আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
73 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (49 points)
edited by

আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহ, 

উস্তায আমি সদাকায়ে জারিয়ার উদ্দেশ্যে ৮টা ডিজিটাল তাসবীহ ও ১১টা কালার কোডেড কুরআন অর্ডার করে এনে কয়েকজন চাচিদের শুদ্ধ তাজউইদ শিখিয়ে উনাদের কুরআন বিতরণ করেছি । (সদাকায়ে জারিয়াতে আমার পরিবার ও মৃত দাদা নানাদেরও অন্তর্ভুক্ত করি ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে ।

☆নিয়ত বারবার এবং অনেকবার পরিশুদ্ধ করেছি, (নিয়ত হচ্ছে রবের সন্তুষ্টি ও সদাকায়ে জারিয়া)

তারপরও বেশি খুশিতে মুখ ফসকে দাদিকে বলে ফেলি যে, ❝এই সদাকায়ে জারিয়াতে মৃত দাদাভাইকে অন্তর্ভুক্ত করেছি যেন তিনি কবরে শান্তি পান, এসব কথা আপনাকে বলতাম না - বলেছি যেন আপনি খুশি হন❞
কারন দাদি বারবার সবার কাছে অভিযোগ করেন যে, আমরা নাকি দাদাভাইর জন্য সদাকাহ বা ভালো কিছু করিনা । এই বলে তিনি চিন্তা করেন, কান্না করেন । 

আবার দাদিকে এটাও বলেছি যে, ❝আমি এভাবে সদাকায়ে জারিয়া করলাম, আপনিও এভাবে দান করলে দাদার কবরে সওয়াব যেতে থাকবে❞ দানে উৎসাহিত করার নিয়তে ।

▪️১ | উস্তায উপরোক্ত কথাবার্তায় কি আমার সদাক্বাহ নষ্ট হয়ে গিয়েছে? যেহেতু দাদিকে স্পষ্ট বলেছি ❝দাদার জন্য সদাকায়ে জারিয়া করলাম এখানে - বলতাম না, আপনি খুশি হওয়ার জন্য বললাম । আমি সদাক্বার বিষয়টা সবসময় লুকিয়ে রাখি তাই তিনি খারাপ ধারণা করেন এইজন্য মূলত তিনি চিন্তামুক্ত হওয়ার জন্য ই এবার বলা ।

▪️২ | আর আমি যে টাকাগুলো কুরআন অর্ডারের পিছনে সদাক্বাহ করলাম, তাতে সদাকায়ে জারিয়া হিসেবে আমার পরিবার ও মৃত নিকটাত্মীয়দেরও ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে শামিল করাটা কি ভুল হয়েছে? এভাবে আমলের একটা ফাতওয়া দেখেছিলাম তাও জিজ্ঞেস করা ।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

যদি শুধুমাত্র লোক দেখানো ইবাদত হয়,তাহলে এমন রিয়া ছোট শিরক।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّهُ خَرَجَ يَوْمًا إِلَى مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَوَجَدَ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ قَاعِدًا عِنْدَ قَبْرِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَبْكِي فَقَالَ مَا يُبْكِيكَ قَالَ يُبْكِينِي شَىْءٌ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ " إِنَّ يَسِيرَ الرِّيَاءِ شِرْكٌ وَإِنَّ مَنْ عَادَى لِلَّهِ وَلِيًّا فَقَدْ بَارَزَ اللَّهَ بِالْمُحَارَبَةِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الأَبْرَارَ الأَتْقِيَاءَ الأَخْفِيَاءَ الَّذِينَ إِذَا غَابُوا لَمْ يُفْتَقَدُوا وَإِنْ حَضَرُوا لَمْ يُدْعَوْا وَلَمْ يُعْرَفُوا قُلُوبُهُمْ مَصَابِيحُ الْهُدَى يَخْرُجُونَ مِنْ كُلِّ غَبْرَاءَ مُظْلِمَةٍ " .

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক দিন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মসজিদে গিয়ে মুআয ইবনে জাবাল (রাঃ) কে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবরের পাশে উপবিষ্ট অবস্থায় কান্নারত দেখতে পান। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তুমি কাঁদছো কেন? তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রুত কিছু বিষয় আমাকে কাঁদাচ্ছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ সামান্যতম কপটতাও শিরক। যে ব্যক্তি আল্লাহর কোন বন্ধুর (ওলী) সাথে শত্রুতা করলো, সে যেন আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো। নিশ্চয় আল্লাহ ভালোবাসেন সৎকর্মপরায়ণ আল্লাহভীরু আত্মগোপনকারী বান্দাদের, যারা দৃষ্টির অন্তরাল হলে কেউ তাদের খোঁজ করে না, সামনে উপস্থিত থাকলে কেউ তাদের আপ্যায়ন করে না এবং তাদের পরিচয়ও নেয় না। তাদের অন্তরসমূহ হেদায়াতের আলোকবর্তিকা। তারা সব ধরনের অন্ধকারাচ্ছন্ন কদর্যতা থেকে নিরাপদে বের হয়ে যাবে।
(ইবনে মাজাহ ৩৯৮৯)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে উপরোক্ত কথাবার্তায়  আপনার সদাক্বাহ নষ্ট হয়ে যায়নি।

নিশ্চিন্ত থাকার পরামর্শ থাকবে। 

(০২)
এটি ভূল হয়নি।
আপনার কাজটি সঠিক।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...