আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
79 views
in সুন্নাহ-বিদ'আহ (Sunnah and Bid'ah) by (24 points)
আসসালামু আলাইকুম উস্তায।

 উবাই ইবনে কাব(রাযি.) হতে দুরুদ শরীফ নিয়ে বর্ণিত হাদিস হতে জানতে পারি দোয়াতে দুরুদ শরীফ পড়লে
সমস্ত চিন্তা দূর করা হবে, এবং সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে। এখন আমার প্রশ্ন হল

প্রশ্ন ১- দোয়াতে শুধু দুরুদ পড়লে কি কবিরাহ গুনাহও মাফ হবে?
প্রশ্ন ২- আমি যদি তাহাজ্জুদ এর নামাজে গোটা সময় দোয়াতে দুরুদ শরীফ পড়ি তাহলে কি আমার সব গুনাহ মাফ হবে? নাকি তাহাজ্জুদ এর ২ রাকাআত নামাজে তাওবা করে বাকি রাকাআতে মোনাজাতে ও সেজদাহতে দুরুদ পাঠ করবো শুধু?

প্রশ্ন ৩- আমি এই রমাদান মাসে নিজের চাওয়াগুলো আল্লাহর কাছে নিজের ভাষায় না বলে যখনই দোয়া করবো যেমন তাহাজ্জুদ, ফরজ নামাজের পরে, ইফতারের আগ মুহূর্তে দোয়া করার সময় মোনাজাতে শুধু আল্লাহর প্রশংসা করে বাকি সময় দুরুদ পাঠ করলে কি আমার দোয়া কবুল করবেন আল্লাহ?
প্রশ্ন ৪- দোয়াতে শুধু দুরুদ পাঠ উত্তম নাকি আমার নিজের ভাষায় চাওয়া উত্তম?

প্রশ্ন ৫- যদি দোয়াতে দুরুদ পাঠ উত্তম হয় তাহলে মোনাজাত ও দুরুদ পাঠ করার সময় মনে নবিজি(সাঃ) এর কথা স্মরণ রাখবো নাকি আমার প্রয়োজনগুলো?
প্রশ্ন ৬- দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়ে যেমন দোয়া করবো তেমনই ধারণা রাখবো রবের প্রতি? আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখার কথা আল্লাহ ও নবিজি(সাঃ) কি কি বলেছেন?

প্রশ্ন ৭- যদি দোয়াতে দুরুদ পড়া উত্তম হয় তবে কি আমি এই ধারণা রাখতে পারবো যে "আল্লাহ আমাকে দুরুদ পড়ার তৌফিক দিচ্ছেন ইনশাআল্লাহ আল্লাহ  ৪০ দিনেই আমার দোয়া কবুল করবেন। ( এক ভাইয়ের দোয়া কবুলের গল্পে শুনেছিলাম ৪০ দিনের কথা)।

প্রশ্ন ৮- ইস্তেগফার এর জন্য উত্তম সময় কোনটি?
প্রশ্ন ৯- আল্লাহ ক্ষমা করার বিষয়ে আমাদের কি কি আশা দিয়েছেন?

প্রশ্ন ১০- রমাদান এর প্রতি রাতে আল্লাহ বান্দাদের মাফ করেন ও জাহান্নামের থেকে মুক্ত করেন কথাটি সত্য?

1 Answer

0 votes
by (804,930 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
হাদীসের অংশ-
"আমি আমার দু'আয় কতটুকু আপনার উপর দুরুদ কে স্থান দেবো?(অর্থাৎ অন্যান্য দু'আর তুলনায় আপনার উপর কতটুকু বেশী দুরুদ পেশ করব?)" -
কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাঃ নির্দিষ্টভাবে কোনো সংখ্যাকে সীমাবদ্ধ করে উল্লেখ করেননি। কারণ 
(ক) যাতে করে ফযিলত কোনো নির্ধারিত জিনিষের সাথে সীমাবদ্ধ না হয়।
(খ)এবং যাতেকরে অতিরিক্ত দুরুদ পড়ার আগ্রহে ভাটা না পড়ে।সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাঃ অতিরিক্ত দুরুদ পাঠের প্রতি আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করতঃ দুরুদের কোনো সীমারেখা বেধে দেননি।
যার ফলশ্রুতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে সাহাবী উবাই ইবনে কা'ব বলেন, আমি আমার দু'আর সমস্ত অংশজুড়ে দুরুদ শরীফকে রাখবো।তখন জবাবে রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছিলেন,তাহলে তো তোমার দুনিয়াবি ও উখরাবি সকল প্রকার মাকসাদ পূর্ণ হবে।কেননা দুরুদ শরীফের মধ্যে আল্লাহর যিকির রয়েছে।তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাঃ কে সম্মাণ প্রদর্শন ও তাহার হক্বকে আদায় করা নিজের প্রয়োজনের তুলনায়, এবং দু'আতে নিজের উপর তাঁহাকে প্রধান্য দেয়া অত্যন্ত মহত্ত্বপূর্ণ এবং ফযিলতপূর্ণ আ'মল ও প্রশংসনীয় কাজ। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1104


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
উবাই ইবনে কাব(রাযি.) হতে দুরুদ শরীফ নিয়ে বর্ণিত হাদিস হতে জানতে পারি দোয়াতে দুরুদ শরীফ পড়লে
সমস্ত চিন্তা দূর করা হবে, এবং সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে। 

(১) দোয়াতে দুরুদ পড়লে সগিরা গোনাহ মাফ হবে। কবিরা গোনাহের জন্য তাওবাহ শর্ত। তবে আল্লাহ চাইলে কবিরাহ গুনাহকেও মাফ করে দিতে পারেন।
(২) তাহাজ্জুদের নামাজে গোটা সময় দোয়াতে দুরুদ শরীফ পড়লে, সকল সগিরা গেনাহ মাফ হইবে।  তাহাজ্জুদের ২ রাকাআত নামাজে তাওবা করে বাকি রাকাআতে মোনাজাত এবং সেজদাহতে দুরুদ পাঠ করার বিশেষ কোনে নিয়ম নাই। চাইলে করতেও পারেন আবার নাও করতে পারেন।

(৩)  নিজের চাওয়া গুলোকে আল্লাহর কাছে না বলে শুধুমাত্র দুরুদ পাঠ করলে করতেও পারেন। আল্লাহ চাইলে কবুল করতে পারেন সবকিছু। 

(৪) দোয়াতে দুরুদ পাঠের পাশাপাশি নিজের ভাষায় চাওয়া উত্তম।

(৫)  নবিজি(সাঃ) এর কথাকেও স্মরণে রাখবেন এবং আপনার নিজের প্রয়োজনগুলোকেও স্বরণে রাখবেন।

(৬) আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি সু-ধারণা রাখা ঈমানের অংশ। 

(৭)  ৪০ দিনে দু'আ কবুল হবে এমন ধারণা রাখা উচিত হবে না। নবীদের দু'আও সাথে সাথে কবুল হয়নি।

(৮) যেকোনো সময় ইস্তেগফার করা যাবে। তবে রাতের শেষ প্রহরে ইস্তেগফার করাই উচিত ও উত্তম। 

(৯) আল্লাহ ক্ষমা করার বিষয়ে বলেছেন। আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। 

(১০) রমাদান এর প্রতি রাতে আল্লাহ বান্দাদের মাফ করেন ও জাহান্নামের থেকে মুক্ত করেন। কথাতে অসত্য বলতে কিছু নেই।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...