আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
103 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (3 points)
আসসালামুয়ালাইকুম হুজুর
হুজুর আমার হাসবেন্ড প্রবাসে থাকেন বিয়ের পর ৩ মাস দেশে থাকেন পরে উনি প্রায় ৪ বছর পর দেশে আসেন দেশে এসে উনি আমাকে সময় দিতেন না শুধু মাত্র রাতে সময় দিতেন।

একদিন দিনের বেলায় আমার হাসবেন্ডের সাথে আমার ঝগড়া হয় আমাকে উনি সময় দেন না এই নিয়ে আর আমার শাশুড়ী আর ননাস আমার বিরুদ্ধে সারাক্ষণ বদনাম করেন আমার হাসবেন্ডের কাছে আমার হাসবেন্ড কোনো প্রতিবাদ করেন না এই নিয়ে আমাদের ঝগড়া হয়েছিল পরে রাতের বেলায় আমি আমার হাসবেন্ড বিছানায় শুয়ে আছি আমার হাসবেন্ড আমার রাগ ভাঙ্গানোর চেষ্টা করতে ছিলেন আমি রাগ করে আমার উপর থেকে উনার হাত সরাইয়া দিছি উনি আমাকে বললেন আমাকে কি তোমার বিরক্ত লাগছে আমি বললাম না পরে উনি বলছেন তাহলে এমন ব্যবহার কেন করেছো আমি কিছু বলি না পরে উনি কাত হয়ে শুয়ে হস্তমৈথুন করতেছেন আমি বললাম আমাকে পাশে রেখে আমি হস্তমৈথুন করতেছেন আপনার লজ্জা লাগে না এটা ঠিক না করা উনি বললেন তোমাকে টাচ করা হারাম পরে আমি উনার মুখ চেপে ধরি বললাম আর কোনোদিন এই ধরনের কথা বলবেন না আমি যে উনার হাত সরাছি এ জন্য রাগে এই কথা বলেছেন। উনার তালাকের কোনো নিয়ত ছিলনা।
আমার প্রশ্ন হলো আমার হাসবেন্ড যে বললেন তোমাকে টাচ করা হারাম এই কথা বলায় কি আমাদের তা***** হয়েছে??দয়া করে জানাবেন হুজুর চিন্তায় আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি।আর আপনি বুঝে নিবেন হুজুর আমার ভয়ে ফুল শব্দ লিখতে পারছি না।

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
হাদীস শরীফে এসেছেঃ 
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: الطَّلَاقُ، وَالنِّكَاحُ، وَالرَّجْعَةُ “
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, তিনি বিষয় এমন যে, ইচ্ছেকৃত করলে ইচ্ছেকৃত এবং ঠাট্টা করে করলেও ইচ্ছেকৃত বলে ধর্তব্য হয়। তা হল, তালাক, বিবাহ এবং তালাকে রেজয়ীপ্রাপ্তা স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২০৩৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২১৯৪}


أفتى المتأخرون فى “انت على حرام” بأنه طلاق بائن للعرف بلا نية (رد المحتار، زكريا-4\466، كرتاشى-3\253)
মুতায়াখখিরিনে উলামায়ে কেরামগন ফতোয়া প্রদান করেছেন "তুমি আমার উপর হারাম" বললে নিয়ত ছাড়াই বায়েন তালাক পতিত হবে। 
সমাজের প্রচলনের কারনে।(ফাতাওয়ায়ে শামী ৪/৪৬৬)

في البحر الرائق: لو قال لها: أنت علي حرام، والحرام عنده طلاق وقع وإن لم ينو.(البحر الرائق، زكريا-3\523، كويته-3\300)

স্বামী যদি স্ত্রীকে বলে, তুমি আমার উপর হারাম। আর হারাম শব্দটি তালাকের অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই স্বামীর তালাকের নিয়ত না করলেও তালাক পতিত হবে। (আল-বাহরুর রায়িক : ৩/৫২৩)

فى الفتاوى التاتارخانيه: انت علي حرام والفتوى أنه يقع به البائن، وان لم ينو لغلبة الاستعمال.(تاتارخانية-4\448، رقم: 6637)
স্বামীর বক্তব্য “তুমি আমার উপর হারাম” এর দ্বারা তালাক বাইন পতিত হওয়ার উপরই হচ্ছে ফাতাওয়া। এ ধরনের বক্তব্যের বহুল ব্যবহার তালাকের জন্য হওয়ার দরুন স্বামী তালাকের নিয়ত না করলেও তালাকে বাইন পতিত হবে। (আল-ফাতাওয়াত তাতারখানিয়া : ৪/৪৪৮)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
সাধারণত হারাম শব্দ বললে নিয়ত ব্যতিতও তালাক হয়ে যায়। কেননা হারাম তখনই বলা যখন তালাক বা সংসার না করার দৃঢ় ইচ্ছা থাকে। তবে যদি কারো তালাকের নিয়ত না থাকে, বরং এমনিতেই হারাম বলে ফেলে, তাহলে কিন্তু দিয়ানাতান তালাক হবে না, হ্যা  কাযাআন তালাক হয়ে যাবে। 
في البحر الرائق: لو قال لها: أنت علي حرام، والحرام عنده طلاق وقع وإن لم ينو.وذكر الإمام ظهير الدين لا نقول لا تشترط النية ولكن نجعله ناويا عرفا.
স্বামী যদি স্ত্রীকে বলে, তুমি আমার উপর হারাম। আর হারাম শব্দটিকে সে তালাকের অর্থেই বুঝে থাকে তাহলে স্বামী তালাকের নিয়ত না করলেও তালাক পতিত হবে। ইমাম জহীরুদ্দীন রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমরা এ কথা বলি না যে, এ ক্ষেত্রে নিয়তের শর্ত নেই, নিয়ত ছাড়াই তালাক হয়ে যাবে। বরং আমরা বলি—সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এটি এমনিতেই নিয়ত হিসেবে গণ্য হয়ে যাবে। (আল-বাহরুর রায়িক : ৩/৫২৩)

সুতরাং আপনার স্বামী যদি তালাকের নিয়ত ব্যতিত বলে, তাহলে দিয়ানাতান তালাক হবে না। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...