীমা হলো ১০ দিন ১০ রাত।

হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক,সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। 
উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা।
(কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)

তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,

عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "

তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।(মুয়াত্তা মালিক-১২৭)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরন মতে আপনি মার্চের ১৩ তারিখ হতে ২১ তারিখের যেই সময় ব্লাড দেখেছেন,সে সময় পর্যন্ত এই দিনগুলিকে হায়েজ ধরবেন। 

এপ্রিলের ২ তারিখে রক্ত যাওয়া শুরু হয়েছে,৫ তারিখ পর্যন্ত এটিকে আপনি ইস্তেহাজা ধরবেন। 

এপ্রিলের ৬ তারিখ হতে ব্লিডিং বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত আপনি এটিকে হায়েজ ধরবেন। 

এপ্রিলের ৬ তারিখ হতে যদি ব্লিডিং ১০ দিন অতিক্রম করে, সেক্ষেত্রে পূর্বের মাসের অভ্যাস অনুপাতে ৯ দিন হায়েজ ধরবেন। 
পরবর্তীতে দিন গুলিকে ইস্তেহাজা ধরবেন। 

(০২)
উক্ত স্বপ্নে ইঙ্গিত হচ্ছে যে, নিজ ঈমান আমল এবং রিজিকের ঘাটতি রয়েছে এবং এখনই সংশোধন ও তাওবাহ না করলে (আল্লাহ না করুন) ভবিষ্যতে আরো অভাব অনটন আসতে পারে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...