আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
49 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (7 points)
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ

এই বিষয়ে বারবার জিজ্ঞাসা করার জন্য আমি খুব দুঃখিত ক্ষমা করবেন
আমার স্বামী একজন মাদকাশক্ত মানুষ। বিয়ের আগে দ্বীনদার দেখেই বিয়ে করা তার লেবাস দ্বীনি কথাবার্তা সব মিলায় আমাদের একরকম ধোকা দিয়েই সে বিয়েটা করছে। যাইহোক বিয়ের পর আমি বুঝতে পারিনি সে নেশা করে অনেক ইসলামিক কথা বলত আর সারারাত নেশা করত বাহিরে তার ব্যাবসার কাজের কথা বলে ১ মাস পরে আমি জানতে পারি সে নেশা করে এক ধরনের মাদক সেবন করে যেটাকে ডান্ডি বলে। আর এটা সরাসরি তার মস্তিষ্কে পৌছায় এখন তো সামনেই নেশা করে। বিয়ের পর যখন জানতে পারি সে নেশা করে তখন তার পরিবার বা আমি মানা করলে সবাইকে ধরে মারে তার সাথে পারা যেতনা আমাকে গর্ভবতী অবস্থায় মেরে রক্তাক্ত করে দিছিল তার নেশা করার কথা আমি আমার মা বাবাকে বলছিলাম দেখে। পরে ৩ মাস তার থেকে দূরে বাবার বাসায় ছিলাম সবাই মিলে শাসনে রাখছিল যাতে নেশা করা ছেড়ে দেয়। সে মিথ্যা কথা বলে অনেক ফুসলিয়ে কান্না করে আমাকে নিয়ে আসে যে আর মারবেনা নেশা করবেনা। এখন সে নিজেই বলে আমি গর্ভবতী দেখে সে আমাকে মারেনা আগে নেশা করতে মানা করতাম তাই আমার উপর মানসিক টর্চার করত এখন আর কিছু বলিনা এই ভয়ে আমাকে না কিছু করে বা রেগে গেলে তার মাথা ঠিক থাকেনা তাই চুপ থাকি। এমনিতে সে অনেক ভালো অনেক ভালোবাসে কেয়ার করে হেল্প করে সব চাহিদা পূরন করে। কিন্তু নেশার কারনে তার মধ্যে কোনো কিছু করার প্রবনতা নাই শুধু বৌ বা বাবার টাকায় বসে খেতে চায়। দ্বীন ইসলাম বলতে আমাকে পর্দায় রাখছে হেল্প করে এটুকুই তার মধ্যে দ্বীনের কিছু নেই। আমাকে বাড়ির মহিলাদের সাথেও মিশতে দেয়না। সে সবার সামনেই নেশা করে সবাই দেখে কিন্তু এটা সে স্বীকার করেনা উল্টা আমি যদি আমার মা বাবাকে বলি আমি নাকি তার সম্মান নষ্ট করতেছি। ভালো চাকরির যোগ্যতা থাকা সত্যে ও করবেনা আমার ইনকামের টাকায় বসে বসে খাবে তবে আমার ভরপোষন সব পূরন করে ধার করে হলেও। মুরগীর খামার দিচ্ছে যেটাতে কোনো কাজ নাই এভাবে কতদিন। সামনে আমাদের সন্তান আসতে যাচ্ছে এই অবস্থায় আমার কি করা উচিৎ? আমার ইনকামের টাকাতেই সে নেশা করে এতে কি আমার গুনাহ হচ্ছে? আমার বাবা মায়ের ও তেমন সামর্থ নেই তাদের কাছে গিয়ে থাকব কিন্তু এভাবে কতদিন চুপ করে থাকব? বাচ্চা হলে তাকে কি পরিবেশ দিব? এই অবস্থায় আমার করনীয় কি? ইনকাম সোর্স ও নাই যে তাকে রিহাবে দিব আর রিহাবে দিলে সে আমাকে কোনোদিন ক্ষমা করবেনা যদি জানতে পারে কারন তার লেবাস দিয়ে সে সম্মান নিয়ে চলে সমাজে। এখন আমার করনীয় কি

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

তালাক হচ্ছে স্বামীর অধিকার। স্বামী তালাক দিলেই তালাক সংঘটিত হবে। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ مُوسَى بْنِ أَيُّوبَ الْغَافِقِيِّ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ سَيِّدِي زَوَّجَنِي أَمَتَهُ وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنِي وَبَيْنَهَا قَالَ فَصَعِدَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَا بَالُ أَحَدِكُمْ يُزَوِّجُ عَبْدَهُ أَمَتَهُ ثُمَّ يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنَهُمَا إِنَّمَا الطَّلَاقُ لِمَنْ أَخَذَ بِالسَّاقِ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমার মনিব তার বাঁদীকে আমার সাথে বিবাহ দিয়েছে। এখন সে আমার ও আমার স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করলেন, অতঃপর বলেনঃ হে লোকসকল! তোমাদের কারো এরূপ আচরণ কেন যে, সে তার গোলামের সাথে তার বাঁদীর বিবাহ দেয়, অতঃপর তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়? নারীর ঊরু স্পর্শ করা যার জন্য বৈধ, তালাকের অধিকার তার।
(সুনানে ইবনে মাজাহ ২০৮১.বায়হাকী ৯/১৫৭, ইরওয়াহ ২০৪১।)

★শরীয়তের বিধান অনুযায়ী  মহিলা নিজের উপর কেবল তখনি তালাক পতিত করতে পারবে, যদি স্বামী তাকে তালাক দেবার অধিকার দিয়ে থাকে।
এটি নিকাহ নামার ১৮ নং ধারাতে হ্যাঁ লেখার মাধ্যমেই হোক,বা পরবর্তীতে মৌখিক বা লিখিত ভাবেই হোক।
,  
সুতরাং স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা প্রদান করে,আর স্ত্রী স্বামী কর্তৃক তালাকে তাভবিজের ক্ষমতাবলে লিখিত বা মৌখিকভাবে নিজের নফসের উপর তালাক দিয়ে দিলে সেটি পতিত হয়ে যাবে।

আরো জানুনঃ 

ফাতাওয়ায়ে শামীতে আছেঃ
   
قال لھا: طلقي نفسک ولم ینو أو نوی واحدة فطلقت وقعت رجعیة الخ (الدر المختار مع رد المحتار، کتاب الطلاق، باب الأمر بالید، ۴: ۵۷۵، ط: مکتبة زکریا دیوبند)۔
সারমর্মঃ
কেহ যদি তার স্ত্রীকে বলে,তুমি তোমার নিজের নফসকে তালাক দাও,কোনো নিয়ত না করে,অথবা এক তালাকের নিয়ত করে,অতঃপর স্ত্রী তালাক দেয়,তাহলে এক তালাকে রজয়ী পতিত হবে।     

رجل قال لامرأتہ خذي طلاقک، فقالت: أخذت، یقع الطلاق۔ (الفتاویٰ الہندیۃ، کتاب الطلاق / الفصل الثاني في إیقاع الطلاق ۱؍۳۵۹)
সারমর্মঃ
কোনো ব্যাক্তি যদি তার স্ত্রীকে বলে,তুমি তোমার তালাক গ্রহন করো।
স্ত্রী যদি বলে যে গ্রহন করলাম,তাহলে তালাক পতিত হয়ে যাবে।    

’’ ولو قال اختاری فقالت أنا اختارنفسی طلق ‘‘ ( الھدایۃ : ۲/۳۷۷)
সারমর্মঃ
স্বামী যদি বলে (তালাক সংক্রান্ত)  তোমার ইখতিয়ার,বা তোমার ইচ্ছা।
স্ত্রী যদি বলে আমি নিজের নফসের প্রতি ইখতিয়ার করলাম,তাহলে তালাক পতিত হবে। 
আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
আপনি ধৈর্য্য সহকারে পরিস্থিতির মোকাবেলা করুন। স্বামীকে বুঝিয়ে শুনিয়ে নেশা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করুক। শতচেষ্টার পরও যদি কোনো প্রকার সমাধান না আসে, তাহলে পারিবারিকভাবে বিচার পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করুন যদি সেটা সম্ভবপর হবে না। সবচেষ্টা ব্যর্থ হলে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে তার থেকে তালাক গ্রহণ করে নিতে পারেন।

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

No related questions found

...