জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم
মহান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ
وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۚ ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
“আর যেসব মুহাজির ও আনসার (ঈমান আনয়নে) অগ্রবর্তী এবং প্রথম, আর যেসব লোক সরল অন্তরে তাদের অনুগামী, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও তাতে সন্তুষ্ট। তিনি তাদের জন্য এমন। উদ্যানসমূহ প্রস্তুত করে রেখেছেন, যার তলদেশে নদীমালা প্রবাহিত; যার মধ্যে তারা চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে, এ হল বিরাট সফলতা।” (তাওবাহঃ ১০০)।
ইবনে মাসউদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ يَجِيءُ أَقْوَامٌ تَسْبِقُ شَهَادَةُ أَحَدِهِمْ يَمِينَهُ، وَيَمِينُهُ شَهَادَتَهُ
“সর্বোত্তম যুগ হল আমার (সাহাবীদের) শতাব্দী। অতঃপর তৎপরবর্তী (তাবেয়ীদের) শতাব্দী। অতঃপর তৎপরবর্তী (তাবেতাবেয়ীনদের) শতাব্দী। অতঃপর এমন সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে, যাদের একজনের কসমের আগে সাক্ষি হবে, আবার সাক্ষির আগে কসম। হবে।”
(বুখারী ২৯৫২, মুসলিম ২৫৩৩নং হাদীস)
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের উল্লেখযোগ্য আক্বিদা-বিশ্বাস এর মধ্যে অন্যতম হলোঃ
সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম সত্যের মাপকাঠি।এবং তাদের স্ব স্ব অবস্থানে সঠিক। তাদের মধ্য থেকে কাউকে মন্দ বলা যাবে না।এবং কটাক্ষ করাও যাবে না।তাদের মধ্যকার পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ নিছক তাদের নিজস্ব ব্যাপার।উক্ত ঝগড়ায় শরীক হয়ে কারো পক্ষাবলম্বন করা যাবে না।বরং সর্বদা নিজেকে এই স্পর্শকাতর বিষয় থেকে আগলিয়ে রাখতে হবে।
বিস্তারিত জানুনঃ-
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বিদা হল-সাহাবায়ে কেরাম সমলোচনার উর্দ্ধে। তাদের দোষ বর্ণনা করা হারাম ও কবিরা গুনাহ”। (শরহুল আকায়েদ পৃষ্ঠা ৩৫২)
মহান রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন-আমি [সাহাবাদের] তাদের প্রতি সন্তুষ্ট আর তারাও আমার অনুগত। {সূরা তাওবা-১০০}
রাসূল সাঃ সাহাবাদের সম্পর্কে বলেন-আমার সাহাবীরা তারকাতুল্য। তোমরা যারই অনুসরণ করবে হেদায়েত পেয়ে যাবে। {কানুযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-১০০২, জামেউল আহাদীস, হাদীস নং-২৪৩৫৫}
আরো জানুনঃ-
একদিন হযরত আমীর মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু দরবারে উপস্থিত সবাইকে বললেন, যে ব্যক্তি হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু’র প্রশংসায় যথাযোগ্য কবিতা আবৃত্তি করবে, আমি তাকে প্রতিটি কবিতার বিনিময়ে হাজার দিনার দান করব।
উপস্থিত কবিগণ হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু’র শানে কবিতা আবৃত্তি করে প্রচুর পুরষ্কার লাভ করলেন। কিন্তু হযরত আমীর মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু প্রতিটি কবিতা ও ছন্দ শ্রবণ করার পর বলতেন- علیّ افضل منہ (আলীয়্যুন আফদ্বালু মিনহু) অর্থাৎ, “আলী এর চেয়েও অনেক উত্তম”। অতঃপর উক্ত মজলিসে আমর বিন আস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু’র প্রশংসায় এমন একটি কবিতা আবৃত্তি করলেন, যা হযরত আমীরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু’র নিকট পছন্দ হল, ফলে ঐ কবিতার বিনিময়ে উক্ত কবিকে হযরত আমীরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু সাত হাজার দিনার পুরষ্কার প্রদান করলেন।
হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু সিফ্ফীনের যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর আমীরে মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু সম্পর্কে ইরশাদ করেন-
ایھا الناس لا تکرہ امارۃ معاویۃ فانکم لوفقد تموہ رایتم الرؤس تنذر عن لواھلھا کانّما الحنظل-
অর্থাৎ, “হে লোক সকল! তোমরা আমীরে মুয়াবিয়ার শাসন এবং নেতৃত্বকে অপছন্দ করোনা”। যদি তোমরা তাঁকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দাও, তবে তোমরা দেখবে ধড় থেকে মাথা এমন ভাবে কেটে পড়েছে, যেভাবে হান্জল (এক প্রকারের তিক্ত ফল) গাছ থেকে পতিত হয়।
[সূত্রঃ আল-বিদায়া; ৮ম খন্ড, ১৩১ পৃঃ।]
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন,
আমীরে মুওয়াবিয়া রাঃ সম্পর্কে এগুলো মিথ্যা অভিযোগ।এসম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন-
তাকী উসমানি লিখিত
আদালতের কাঠগড়ায় হযরত মুওয়াবিয়া।