আসসালামু ওয়ালাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ।
আমি একজন জেনারেল স্টুডেন্ট এবং পাশাপাশি একটি ছোট বইয়ের বিজনেস করছি। আমি আলহামদুলিল্লাহ চেষ্টা করি দীন কে পরিপূর্ণ ভাবে মানার তবে কেমন পারি আল্লাহ ই ভাল জানেন। আমার ফ্যামিলি তার পুরপুরি বিপরীত।এখন মেইন কথা হচ্ছে।
বেশ কিছুদিন আগে আমার এক মেয়ের সাথে পরিচয় হয়।
সে ছিল প্রথমত বই ক্রেতা।পরবর্তীতে তার সাথে আরো কথা হয়,নানা প্রয়োজনীয় বিষয়ে। এবং এরই মধ্যে মোটামুটি ভাবে আমাদের একে অপরকে জানা হয়। সে সময় আমি বুঝতে পারি উনার হয়তো দুর্বলতা কাজ করছে আমার প্রতি।সেইজন্য আমি চাই যে আর কথা না বাড়ানো যাক। যদিও এরপর বই সংক্রান্ত বিষয়ে আরও কিছু কথা হয়েছিল,তার সাথে আমার। এছাড়াও প্রয়োজনেই সামান্য কয়েকবার ফোনে কথা হয়েছিল।
তো এত কিছুর পর অনেক দিন কোনো ধরনের যোগাযোগ ছিল না আমাদের মাঝে। হটাৎ উনি ম্যসেজ দিয়ে আমাকে জানায় যে উনার বিয়ের কথা হচ্ছে , উনার ১ চাচাতো ভাইয়ের সাথে।যাকে কিনা তার কোনোভাবেই পছন্দ না।সে চেয়েছিল তার জীবনসঙ্গী যেন দীনদার হয়। বাট এই ছেলের মধ্যে তেমন কিছু নেই।সে বিয়ের পর মেয়েকে মাদ্রাসায় আর পড়াতে দিতে চায় না এসব মিলে সে এই বিয়ে কোনোভাবে করতে চায় না। আবার পরিবার থেকে হেনস্থা হওয়ার ভয়ে না ও বলতে পারছে না। এখানে মেয়ের মতামত সম্ভবত জানতে চাওয়া হয়েছিল সে ওইসময় কিছুই বলে নি, তাই পরিবার হ্যা হিসেবেই ধরে নিছে।আর তার কথা হলো,,সে না বললেও লাভ হতো না তার পক্ষে কেও ই নাই এক্ষেত্রে। আর এই সম্বন্ধ ও তাদের চোখে ভালো খুব।
মেয়েটার ব্যাপারে সামান্য বললে,সে একজন মাদ্রাসা পড়ুয়া। মাদ্রাসায় দাওরা শেষ করেছে।এরপর মাদ্রসায় ই শিক্ষিকা হিসেবে ছিল। মেয়ে মাদ্রাসার ব্যকগ্রাউন্ড হলেও। তার বাবা মা জেনারেল ব্যাকগ্রাউন্ড। যে কারনে সামাজিক ভাবে উত্তম একজন ছেলেকেই তারা পছন্দ করেছে।
তো উনি আমাকে এসব জানালে সেই সময় আমি তাকে বলি সে যেন ইস্তিখারা করে সিদ্ধান্ত নেয়, আল্লাহর পক্ষ থেকে ভালো হলে হলোই আর আল্লাহর পক্ষ থেকে ইঙ্গিত পজিটিভ না থাকলে এখানে যাইয়েন না। এটাতে রাজি হয়ে আরও দীর্ঘদিন কথা হয় নি...
এরপর কিছুদিন আগে উনি আমাকে আবার ম্যসেজ দিয়ে জানান উনার বিয়েটা ঈদ এর পর বলে ঠিক হয়েছে।কিন্তু উনি মরে যাবে তাও এই বিয়ে করতে চায় না।আর উনার কথা অনুযায়ী উনার ইস্তিখারার ফলাফল ও পজিটিভ না।এমতবস্থায় আমি কি বলবো বুঝতে পারি না।তাও জিজ্ঞেস করি, আপনি আসলে কি চাচ্ছেন।উনার কথা উনার কোনো সাপোর্ট নাই। উনি এই বিয়েতে না বললে এখন উনাকে উনার ফ্যামিলি ছুড়ে ফেলে দিবে,উনি হেনস্থার স্বীকার হবে।তো উনাকে অন্তত কেও সাপোর্ট দিলে অথবা একটা আশা দিলে পাশে থাকলে উনি এগুলো সহ্য করে নিতে পারবে আর বিয়েতে উনি "না" বলে দিবে।অর্থাৎ উনি ইন্ডিরেক্টলি আমাকেই বুঝাচ্ছিল।
এক্ষেত্রে আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, সে আমার পছন্দ কিনা। আমি বলব বাহ্যিকতাকে তাকে আমার দীনদার ই মনে হইছে।আর সে আমার অপছন্দ নয়।তবে তাকে আমি দেখি নি।আর আমাদের সব কিছু জানাশোনা অনলাইনভিত্তিক ই ছিল।
এখানে আরেকটা বিষয় সম্পর্কে আমি অবগত যে,একটি বিয়ে কথা চলমান থাকা অবস্থায় বিয়ের জন্য অপর কারও প্রস্তাব দেওয়া জায়েজ নেই।(আমার ভুল হতে পারে)..এখন হযরত এর কাছে আমি জানতে চাই আমাদের জন্য শরিয়াহ অনুযায়ী এমতবস্থায় পরামর্শ অথবা হুকুম কি হবে? আমাদের বললাম কারন আমি চাই দুইজন এর দিক বিবেচনা করে কিছু পরামর্শ যেন দেওয়া হয় আমাদেরকে, যেন সিদ্ধান্ত আমি তাকেও জানাতে পারি। আর ইন শা আল্লাহ আমরা আল্লাহর যেকোনো অনুগ্রহের জন্যই সন সময় মুখাপেক্ষী।
বি:দ্র: আমি বলেছিলাম আমি তাকে দেখি নাই তাই অবশ্যই আগে দেখে নিতে চাই। যদি তাকে দেখার পর আমার কাছে ঠিক মনে হয় আমি বাসায় জানাব তার ব্যাপারে।আর এই মুহুর্তে অফলাইন এ দেখা-সাক্ষাত পসিবল না।সে সেক্ষেত্রে রাজি হয় নি সে বলেছে আমাদের বাড়ির কোনো মেয়ে সদস্য যদি আগে তাকে দেখে এরপর তাদের যদি উনাকে পছন্দ হয়,তারপর উনি আমাকে দেখাইতে পারে নিজেকে।আর এই বিষয়গুলি উনি সম্ভবত উনার ফ্যামিলিকে না জানিয়েই একা করতে চান আমি হ্যা বলেছি আর বলেছি আমি এই ব্যাপারে পরামর্শ করে জানাবো সেই জন্য আপমাদের শরনাপন্ন হওয়া।