আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
132 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
আমি খুব দুশ্চিন্তায় আছি। আমার ছোট বোন আর একমাত্র ছেলে একসাথে পড়াশোনা করে। আব্বা নেই, এখন আমি ও ওর অভিভাবক। বোন মাত্র ১ বছরের বড় এজন্য ফুফু ভাইপো হলেও, ভাই বোন মনে হয় অনেক ক্ষেত্রে। আমি আজ পর্যন্ত ওদের নিয়ে কখনো কোনো রেস্ট্রিকশন করিনি, ভাই বোনের মতোই আছে তাই তেমন রাখছি। দুজনেই ইন্টার পরীক্ষার্থী। আমার স্ত্রী তার বাপের বাড়ি গেলে একদিন রাত্রে খাওয়ার সময় টেবিলে ছিলাম আর বোন আমার ছেলেকে ডেকে আনতে গেছিলো ওর রুমে। রুম আমার চেয়ারের পিছনে হলেও বেসিনের আয়নায় দেখছি আমার ছেলে ওর ফুফুর প্রাইভেটে হাত দিচ্ছে দুজনের মুখ দেখে বুঝছি দুজনের কনসেন্ট আছে। যদি আমি বাড়ি থাকতেই আমার পিছনে এমন করে তাহলে বাড়িতে কেউ না থাকলে কি করে আমি ভাবতে পারছি না। সেইদিন রাত্রে আমি ঘুমাতে পারিনি, খুব শ্বাসকষ্ট অনুভব হচ্ছিলো।
কাজিন জনিত সমস্যা হলে বিয়ের ব্যবস্থা করে ফেলতাম, কিন্তু এখানে দুজনেই মাহরাম। সামনে পরীক্ষা, একসাথে ব্যাচে যায় একসাথে পড়াশোনা করে। আমি আটকাতে ও পারছি না আর না কাউকে বলতে। আম্মাকে বললে স্ট্রোক করতে পারে, প্রেসারের রুগী।
পরীক্ষার পরে বা আগে বোনকে বিয়ে দিয়ে দিলেও সুযোগ পেলে হয়তো পুনরায় খারাপ কাজে লিপ্ত হবে। আর ফুফুর সাথে ভাইপোর দেখা সাক্ষাৎ হওয়া তো আমি কোনোভাবেই কোনো যুক্তিতে আটকাতে পারবো না।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

 وَلاَ تَقْرَبُوا الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلاً- 

‘তোমরা যেনার নিকটবর্তীও হয়ো না, এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পথ’ (বনী ইসরাঈল ৩২)। 

আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন,
وَالَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَلاَ يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا، يُضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا-

‘তারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন মা‘বূদকে ডাকে না শরী‘আত সম্মত কারণ ব্যতীত কাউকে হত্যা করে না এবং যেনা করে না। আর যে ব্যক্তি এই সকল কাজ করে সে শাস্তি ভোগ করবে। ক্বিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং এ শাস্তি লাঞ্ছিত অবস্থায় সে অনন্তকাল ভোগ করতে থাকবে’ (ফুরক্বান ৬৮)।

আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন,

الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ وَلاَ تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللهِ إِنْ كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ-

‘যেনাকার নারী পুরুষ প্রত্যেককে একশ’ বেত্রাঘাত কর, আল্লাহর বিধান পালনে তাদের উভয়ের প্রতি তোমাদের মনে অনুগ্রহ আসা উচিত নয়। যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ক্বিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাসী হও’ (নূর ২)।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

عَنْ عُبَادَةَ الصَّامِتِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خُذُوْا عَنِّي خُذُوْا عَنِّي قَدْ جَعَلَ الله لَهُنَّ سَبِيْلاً البِكْرُ بِالْبِكْرِ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيْبُ عَامٍ وَالثَّيِّبُ بِالثَّيِّبِ جَلْدُ مِائَةٍ وَالرَّجْمُ.

উবাদাহ ইবনু ছামেত (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা আমার নিকট হতে আল্লাহর বিধান গ্রহণ কর, কথাটি রাসূল (ছাঃ) দু’বার বললেন। আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন, অবিবাহিত নারী-পুরুষকে একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন করতে হবে। আর বিবাহিত নারী-পুরুষকে রজম করতে হবে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৫৫৮; বঙ্গানুবাদ ৭ম খন্ড, হা/৩৪০২)।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নে উল্লেখিত শুরুতে আপনার প্রতি পরামর্শঃ- 

আপনি ইন্টার পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা না করে
দ্রুত আপনার বোনকে বিয়ে দিয়ে দিবেন এবং এখনই তাকে তার স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দিবেন।

সে যেনো আপনার বাসায় কোনক্রমেই আর থাকতে না পারে এবং উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতেও যেন পড়াশোনা না করতে পারে (প্রয়োজনে পরবর্তীতে অন্য প্রতিষ্ঠান হতে তার পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দিতে পারেন), তাদের মাঝে দেখা সাক্ষাৎ যেন কোনক্রমেই না হয় কথাবার্তাও যেন না হয়, সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিবেন।

পাশাপাশি আপনার ছেলেকে আপনি বুঝাবেন,কাজ না হলে পরিপূর্ণভাবে শাসন করবেন, তাকে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতে পাঠিয়ে দিতে পারেন এবং তার সাথে আপনার বোনের যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করবেন।

এর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। 
এরপরেও ছেলের পক্ষ হতে ফিতনা মূলক কাজ আবারো প্রকাশ পেলে সেক্ষেত্রে পারিবারিক মান সম্মান রক্ষার্থে প্রয়োজনে ছেলেকেও বিয়ে দিয়ে দিতে পারেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...