আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
105 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (35 points)
আসসালামু আলাইকুম
আমার বয়স প্রায় ২২/২৩,আমার বাবা মা গ্রামে থাকে,আমি ঢাকায় আমার নানার বাড়িতে বড় হয়েছি,নানাভাই মারা গেছে,আমার নানার আর্থিক অবস্থা মোটামুটি ভালো আলহামদুলিল্লাহ,আমার বাবার ফ্যামিলি একটু নিম্ন মধ্যবিত্ত বলা যায়,আমার বাবার হার্ট এর অপারেশন হয়েছে,এখন বেশি কাজ কর্ম করতে পারে না,আমার মা পৈতৃক সূত্রে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে ভাড়া পায়,আলহামদুলিল্লাহ, বারাকাল্লাহ,১০/১১ হাজারের মত,এসব দিয়ে আমার বাবা মা চলে,আমার ছোট ভাইয়ের পড়ার খরচ চলে আলহামদুলিল্লাহ,আমি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম নানুর বাড়ি থেকে,আম্মু আগে ভাড়ার টাকা নিত না,এখন সমস্যা দেখে নিয়ে যায়,আমি নানুর বাড়িতে আছি,নানু মামা মামির সংসারে,খরচ নানু মামাদের,আমার থাকার কোন খরচ দেয়া হয় না,কিন্তু আমি যে আছি তারা এটা পছন্দ করছে না,আমাকে ঠিকমত খাবার দেয় না,দুই চামচ ভাত দেয়,আমার প্লেটের দিকে তাকিয়ে থাকে,আমার কষ্ট হয়ে যায়...একদিন মাথা ঘুরে পড়ে গেছি,আমার জ্বিনের সমস্যা আছে একটু,ওয়াসওয়াসার সমস্যা আছে, এসব কারণেও পড়তে পারি,আমার ওজন কম,স্বাস্থ্যের জন্য নাকি ভালো বিয়ের প্রস্তাব চাইতে পারে না,জ্বিনের সমস্যা ২০২৪ এর দিকে অনেক বেড়ে গেছিলো,তখন পড়াশুনা বন্ধ করে গ্রামে চলে যাই বাবা মায়ের কাছে,তারা আমাকে জোরপূর্বক কবিরাজের কাছে নিয়ে গেছে,মারধর করেছে, কটু কথা তো আছেই।

নিয়মিত চাকরির প্রেসার দেয়,টাকার সমস্যা তো আছেই,সহশিক্ষা দেখে আর পড়াশুনা করার চেষ্টা করিনি, এখন আর পড়াতে ও চায় না,আমাকে সুপার শপে চাকরি করতে বলে,সুপার শপে চাকরি করলে পর্দা হয় না,তার সাথে আমার ওয়াসওয়াসা অজু ভেঙে যাওয়ার সমস্যা আছে,এসব নিয়ে চাকরি করা ও কঠিন,পুরুষদের সাথে কথা বলতে হয়,টাকা ইনকাম করে যদি নানুদের খাওয়ার খরচ দেই তাহলে থাকলে হয়তো তারা কিছু বলবে না,কিন্তু তাদের সাথে থাকার আমার কোন ইচ্ছা হয় না,আমার আত্মমর্যাদায় আঘাত লেগেছে,মামি নিজের আলাদা সংসার চায়,আমার ওয়াসওয়াসার সমস্যা আছে,তাই মামার বাচ্চাকে কোলে নেই না,রাখি না, প্রসাব করে দিলে অনেক সমস্যায় পড়বো তাই,এতে মামি অসন্তুষ্ট ,মামা আমার সাথে কথা বলে না,খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া,নানুও আমাকে বেশি পছন্দ করে না,উনি ই আমাকে ঠিকমত খাবার দেয় না,একবেলা খাবার খেতে ডাকলে আরেক বেলা খাবো কিনা জিজ্ঞেস করে,আমি ওনাকে রান্নাবান্নায় ও সাহায্য করি না,তাই হতে পারে,কারণ আছে নিজের কাজকর্ম আর বারবার অজু করতে করতে তেমন সময় সুযোগ হয় না,অতি চেষ্টা করলে হয়তো পারব ইন শা আল্লাহ।আমি গ্রামে গিয়ে থাকতে পারি না,ওখানে গেলে কলপারে কাপড় ধোয়া আমার অনেক কষ্ট হয়,পর্দা করা ও কষ্ট হয়,আমার বোরকা নিয়ে ও টানাটানি হয়, আমার জন্য গ্রামে পাত্র দেখতেছে,এখন আমাকে ছবি দেয়ার জন্য প্রেসার দিতেছে,আমার বাবা আমার মাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করতেছে, হাদিসকে গালাগালি করে,আমি সামনে থাকলে আমাকে মারতে আসে,ভীষণ কষ্ট দেয়। আমি বাড়ি গেলে নাকি আমার বাবা আমাকে কোপাবে আমার খালা বলছে, খাওয়ার কষ্ট হচ্ছে তাই বাড়ি চলে যেতে চাইছিলাম,আর ওনারা ও পছন্দ করতেছে না।

এটা মোটামুটি আমার পরিস্থিতি বর্ণনা করার চেষ্টা করেছি।

১.আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই অবস্থায় আমার করণীয় কী?

২.আমাকে ছবি দেয়ার জন্য প্রেসার দিচ্ছে,ছবি দিলে হয়তো সবাইকে দেখাবে,পর্দার প্রতি গর্জ নেই,বলতেছে যদি ১০ টা পাত্র দেখতে আসে ,প্রতিটা পাত্রের জন্য রান্নাবান্না করে মিনিমাম দুই হাজার টাকা খরচ করতে হবে,তাই সবাইকে ছবি দিতে হবে,বাড়ি গেলে এর জন্য আমার ওপর অমানবিক অত্যাচার করবে, ছবি কি দিবো?শুধু মুখের ছবি।

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
(১) ধৈর্যসহকারে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন।

(২)
যদি কেউ কোনো মহিলাকে বিয়ে করার পূর্ণ ইচ্ছা করে নেয়,তাহলে ঐ মহিলাকে দেখতে পারবে।কথা বলতে পারবে।
হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি থেকে বর্ণিত,
(إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمْ الْمَرْأَةَ ، فَإِنْ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى مَا يَدْعُوهُ إِلَى نِكَاحِهَا ، فَلْيَفْعَلْ)
যদি কেউ কোনো মহিলাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে চায়,তাহলে সে যেন যযথাসম্ভব ঐ মহিলাকে দেখে নেয়।(সুনানু আবি দাউদ-২০৮২)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/29724

বিয়ের প্রস্তাব প্রদানের পূর্বে বায়োডাটা প্রেরণ করা হবে।তবে ছবি প্রেরণ করা যাবে না।বরং পাত্র পক্ষের কোনো এক মহিলা সরাসরি পাত্রীকে দেখে আসবে।

আর প্রস্তাব দেয়ার পর যথাসম্ভব সরাসরি দেখার চেষ্টা করা হবে।কেননা যে হেকমতে পাত্রী দেখার কথা বলা হচ্ছে,সেটা একমাত্র সরাসরি দেখার মাধ্যমেই সম্ভব হবে।হ্যা কোনো কারণে(যেমন পাত্র থেকে পাত্রী অনেক দূরে অবস্থানরত)যদি পাত্র-পাত্রীকে সরাসরি দেখা সম্ভব না হয়,তাহলে ভিডিওকলের মাধ্যমে নিম্নোক্ত লিংকে বর্ণিত শর্তাদির সাথে দেখা যেতে পারে।কেননা ছবির তুলনায় ভিডিওর হুকুমে কিছুটা শীতিলতা রয়েছে।বিস্তারিত জানুন-https://www.ifatwa.info/2898

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনি ভিডিওকলে পাত্র বা পাত্রের মা বোনদের সাথে কথা বলে নিতে পারেন। ভিডিওকলে কথা বলা সম্ভব না হলে, তখন ছবি দিতে পারবেন।এক্ষেত্রে যদি অন্য কেউ দেখে নেয়, তাহলে যিনি দেখবেন,ও যারা অন্যকে দেখাবেন, তাদের গোনাহ হবে। আপনার এক্ষেত্রে কোনো গোনাহ হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...