আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
28 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ উস্তায

আমার যাকাত বিষয়ে কয়েকটা প্রশ্ন ছিল,উত্তরগুলো দিলে মুনাসিব হয় ইন-শা-আল্লাহ

১) আমি ফ্ল্যাট কিনতেছি, সেই টাকা কিছু পরিশোধ করেছি, বাকি টাকাও ক্যাশ আছে সেটা মাসে মাসে কিস্তিতে শোধ করব, এখন সেই ক্যাশ টাকার উপর কি যাকাত আসবে?

২)আমি উমরাহতে যাওয়ার জন্যে টাকা জামাচ্ছি, সেটা নিসাব অতিক্রম করেছে সেই টাকার উপরে কি যাকাত আসবে?

৩) বছর শুরুতে আমার কাছে নেসাব পরিমাণ টাকা ছিল না, কিন্তু বছর শেষে নিসাব অতিক্রম করেছে, এখন সেই টাকার উপর যাকাত আসবে কিনা?

1 Answer

0 votes
by (762,630 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
https://www.ifatwa.info/14383/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
শরীয়তের বিধান হলো কাহারো ঋণ যদি এত হয় যা বাদ দিলে তার কাছে নিসাব পরিমাণ যাকাতযোগ্য সম্পদ থাকে না তাহলে তার ওপর যাকাত ফরয নয়। (মুয়াত্তা মালেক ১০৭; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০০৩, ৭০৮৬, ৭০৮৯, ৭০৯০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৫৪৭-৫৪৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৮৩)
,
কিন্তু এখানে মনে রাখতে হবে যে, এই প্রসিদ্ধ মাসআলাটি সকল ঋণের ক্ষেত্রে নয়। 

ঋণ দুই ধরনের হয়ে থাকে।
 ক. প্রয়োজনাদি পূরণের জন্য বাধ্য হয়ে যে ঋণ নেওয়া হয়। 
খ. ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে যে ঋণ নেওয়া হয়।
,
প্রথম প্রকারের ঋণ সম্পদ থেকে বাদ দিয়ে যাকাতের নিসাব বাকি থাকে কিনা তার হিসাব করতে হবে। নিসাব থাকলে যাকাত ফরয হবে, অন্যথায় নয়। 
,
কিন্তু যে সকল ঋণ উন্নয়নের জন্য নেওয়া হয় যেমন কারখানা বানানো, কিংবা ভাড়া দেওয়া বা বিক্রি করার উদ্দেশ্যে বিল্ডিং বানানো অথবা ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ঋণ নিলে যাকাতের হিসাবের সময় সে ঋণ ধর্তব্য হবে না। অর্থাৎ এ ধরনের ঋণের কারণে যাকাত কম দেওয়া যাবে না। 
(মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৮৭)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে উক্ত ক্রয় বিক্রয় যদি সম্পন্ন না হয়ে থাকে,সেক্ষেত্রে সেই ক্যাশ টাকার উপর যাকাত আসবে।

আর যদি উক্ত ক্রয় বিক্রয় সম্পন্ন হয়ে থাকে, শুধু টাকা দেয়া কিছু বাকি থাকে, তাহলে তো এমতাবস্থায় আপনি তার কাছে ঋণী।

এক্ষেত্রে সেই ফ্লাট ক্রয় যদি আপনার জন্য বিশেষ প্রয়োজনীয় হয়, এছাড়া বসবাসের কোন জায়গা যদি আপনার মালিকানায় না থাকেসেক্ষেত্রে  প্রয়োজনাদি পূরণের জন্য বাধ্য হয়ে এই ঋণ নেওয়া হয়েছে বলে গন্য হবে।

এমতাবস্থায় সেই ঋণের যত টাকা রয়েছে তার ওপর যাকাত ফরজ হবে না।

অন্যথায় তার উপরেও যাকাত ফরজ হবে।

আপনার বাৎসরিক লোন বাবদ পরিশোধ কৃত টাকা ব্যতিত যত টাকা আপনার হাতে ঋণ নেয়া বাবদ অবশিষ্ট আছে, এর উপর আপনার যাকাত আদায় করতে হবে। কারণ দীর্ঘমেয়াদী ঋণ থাকা যাকাত আবশ্যক হবার জন্য প্রতিবন্ধক নয়।

(০২)
হ্যাঁ, তার উপর যাকাত আসবে।

(০৩)
যেদিন আপনি নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক হয়েছেন,সেদিন হতে আপনার বছর গণনা শুরু করতে হবে।

বছর পূর্ণ হওয়ার দিন আপনার মালিকানায় নেসাব পরিমান সম্পদ থাকলে সেক্ষেত্রে আপনার উপর যাকাত ফরজ হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...