আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
97 views
in সুন্নাহ-বিদ'আহ (Sunnah and Bid'ah) by (12 points)

আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

ইসলামী শরীয়তে পুরুষদের লাঠি হাতে রাখার ব্যাপারে আপনাদের মতামত, শরীয়তের নির্দেশনা জানতে চাচ্ছি।

কিছু আলেম বলেন নবী মাঝে মাঝে লাঠি বা ছড়ি ব্যবহার করতেন, তাই এটি সুন্নাহ। একাধিক হাদিসে এসেছে যে নবী এর কাছে আসা (লাঠি) থাকত। রাসূলুল্লাহ একটি লাঠি (আসা) বহন করতেন এবং তা সামনে রেখে নামাজ পড়তেন।

অনেক বড় আলেম বলেন লাঠি রাখা ইবাদতের সুন্নাহ নয়, বরং এটি ছিল আরবদের সাধারণ জীবনযাপনের অংশ। আরব সমাজে ঐ সময়: লাঠি ব্যবহার করা ছিল সাধারণ রীতি, চলাফেরা, ভ্রমণ ও নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার হতো

ফিকহের ভাষায় এটাকে বলা হয়: سنة العادة (সুন্নাতে আদাত) অর্থাৎ নবী মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবনের অংশ হিসেবে যা করতেন। এই মত অনেক ফকিহ গ্রহণ করেছেন।

কিছু আলেম বলেন: লাঠি রাখা না সুন্নাহ, না বিশেষ ইবাদত, এটি কেবল মুবাহ (permissible)

অর্থাৎ: রাখলে সমস্যা নেই, না রাখলেও সমস্যা নেই, কারণ: কোনো সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়নি: লাঠি রাখা সুন্নাহ

অনেক আলেম বলেন: যদি কেউ নবী -এর প্রতি ভালোবাসা থেকে তাঁর আমল অনুসরণ করার নিয়তে লাঠি ধরে, তাহলে নিয়তের কারণে সওয়াব হতে পারে। কারণ হাদিস: সমস্ত আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল।

1 Answer

+1 vote
by (762,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

وَمَا تِلْكَ بِيَمِينِكَ يَا مُوسَىٰ

হে মূসা, তোমার ডানহাতে ওটা কি?

قَالَ هِيَ عَصَايَ أَتَوَكَّأُ عَلَيْهَا وَأَهُشُّ بِهَا عَلَىٰ غَنَمِي وَلِيَ فِيهَا مَآرِبُ أُخْرَىٰ

তিনি বললেনঃ এটা আমার লাঠি, আমি এর উপর ভর দেই এবং এর দ্বারা আমার ছাগপালের জন্যে বৃক্ষপত্র ঝেড়ে ফেলি এবং এতে আমার অন্যান্য কাজ ও চলে।

قَالَ أَلْقِهَا يَا مُوسَىٰ

আল্লাহ বললেনঃ হে মূসা, ওটা নিক্ষেপ কর।

فَأَلْقَاهَا فَإِذَا هِيَ حَيَّةٌ تَسْعَىٰ

অতঃপর তিনি তা নিক্ষেপ করলেন, অমনি তা সাপ হয়ে ছুটাছুটি করতে লাগল।

قَالَ خُذْهَا وَلَا تَخَفْ ۖ سَنُعِيدُهَا سِيرَتَهَا الْأُولَىٰ

আল্লাহ বললেনঃ তুমি তাকে ধর এবং ভয় করো না, আমি এখনি একে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেব।( সূরা ত্ব্হা১৭-২১)

كشف الخفاء ت هنداوي (1 / 369):

"التوكؤ على العصا من سنة الأنبياء عليهم الصلاة والسلام.

قال القاري: كلام صحيح، و ليس له أصل صريح، و إنما يستفاد من قوله تعالى: {وَمَا تِلْكَ بِيَمِينِكَ يَا مُوسَى}  ومن فعل نبينا صلى الله عليه وسلم في بعض الأحيان كما بينه في رسالة، قال: وأما حديث: "من بلغ الأربعين ولم يمسك العصا فقد عصى" فليس له أصل، انتهى. و قال ابن حجر الهيثمي: روى ابن عدي عن ابن عباس -رضي الله عنهما- أنه قال: التوكؤ على العصا من أخلاق الأنبياء، و كان صلى الله عليه وسلم يتوكأ عليها، ورواه الديلمي بسند عن أنس رفعه حديث: حمل العصا علامة المؤمن وسنة الأنبياء، وروي أيضًا: كانت للأنبياء كلهم مخصرة يختصرون بها تواضعًا لله عز وجل، وأخرج البزار والطبراني بسند ضعيف حديث: "إن أتخذ العصا، فقد اتخذها أبي إبراهيم."

وأخرج ابن ماجه عن أبي أمامة: خرج إلينا رسول الله صلى الله عليه وسلم متوكئًا على عصاه. انتهى."

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন,
হাতে লাঠি রাখা নবীদের (সাঃ) এর সুন্নাতে  (সুন্নাতে আদিয়াহ) অর্থাৎ স্বভাবগত সুন্নাত। 

 কুরআনে হযরত মূসা (আঃ) এর লাঠি ধরার কথা উল্লেখ আছে। একইভাবে, কিছু বর্ণনায় হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর লাঠি ধরার কথা উল্লেখ আছে। অতএব, যদি কেউ নবীদের (সাঃ) অনুসরণ করার নিয়তে হাতে লাঠি নিয়ে কোথাও যায়, তাহলে সে এই কাজের জন্য সওয়াব পাবে।

ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়ায় বলা হয়েছে:

যদি সুন্নাহ অনুসরণ করার নিয়ত হয়, তাহলে সুন্নাহ অনুসারে লাঠি ব্যবহার করা, ইনশাআল্লাহ, বয়সের কোনও সীমাবদ্ধতা ছাড়াই সওয়াব বয়ে আনবে।" (খণ্ড ৪ / পৃষ্ঠা ৪৮৪)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (12 points)
জাঝাকাল্লাহু খায়রা। 
তাহলে কি এইটা বুঝলাম যে, যেই কোনো বয়সেই হাতে লাঠি নিয়ে চলাচল করা নবীগণ সাঃ এর সুন্নাহ ? উনাদের মুহাব্বাতে কেউ যদি এমন করে তাহলে ইনশাল্লাহ সওয়াব হবে ? 

কেউ যদি জিজ্ঞেস করে যে, তুমি ৩০ বছর বয়সের যুবক, তুমি হাতে লাঠি কেন রাখো, এটি কি শরীয়তে সুন্নাহ আমল ?
তাহলে এর জবাবে কি এমন বলা যাবে যে, এইটা নবীগণ এর সুন্নাহ
by (762,960 points)
+1
ক, কেউ যদি যেকোনো বয়সেই সুন্নাহ অনুসরণে নিয়তে লাঠি ব্যবহার করেন তাহলে এতে তার ছওয়াব হবে।

খ, এক্ষেত্রে বলা যাবে যে হাতে লাঠি রাখা নবীদের (সাঃ) এর সুন্নাতে  (সুন্নাতে আদিয়াহ) অর্থাৎ স্বভাবগত সুন্নাত। 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...