আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
104 views
in সাওম (Fasting) by (14 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ

১.শায়খ আহমাদুল্লাহ  হুযুরের একটা ফাতওয়ায় দেখলাম তিনি বলছেন-মাস্টারবেশনের কারনে রোজা ভেঙে যায় এবং হানাফি ফিকহ মতে, পরবর্তীতে সেই রোজার কাযা এবং কাফফারা উভয়ই আদায় করতে হয়।

আবার অন্যকিছু জায়গায় দেখেছি  মাস্টারবেশনের কারনে ভেঙে যাওয়া রোজার শুধু কাযা আদায় করলেই হয়,কাফফারা প্রযোজ্য না।

সঠিকটা জানালে উপকৃত হই।

২.কারো পক্ষে টানা ২ মাস রোজা রাখা সম্ভব না হলে,সে কি একজন মিসকিনকে ৬০ টা ফিতরার সমপরিমাণ টাকা দিয়ে  দিলে তার কাফফারা আদায় হয়ে যাবে?অথবা সেই টাকা যদি নিজের  অসহায় আত্মীয়-স্বজন এমনকি নিজের পিতা-মাতাকে কাফফারা আদায় করার নিয়তে দিয়ে দেয়া যায় তাহলে কি কাফফারা আদায় হবে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
https://ifatwa.info/16560/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
শরীয়তের বিধান হলো যদি রোযাদার হস্তমৈথুনের কারনে বীর্যপাত করে,তাহলে রোযা ভেঙ্গে যাবে।

এক্ষেত্রে শুধু কাজা ওয়াজিব হবে।
কাফফারা আদায় করতে হবেনা।  

আর এটা যে ভয়াবহ গুনাহের কাজ তা বলাই বাহুল্য।
হাদীস শরীফে কামেচ্ছা চরিতার্থ করা থেকে বিরত থাকাকে রোযার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ঐ সত্ত্বার কসম, যার হাতে আমার জান। রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহ তাআলার নিকট মেশকের চেয়েও বেশি প্রিয় (আল্লাহ তাআলা বলেন,) রোযাদার আমার জন্য পানাহার করা থেকে এবং কামেচ্ছা চরিতার্থ করা থেকে বিরত থাকে।-সহীহ বুখারী ১/২৫৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭২; ফাতাওয়া শামী ২/৩৯৯

الصَّائِمُ إذَا عَالَجَ ذَكَرَهُ حَتَّى أَمْنَى يَجِبُ عَلَيْهِ الْقَضَاءُ، وَهُوَ الْمُخْتَارُ كَذَا فِي التَّجْنِيسِ والولوالجية وَبِهِ قَالَ عَامَّةُ الْمَشَايِخِ كَذَا فِي النِّهَايَةِ (البحر الرائق، كتاب الصوم، باب ما يفسد الصوم وما لا يفسده-2/475، وكذا فى الهندية-1/205، الباب الرابع فيما يفسد وما لا يفسد، كتاب الصوم(

সারমর্মঃ

রোযাদার যদি নিজ লিঙ্গকে চেষ্টা (মৈথুন) করে,তাতে যদি বীর্যপাত হয়ে যায়,তাহলে রোযার  কাজা আদায় করা ওয়াজিব হবে।
,
★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। কাফফারা নয়।

(০২)
الدر المختار: (480/3، ط: دارالفکر)
(ولو أباحه كل الطعام في يوم واحد دفعة أجزأ عن يومه ذلك فقط) اتفاقا (وكذا إذا ملكه الطعام بدفعات في يوم واحد على الأصح) ذكره الزيلعي، لفقد التعدد حقيقة وحكما.

الفتاوی الھندیة: (514/1، ط: دارالفکر)
فإن غداهم وعشاهم وأشبعهم جاز سواء حصل الشبع بالقليل أو الكثير كذا في شرح النقاية لأبي المكارم. فلو غداهم يومين أو عشاهم كذلك أو غداهم وسحرهم أو سحرهم يومين أجزأه كذا في البحر الرائق. وأوفقها وأعدلها الغداء، والعشاء كذا في غاية البيان.
لو غدى ستين وعشى ستين غيرهم لا يجزيه إلا أن يعيد على أحد الستينين منهم غداء وعشاء كذا في التبيين

رد المحتار: (479/3، ط: دارالفکر)
فالشرط في طعام الإباحة أكلتان مشبعتان لكل مسكين ولو كان فيهم شبعان قبل الأكل، أو صبي غير مراهق لم يجز بحر وسيأتي أيضا

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
কোনো ব্যাক্তির উপর রোযার কাফফারা আবশ্যক হয়েছে,তবে তার পক্ষে টানা ২ মাস রোজা রাখা সম্ভব না হলে,সে একজন মিসকিনকে ৬০ টা ফিতরার সমপরিমাণ টাকা ৬০ দিনে দিয়ে দিলে তার কাফফারা আদায় হয়ে যাবে।

অর্থাৎ প্রতিদিন একটি করে ছদকায়ে ফিতর সমপরিমাণ টাকা ওই মিসকিনকে দিতে হবে।

সেই টাকা যদি নিজের অসহায় কোনো এক আত্মীয়-স্বজন (যাকে নিজের যাকাত দেয়া যায়,তাকে) ৬০ দিন প্রতিদিন একটি করে ছদকায়ে ফিতর সমপরিমাণ টাকা দিতে পারবে। 

★নিজের পিতা-মাতাকে কাফফারা আদায় করার নিয়তে দেয়া হলে এতে কাফফারা আদায় হবেনা।  


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 240 views
0 votes
1 answer 98 views
...