ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
হাদীসের অংশ-
"আমি আমার দু'আয় কতটুকু আপনার উপর দুরুদ কে স্থান দেবো?(অর্থাৎ অন্যান্য দু'আর তুলনায় আপনার উপর কতটুকু বেশী দুরুদ পেশ করব?)" -
কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাঃ নির্দিষ্টভাবে কোনো সংখ্যাকে সীমাবদ্ধ করে উল্লেখ করেননি। কারণ
(ক) যাতে করে ফযিলত কোনো নির্ধারিত জিনিষের সাথে সীমাবদ্ধ না হয়।
(খ)এবং যাতেকরে অতিরিক্ত দুরুদ পড়ার আগ্রহে ভাটা না পড়ে।সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাঃ অতিরিক্ত দুরুদ পাঠের প্রতি আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করতঃ দুরুদের কোনো সীমারেখা বেধে দেননি।
যার ফলশ্রুতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে সাহাবী উবাই ইবনে কা'ব বলেন, আমি আমার দু'আর সমস্ত অংশজুড়ে দুরুদ শরীফকে রাখবো।তখন জবাবে রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছিলেন,তাহলে তো তোমার দুনিয়াবি ও উখরাবি সকল প্রকার মাকসাদ পূর্ণ হবে।কেননা দুরুদ শরীফের মধ্যে আল্লাহর যিকির রয়েছে।তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাঃ কে সম্মাণ প্রদর্শন ও তাহার হক্বকে আদায় করা নিজের প্রয়োজনের তুলনায়, এবং দু'আতে নিজের উপর তাঁহাকে প্রধান্য দেয়া অত্যন্ত মহত্ত্বপূর্ণ এবং ফযিলতপূর্ণ আ'মল ও প্রশংসনীয় কাজ। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-
https://www.ifatwa.info/1104
সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
উবাই ইবনে কাব(রাযি.) হতে দুরুদ শরীফ নিয়ে বর্ণিত হাদিস হতে জানতে পারি দোয়াতে দুরুদ শরীফ পড়লে
সমস্ত চিন্তা দূর করা হবে, এবং সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে।
(১) দোয়াতে দুরুদ পড়লে সগিরা গোনাহ মাফ হবে। কবিরা গোনাহের জন্য তাওবাহ শর্ত। তবে আল্লাহ চাইলে কবিরাহ গুনাহকেও মাফ করে দিতে পারেন।
(২) তাহাজ্জুদের নামাজে গোটা সময় দোয়াতে দুরুদ শরীফ পড়লে, সকল সগিরা গেনাহ মাফ হইবে। তাহাজ্জুদের ২ রাকাআত নামাজে তাওবা করে বাকি রাকাআতে মোনাজাত এবং সেজদাহতে দুরুদ পাঠ করার বিশেষ কোনে নিয়ম নাই। চাইলে করতেও পারেন আবার নাও করতে পারেন।
(৩) নিজের চাওয়া গুলোকে আল্লাহর কাছে না বলে শুধুমাত্র দুরুদ পাঠ করলে করতেও পারেন। আল্লাহ চাইলে কবুল করতে পারেন সবকিছু।
(৪) দোয়াতে দুরুদ পাঠের পাশাপাশি নিজের ভাষায় চাওয়া উত্তম।
(৫) নবিজি(সাঃ) এর কথাকেও স্মরণে রাখবেন এবং আপনার নিজের প্রয়োজনগুলোকেও স্বরণে রাখবেন।
(৬) আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি সু-ধারণা রাখা ঈমানের অংশ।
(৭) ৪০ দিনে দু'আ কবুল হবে এমন ধারণা রাখা উচিত হবে না। নবীদের দু'আও সাথে সাথে কবুল হয়নি।
(৮) যেকোনো সময় ইস্তেগফার করা যাবে। তবে রাতের শেষ প্রহরে ইস্তেগফার করাই উচিত ও উত্তম।
(৯) আল্লাহ ক্ষমা করার বিষয়ে বলেছেন। আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
(১০) রমাদান এর প্রতি রাতে আল্লাহ বান্দাদের মাফ করেন ও জাহান্নামের থেকে মুক্ত করেন। কথাতে অসত্য বলতে কিছু নেই।