আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
62 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (3 points)
edited by
আমার পরিবার একটা প্র্যাক্টিসিং ফ্যামিলি আলহামদুলিল্লাহ। আব্বু খুবই ধার্মিক একজন মানুষ।  আমাদের হার্ডওয়্যার ব্যবসা রয়েছে। দুভাগ্যবশত আমাদের ব্যবসা খুবই খারাপ যাচ্ছিলো। এমন পর্যায়ে গেছে যে এই ব্যবসা ছাড়তে বাধ্য হয়। নতুন করে আবার ব্যবসা শুরু করে। কিন্তু পুঁজি নেই। তাই ঋণ করে।সুদ ছাড়া কেউ ঋণ দেয় না আবার আমরাও সুদ নিয়ে ব্যবসা করব না। অনেকদিন এভাবে থাকার পর অবশেষে একজন সব বিবেচনা করে ৩ লাখ টাকা ঋণ দেয় তবে মাসে উনাকে কিছু বাড়তি দিতে হবে ব্যবসায় আমাদের যা লাভ হবে সেই সাপেক্ষে। উনাকে স্পষ্টভাবে বলা আছে আমরা সুদ দিব না। তাই উনি কোনো ফিক্সড এমাউন্ট বলে নি। কোনোমাসে আব্বু ৩ হাজার, কোনোমাসে ৪ হাজার টাকা দেয়। এভাবেই আরও একজনের কাছ থেকে আমরা ঋণ নেই। এভাবেই কোনোমতে চলছে ব্যবসা। আব্বুর যুক্তি হল, মানুষ বিনা স্বার্থে তো ব্যবসায় ইনভেস্ট করবে না। উনারা ব্যবসার লাভ হিসেবে এই টাকাটা নেয়। এখন আমার প্রশ্ন এটা কি আদৌ সুদের মধ্যেই পড়ল??? উল্লেখ্য পাওনাদারদের এটাও বলা আছে যে টাকার জন্য কোনো চাপ প্রয়োগও করা যাবে না এবং দলিলে উল্লেখ আছে যে এটা কোনোভাবেই সুদের আওতায় ধরা যাবে না।

(কিছুদিন যাবৎ মন খুবই অশান্ত। দুয়া করেও মনে হচ্ছে কবুল হচ্ছে না তাই এই প্রশ্নটা মাথায় এলো। কারণ হারাম উপার্জনে কখনো দুয়া কবুল হয় না)

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
রিবা বা সূদ কাকে বলে?
বর্ণিত রয়েছে  এ ব্যপারে উলামায়ে কেরামগণ একমত যে, প্রত্যেক ঐ ঋণ যা মুনাফাকে টেনে নিয়ে আসবে তাই রিবা বা সুদ হিসেবে পরিগণিত হবে।যেমন,
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﺑَﻜْﺮٍ ﻗَﺎﻝَ : ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺣَﻔْﺺٌ، ﻋَﻦْ ﺃَﺷْﻌَﺚَ، ﻋَﻦِ ﺍﻟْﺤَﻜَﻢِ، ﻋَﻦْ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ، ﻗَﺎﻝَ : « ﻛُﻞُّ ﻗَﺮْﺽٍ ﺟَﺮَّ ﻣَﻨْﻔَﻌَﺔً، ﻓَﻬُﻮَ ﺭِﺑًﺎ » ﻣﺼﻨﻒ ﺍﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺷﻴﺒﺔ
তরজমাঃ-প্রত্যেক ঐ ঋণ যা মুনাফাকে টেনে নিয়ে আসবে তাই রিবা বা সুদ। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ-২০৬৯০)

মুনাফার শর্তে ঋণ দিলে তা রিবার অন্তর্ভুক্ত।তবে শর্ত ব্যতীত যদি ঋণদার ঋণ পরিশোধের সময় কিছুটা বেশী দিয়ে দিলে তা রিবার অন্তর্ভুক্ত হবে না।বরং তা বৈধ-ই হবে। যেমন এক হাদীসে এসেছে,হযরত আবু হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত
عن ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﻗَﺎﻝَ : ﻛَﺎﻥَ ﻟِﺮَﺟُﻞٍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺳِﻦٌّ ﻣِﻦْ ﺍﻹِﺑِﻞِ ﻓَﺠَﺎﺀَﻩُ ﻳَﺘَﻘَﺎﺿَﺎﻩُ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ﺃَﻋْﻄُﻮﻩُ ، ﻓَﻄَﻠَﺒُﻮﺍ ﺳِﻨَّﻪُ ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺠِﺪُﻭﺍ ﻟَﻪُ ﺇِﻻ ﺳِﻨًّﺎ ﻓَﻮْﻗَﻬَﺎ ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ( ﺃَﻋْﻄُﻮﻩُ ، ﺇِﻥَّ ﺧِﻴَﺎﺭَﻛُﻢْ ﺃَﺣْﺴَﻨُﻜُﻢْ ﻗَﻀَﺎﺀً )
রাসূলুল্লাহ সাঃ এর কাছে জনৈক ব্যক্তির একটি বাচ্ছা বয়সী উট পাওনা ছিলো,অতঃপর যখন সে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাঃ এর কাছে এসে তা চাইলো।তখন রাসূলুল্লাহ সাঃ উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের প্রতি লক্ষ্য করে বললেনঃ উনার পাওনা উনাকে বুঝিয়ে দাও।সাহাবায়ে কেরাম (সদকার মালের মধ্যে খুজে)উক্ত ব্যক্তির পাওনা কমবয়সী উট পেলেন না।বরং তার থেকে একটু বেশী বয়সী উট পেলেন।তখন রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেনঃ তোমরা তা তাকে দিয়ে দাও,কেননা তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে ঋণ পরিশোধের সময় উদারতা প্রদর্শন করে।তথা অতিরিক্ত দিয়ে দেয়। (সহীহ বুখারী-২৩৯৩,সহীহ মুসলিম-১৬০০)

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1256

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনাদেরকে যারা ঋণ দিয়েছে, তারা যদি কোনোরূপ শর্ত না করে এমনিতেই ঋণ দিয়ে থাকে, এবং পরিশোধের সময় আপনার বাবা কিছুটা বেশী দিয়ে দেন, তাহলে এটা নাজায়েয হবে না। তবে ফিক্সড করে অতিরিক্ত কিছু নির্ধারণ করলে তা জায়েয হবে না। অতি নিরুপায় না হলে প্রচলিত লোন নেওয়া কখন জায়েয হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (3 points)
reshown by
আরেকটু ভেঙে বললে সুবিধা হতো হুজুর।
একবারে পরিশোধ করার আগ পর্যন্ত প্রতিমাসে ব্যবসার লাভের কিছু অংশ(৩/৪ হাজার টাকা) দিয়ে যেতে থাকলে তা তো সুদ হবে না, তাই না??

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...