আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
115 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (14 points)
edited by

১. নামাজ ঠিকঠাক আদায় না কারী ব্যক্তির আবাসস্থল সম্পর্কে এই বর্ণনাগুলো কি সঠিক?
★.গইয়ুম :
জাহন্নামীদের দেহ হবে অত্যন্ত মোটা।  বসা অবস্থায় একজন জাহন্নামীর দৈর্ঘ্য হবে ডেট্রয়েট থেকে শিকাগোর দূরত্বের সমান (প্রায় ৪৫০কিমি)। এই বড় দেহ পুড়ে যে ধ্বংসাবশেষ থাকবে সে পোড়া মাংস ও পঁুজ ভর্তি উপত্যকাই হলো গয়্যু।
★ সাকর
★ ওয়াইল: এটি এমন এক উপত্যকা যেখানে সাপ ও জীবজন্তু মানুষকে খেয়ে ফেলবে।

২. মেয়েদের জন্য সকল নামাজ আওয়াল ওয়াক্তে পড়া উত্তম।  আবার এশার নামাজের পর কথা না বলে ঘুমিয়ে পড়া সুন্নাহ। সেক্ষেত্রে কারো ঘুমাতে যদি ১১টা বেজে যায়, সেক্ষেত্রে এশার নামাজ আযানের পর নাকি ঘুমানোর আগে কোন সময়ে পড়া বেশি উত্তম? 
৩. হায়েজ অবস্থায় কি আযানের জবাব দেওয়া যাবে? কোথাও পেয়েছি দেওয়া যাবে, কোথাও পেয়েছি দেওয়া যাবেনা। 
৪. তাহিয়্যাতুল ওযুর সলাত কি অন্য কোনো সলাতের সাথে একই নিয়তে যেমন " হে আল্লাহ আমি কিবলামুখী হয়ে এই  সুন্নত সলাত / নফল সালাত এবং তাহিয়্যাতুল ওযুর সলাত আদায়ের নিয়ত করলাম"  এভাবে পড়া যাবে?
৫.  রোগী দেখার সওয়াব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ওয়ার্ডে গিয়ে পুরুষ পেশেন্টের মাথায় হাত রেখে দোয়া পড়া যাবে?
৬. আমাদের মেডিকেলে পড়াশোনা শেখার জন্য কারো গায়ে হাত দিয়ে পরীক্ষা করা শিখতে হয়। শেখার জন্য  পুরুষ পেশেন্টের গায়ে, বান্ধবীরা একজন আরকজনের পেটে বা প্রাপ্তবয়স্ক মাহরাম  এর গায়ে হাত দিয়ে পরীক্ষা করার কি অনুমতি আছে? অপ্রাপ্তবয়স্কদের গায়ে হাত দিলে বড়দেরটা শেখা সম্ভব হয়না। 
৭. নামাজের সামনে পর্দা দিলে কি সেটা সুতরা হিসেবে কাজ করবে?

৮. ব্যাংকে চাকুরী করে এমন কারো বাসায় টিউশন করা জায়েজ নেই৷  তাহলে এমন কারো ড্রেস বানিয়ে দিলে তার থেকে পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েজ হবে? যদি জায়েজ হয়, তাহলে এই দুইটা বিষয়ের পার্থক্য কোথায় যে একটা জায়েজ, অন্যটা নাজায়েজ?  

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
★মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

فَخَلَفَ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ خَلۡفٌ اَضَاعُوا الصَّلٰوۃَ وَ اتَّبَعُوا الشَّہَوٰتِ فَسَوۡفَ یَلۡقَوۡنَ غَیًّا ﴿ۙ۵۹﴾ 

অনুবাদঃ 
তাদের পরে আসল এমন এক অসৎ বংশধর যারা সালাত বিনষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল। সুতরাং শীঘ্রই তারা জাহান্নামের (গাইয়্যুন এর) শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে। 
(সূরা ১৯. মারইয়াম, আয়াত নং ৫৯)

আরবী ভাষায় غي শব্দটি رشد এর বিপরীত। প্রত্যেক কল্যাণকর বিষয়কে رشد বলা হয়। অপরদিকে প্রত্যেক অকল্যাণকর ও ক্ষতিকর বিষয়কে غي বলা হয়। [ফাতহুল কাদীর] আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেনঃ ‘গাই’ জাহান্নামের এমন একটি গর্তের নাম যাতে সমগ্ৰ জাহান্নামের চাইতে অধিক আযাবের সমাবেশ রয়েছে। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেনঃ ‘গাই’ জাহান্নামের এমন একটি গুহা জাহান্নামও এর থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে। [তাফসীরে কুরতুবী; ইবন কাসীর]

★মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

مَا سَلَکَکُمۡ فِیۡ سَقَرَ ﴿۴۲﴾ 

অনুবাদঃ 
কিসে তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করাল?  
(সূরা ৭৪. আল-মুদ্দাসসির, আয়াত নং ৪২)

قَالُوۡا لَمۡ نَکُ مِنَ الۡمُصَلِّیۡنَ ﴿ۙ۴۳﴾ 

অনুবাদঃ 
তারা বলবে, ‘আমরা সালাত আদায়কারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না’।
(সূরা ৭৪. আল-মুদ্দাসসির, আয়াত নং ৪৩)

★মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 
فَوَیۡلٌ لِّلۡمُصَلِّیۡنَ ۙ﴿۴﴾ 

অনুবাদঃ 
অতএব দুর্ভোগ সে সব নামায আদায়কারীর। 
(সূরা ১০৭. আল-মাঊন, আয়াত নং ৪)

الَّذِیۡنَ ہُمۡ عَنۡ صَلَاتِہِمۡ سَاہُوۡنَ ۙ﴿۵﴾ 

অনুবাদঃ 
যারা নিজদের সালাতে অমনোযোগী।
(সূরা ১০৭. আল-মাঊন, আয়াত নং ৫)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
নামাজ ঠিকঠাক আদায় না কারী ব্যক্তির আবাসস্থল সম্পর্কে উপরোক্ত ৩ টি স্থান সম্পর্কে কুরআনের স্পষ্ট আয়াত রয়েছে।

তবে এসব আবাসস্থল এর ব্যাখ্যা হিসেবে যাহা প্রশ্নে উল্লেখ রয়েছে,তাহা কুরআন হাদীসের কোথাও পাইনি।

(০২)
তার জন্যেও ইশার নামাজ আওয়াল ওয়াক্তে পড়া উত্তম।  

আরো জানুনঃ- 

(০৩)

হায়েজ অবস্থায় আযানের (মৌখিক) জবাব দেওয়া যাবে।

এতে কোনো সমস্যা নেই।

(০৪)

হ্যাঁ, এভাবে একাধিক নফল নামাজের নিয়ত একসাথে করে পড়া যাবে।

বিস্তারিত জানুনঃ- https://ifatwa.info/91916/

(০৫)

আপনি পুরুষ হলে সেক্ষেত্রে রোগী দেখার সওয়াব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ওয়ার্ডে গিয়ে পুরুষ পেশেন্টের মাথায় হাত রেখে দোয়া পড়া যাবে।

তবে আপনি নারী হলে এটি কোনোক্রমেই জায়েজ নেই।

(০৬)

বান্ধবীরা একজন আরকজনের পেটে (ফিতনার আশংকা না থাকলে,পর্দা ঘেরা পরিবেশে, কোনো পুরুষ সেখানে না থাকলে) বা প্রাপ্তবয়স্ক মাহরাম এর গায়ে হাত দিয়ে (ফিতনার আশংকা না থাকলে) পরীক্ষা করার অনুমতি আছে।

(০৭)

না,সেটি সুতরা হিসেবে কাজ করবেনা।

(০৮) এমন কারো ড্রেস বানিয়ে দিলে তার থেকে পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েজ হবে।

এক্ষেত্রে টিউশনি করে বেতন নেয়াও জায়েজ।তবে এক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন যে উত্তম সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

 বিস্তারিত জানুনঃ- https://ifatwa.info/13794/


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...