আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
130 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (9 points)
edited by

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আমার এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলে মুনাসিব হয়। 

১। ফরজ, সুন্নাত বা নফল নামাজে সূরা ফাতিহার বা অন্য কোন সূরার আয়াত ২/৩ বার পড়লে কি সাহু সেজদা দিতে হবে? 

২। মুরগী জবেহ করার সময় গলার হাড়ের ভিতরের রগ কি কাটা জরুরী? আমরা সাধারণত বাহির থেকে জবেহ করে আনি, তারা হাড়ের ভিতরের রগ কাটে না, এতে কি কোন অসুবিধা হবে? 

আমরা সাধারণত তারাবীহর নামাজ দুই দুই রাকা'আত করে পড়ি,, কিন্তু আমি যদি দুইয়ের বদলে  চার চার রাকা'আত করে পড়ি,, তাহলে কি কোন অসুবিধা হবে? 

৪। মুসাফির অবস্থায় যদি এই মনে করে কসর না পড়া হয় যে,,আমি মুসাফির হইনি,, এভাবে ১/২ ওয়াক্ত নামাজ সম্পূর্ণ পড়ে ফেলে,, পরে যদি জানতে পারে যে সে মুসাফির তাহলে কি আগের নামাজ আবার নতুন করে পড়তে হবে? অথবা মুকিম অবস্থায় যদি মনে পড়ে যে, কসর পড়া হয়নি,, তাহলে কি নামাজগুলো কাযা করতে হবে? 

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলে উপকৃত হবো ইনশাআল্লাহ। 

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১) ফরয নামাযের প্রথম দু রা'কাতে এবং নফল ও সুন্নত নামাযের প্রত্যেক রা'কাতে একবার ফাতেহা  সম্পূর্ণ  তিলাওয়াত করা ওয়াজিব। এবং সূরায়ে ফাতেহা তিলাওয়াতের সাথে সাথে একটি সূরা মিলানো অর্থাৎ ছোট তিন আয়াত বা বড় এক আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করা ওয়াজিব। সুতরাং সূরা মিলানোর পূর্বে সূরায়ে ফাতেহাকে দুইবার তিলাওয়াত করা বা একবার তিলাওয়াত করার পর দ্বিতীয়বার সূরায়ে ফাতেহার তিন আয়াত বা কোনো এক আয়াতকে তিনবার তিলাওয়াত করা হলে সাহু সিজতা ওয়াজিব হবে।তবে যদি সূরায়ে ফাতেহা তিলাওয়াত করার পর সূরা মিলানোর পরবর্তীতে আবার সূরায়ে ফাতেহাকে পড়া হয়, তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/91794

(২)
জবেহের রুকুন বা ফরযতুল্য বিষয় হচ্ছে,শরয়ী জবেহ হওয়া। শরয়ী জবেহের পদ্ধতি হল
 فَرُكْنُهَا الذبح........إلي ان قال .......
، وَالذَّبْحِ هُوَ فَرْيُ الْأَوْدَاجِ وَمَحَلُّهُ مَا بَيْنَ اللَّبَّةِ وَاللَّحْيَيْنِ، َ
জবেহের মাধমে প্রাণী হালাল হওয়ার রুকুন বা ফরযতুল্য বিষয় হচ্ছে জবেহ করা। এবং জবেহ বলা হয় শাহরগকে কর্তন করা,এবং তার স্থান হচ্ছে, বক্ষের উপরিভাগ থেকে চোয়ালের হাড় পর্যন্ত। (ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া ৫/২৮৫)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/379

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
মুরগী জবেহ করার সময় গলার হাড়ের ভিতরের রগ কাটা জরুরী নয়। বরং বাহিরের শাহরগ কে কেটে নিলে হবে। 

(৩) তারাবীহর নামাজ দুই দুই রাকা'আত করে পড়া সুন্নত। চার চার করে পড়লে সুন্নত আদায় হবে না।

(৪) মুসাফির সফর অবস্থায় চার রাকাত পড়ে নিলে, যদি শেষে সাহু সিজদা না দেয়, তাহলে নামাযকে দোহড়ানো ওয়াজিব। আর সাহু সিজদা দিয়ে দিলে নামায আদায় হয়ে যাবে।

لما فى رد المحتار مع الدر المختار :
"فلو أتم مسافر إن قعد في القعدة الأولی تم فرضه و لکنه أساء، لو عامداً؛ لتاخیر السلام، وترك واجب القصر، و واجب تکبیرة افتتاح لنقل، و خلط النفل بالفرض و هذا لایحلّ."(در مختار، 2/609،610، ط: سعید)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 955 views
0 votes
1 answer 271 views
...