0 votes
7 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (11 points)
আমার বোন আগে একটা কসমেটিকস এর পেজ এ প্রোডাক্ট সেল এর কাজ করে ইনকাম করতো। এখন ওটার পাশাপাশি মোবাইলে বিভিন্ন এপ ইউজ করে মানুষের ছবি আকঁতো আগে, সে এখন এটাকে পেইড এ করা শুরু করসে। এভাবে মানুষের ছবি আঁকা যে গুনাহ এটা তাকে আমি বোঝাতে পারছিনা। সে আমার কথা শুনবেনা, এভাবে মানুষের ছবি আঁকবেই। এই ছবি আঁকার মাধ্যমেই সে এখন উপার্জন করে। তার পেজের ইনকাম আর ছবি আঁকার ইনকাম একই একাউন্টে আসে।

আমার মাদ্রাসার বেতন সে দেয়, এখন যেহেতু সে একটা হারাম কাজ করে উপার্জন করছে তো তার থেকে টাকা নিয়ে আমার মাদ্রাসার বেতন দিলে কি গুনাহ হবে? তার ইনকাম টা হালাল হারাম মিশ্রিত।

1 Answer

0 votes
by (102,800 points)
edited by
জবাব
بسم الله الرحمن الرحيم 


ইসলামের মৌলিক বিধান হচ্ছে, 
প্রাণীর ছবি প্রয়োজন ছাড়া তোলা, সংরক্ষণ করা, প্রকাশ করা, ব্যবহার করা হারাম,এসব ছবি  আঁকিয়ে ইনকাম করা কোনোভাবেই জায়েজ নেই ।  

হাদিস শরীফে এসেছে,

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى ﷺ يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون

আ’মাশ তিনি  মুসলিম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি মাসরুকের  সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইরের ঘরে ছিলাম, তিন ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ্  রাযি.-এর নিকট শুনেছি, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘নিশ্চয় মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ্ তাআলা কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।’ (বুখারী ২/৮৮০)

ছবি তোলা হারাম কেন,জানুনঃ

প্রয়োজন ছাড়া ছবি তোলা, সংরক্ষণ করা, প্রকাশ করা, ব্যবহার করা নিঃসন্দেহে কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াসের ভিত্তিতে সব ইমাম ও ফিকহ বিশেষজ্ঞ ও সমকালীন মুফতিদের মতে হারাম। 
তবে পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট তৈরি বা এজাতীয় বিশেষ প্রয়োজনে ফটো তোলা, সংরক্ষণ করা, প্রকাশ করা, ব্যবহার করা যায়। (ফিকহি মাকালাত; তকি উসমানী : ৪/১২৩)

অহেতুক ছবি তোলা,ছবি আঁকা  জায়েজ নয়।
,
সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার বোনের ছিবি আঁকার মাধ্যমে উপার্জন করা হারাম।
উক্ত টাকা হারাম।
,
তবে তাহা থেকে আপনি মাদ্রাসার বেতন দিলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের জন্য সেই বেতন গ্রহন জায়েজ আছে 
,

কেননা শরীয়তের বিধান হলো কাজ যদি বৈধ হয়,তাহলে বিনিময়ে হারাম উপার্জনকারীর কাজ হওয়ার দরুণ উক্ত কাজ হারাম হবে না। ঐ ব্যক্তি তার হারাম উপার্জন থেকে বিনিময় দিলেও উক্ত বিনিময় গ্রহণ করা কোনো মুসলমানের জন্য হারাম হবে না। তবে কোনো হারাম কাজ করা আঞ্জাম দেয়া কখনো কোনো মুসলমানের জন্য জায়েয হবে না। 

عن سويد بن غفلة أن بلالا قال لعمر : إن عمالك يأخذون الخمر والخنازير في الخراج ، فقال : لا تأخذوها منهم ، ولكن ولوهم بيعها ، وخذوا أنتم من الثمن- قال أبو عبيد : " يريد أن المسلمين كانوا يأخذون من أهل الذمة الخمر والخنازير من جزية رءوسهم وخراج أرضيهم بقيمتها ثم يتولى المسلمون بيعها ، فهذا الذي أنكره بلال ونهى عنه عمر ، ثم رخص لهم أن يأخذوا ذلك من أثمانها إذا كان أهل الذمة المتولين لبيعها ; لأن الخمر والخنازير مال من أموال أهل الذمة ولا يكون مالا للمسلمين .

মর্মার্থ- হযরত উমর রাযি. আহলে যিম্মা কাফির থেকে তাদের বিদ্যমান হারাম মালকে বিক্রি করে সেই মালের মূল্যকে জিযয়া হিসেবে গ্রহণ করার অনুমোদন দিয়েছেন। 
(আহকামু আহলিয-যিম্মাহ-১/১৮৩, এ’লাউস-সুনান-১৪/১৩৪, কিতাবুন-নাওয়াযিল-১২/৫১৭))

★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ইনকাম থেকে বেতন নেওয়া জায়েজ আছে।
আপনি প্রয়োজনের খাতিরে তাহা থেকে বেতন দিতে পারেন। 

বিস্তারিত জানুনঃ 

দারুল উলুম দেওবন্দ এর 176692 নং ফতোয়া দ্রষ্টব্য।
,


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...