আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির মূলত রুকইয়ার চিকিৎসা প্রয়োজন। রুকইয়া ট্রেনিংয়ের জন্য— এখানে ক্লিক করুন

0 votes
13 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (8 points)
السلام عليكم و رحمة الله و بركاته ‌ ‌


এক বোনের প্রশ্ন;

১) আমার মামা প্যারালাইজড হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন। তারপর দীর্ঘ চিকিৎসার পর আল্লাহ সুব-হানাহু ওয়া তা'আলা ওনাকে সুস্থতা দিয়েছেন কিন্তু পরিশ্রম করতে পারেন না। প্রাইভেট, মাদ্রাসার শিক্ষকতা করে ওনাদের চলছে আর নানার জমিতে চাষাবাদ করেন। আমার নানা তার প্রায় সমস্ত জমি মামার নামে লিখে দিয়েছেন, মেয়েদের জন্য রাখেন নাই। এই সম্পর্কে যখন সবাই জানাজানি হলো তার কিছু পরে মামা বলেছিলেন, নানি তার বাবার বাড়ি থেকে যে সম্পত্তি পাবে তা তিন বোন কে ভাগ করে দিবেন, তিনি তা থেকে কিছু নিবেন না। নানি মানসিক রোগী । এখন নানি তার জমি পাওয়ার পর মামা আর নানু দু'জন মিলে তা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর বলেছেন যে, টাকা ৫ ভাগ করে নানির জন্য এক ভাগ আর বাকি চার ভাগ চার ভাই-বোন ভাগাভাগি করে নিবেন। আমার আম্মু আর আন্টিরা এটা মেনে নিয়েছিল যেহেতু মামা কিছুটা অসুস্থ। এখন আবার তারা আমার বড় আন্টি কে ডেকে একজন জমি সংক্রান্ত অভিজ্ঞ ব্যক্তির দারায় বলেছেন যে, 'নানি বেঁচে থাকা অবস্থায় মেয়েরা জমির ভাগ চাইতে পারবে না মেয়েরা এখন ওয়ারিশ না, ওনারা খুশি করে যদি মেয়েদের কিছু দিতে চান তাহলে দিতে পারেন না  দিলে তাদের দাবি করার কোন ভিত্তি নাই।' এখন ওনারা চাচ্ছে খুবই অল্প পরিমাণ কিছু মেয়েদের দিয়ে বিদায় দিতে মানে নামে মাত্র কিছু, তাও যদি কেউ আপত্তি করে তাহলে দিবে না। তাদের এরূপ আচরণ কি ন্যায় সঙ্গত? ইসলাম এ বিষয়ে কি বলে? আর পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে নানি মানসিক রোগী, উনি ভালো মন্দ কিছুই বুঝেন না।


২) আমার আম্মা খুবই সরল প্রকৃতির মানুষ এবং খুবই দূর্বল মন মানসিকতা ওনার। যেমন, কেউ রাগ হলে তিনি সহ্য করতে পারেন না নামাযে বসে খুব কাঁদেন। তিনি অসুস্থও ওনার মৃগী রোগ। আম্মা প্রতিবাদ করতে জানেন না, তাই তার উপর সবার জুলুমের শেষ নাই, বাবার বাড়ি থেকে শুরু করে স্বামীর বাড়ি। আম্মু কিছু মানুষ কে প্রচুর ভয় করে চলেন এই মানুষ গুলো খুব কাছের। তাড়া আম্মুকে দিয়ে অনেক হারাম কাজ করিয়ে নেন যা করতে আম্মু বাধ্য। যেমন, সুদি লোন , পর্দা করতে না দেয়া, বাহিরের কাজ করিয়ে নেয়া ইত্যাদি। এমতাবস্থায় আম্মু রাজী না হলে সম্পর্ক শেষ হওয়া প্লাস নির্যাতনের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। আম্মুর কিছু করার নাই, অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই। এমতাবস্থায় আম্মু যদি তিনি যার আনুগত্য তার বলা সবকিছু মেনে নিয়ে চলেন যদিও বা তা গুনাহের কাজ তবে কি আম্মুকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না?

1 Answer

0 votes
by (782,460 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি থেকে বর্ণিত,
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ فَرَّ مِنْ مِيرَاثِ وَارِثِهِ، قَطَعَ اللَّه ُمِيرَاثَهُ مِنَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেনঃ যে ব্যক্তি তার ওয়ারিছদেরকে মিরাছ প্রদান থেকে পলায়ন করবে (তথা-ওয়ারিছদেরকে মিরাছ থেকে বঞ্চিত করবে) আল্লাহ তা'আলা ক্বিয়ামতের দিন তাকে জান্নাতের মিরাছ থেকে বঞ্চিত করবেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ-২৭০৩)

মৃত্যু পরবর্তী সম্পদকে  আল্লাহ তা'আলা নিজেই বন্টন করে দিয়েছেন।তাই কারো মৃত্যুর পর আল্লাহ তা'আলা প্রদত্ত বিধি-বিধানের আলোকেই তার সম্পদ বন্টন করতে হবে।এক্ষেত্রে কোনো ওয়ারিছকে তার নির্ধারিত অংশ ব্যতীত অতিরিক্ত কিছু দেয়া যাবে না বা তার ওসিয়ত করা যাবে না। জায়েয হবে না।তবে বাকী সমস্ত ওয়ারিছদের সম্মতিতে কোনো এক ওয়ারিছকে সমস্ত সম্পত্তি বা তার নির্ধারিত অংশের চেয়ে বেশী দেয়া যাবে। মৃত্যুর সময় এক তৃতীয়াংশ সম্পত্তিকে ওয়ারিছ ব্যতীত অন্য যে কারো জন্য ওসিয়ত করা জায়েয আছে।সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/343

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) আপনার মামাদের জন্য এরকম প্রতারণা করা উচিত হয়নি। আপনার নানু যদি তার প্রাপ্ত সম্পদ থেকে আপনার মা খালাদের দেন, তাহলে এটা জায়েয রয়েছে।
(২) আপনার আম্মুকে সবরে জামিল এখতিয়ার করার তাওফিক দান করুক।আমীন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...