আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
66 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (3 points)
আমার স্ত্রী এর সাথে পারিবারিক বিষয়ে ঝগড়া ও তর্ক হয়। আমি তাকে বলি আমি যখন এতো খারাপ তাহলে ভালো দেখে খুজে নেও ( মনে মনে বলি তালাক না) কারন আমি কেনায়া সম্পর্কে জানি, পরে তর্ক আগালে সে এটা ওটা বললে,  আমি বলি  তাহলে ডিভোর্স নিয়ে নেও( দুইবার বলি). এ কথার দ্বারা আমি দিলাম বা দিছি বুঝাইনি। মানে সে যদি নেয় তাইলে তখন দেবো। বা তাকে অপশন দেখাইছি যে তাইলে নিয়ে নেও যেহেতু আমি ভালো না। কিন্তু এর মানে এই না যে দিয়ে দিছি।যে কারনে দুইবার বলার কারনে আমি এমন নিয়তও করিনি যে ২ বার দিছি কারন আমি তো দেয়ার নিয়তে বা দিলাম দিচ্ছি নিয়তে বলিনি।এর আগে কোনো কেনায়া বাক্য বললে মনে মনে (আসতাগফিরুল্লাহ বা তালাক না) বলতাম কারন যাতে নিয়ত না হয়।আমার স্ত্রীও বলেনি যে নিলাম বা গ্রহন করলাম।সে বলেছে আমার মন যখন তোমার থেকে উঠে যাবে তখন আমিই নিয়ে নেবো। এর পর মনে ভয় ঢুকে যে আমার কথায় হয়ে গেলো না তো।এতে কি পতিত হবে?
by (3 points)
হুজুর ফতোয়াটা দেন। আমি রিল্যাক্স হতে পারছি না।

1 Answer

0 votes
by (762,960 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

তালাক হচ্ছে স্বামীর অধিকার। স্বামী তালাক দিলেই তালাক সংঘটিত হবে। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ مُوسَى بْنِ أَيُّوبَ الْغَافِقِيِّ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ سَيِّدِي زَوَّجَنِي أَمَتَهُ وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنِي وَبَيْنَهَا قَالَ فَصَعِدَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَا بَالُ أَحَدِكُمْ يُزَوِّجُ عَبْدَهُ أَمَتَهُ ثُمَّ يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنَهُمَا إِنَّمَا الطَّلَاقُ لِمَنْ أَخَذَ بِالسَّاقِ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমার মনিব তার বাঁদীকে আমার সাথে বিবাহ দিয়েছে। এখন সে আমার ও আমার স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করলেন, অতঃপর বলেনঃ হে লোকসকল! তোমাদের কারো এরূপ আচরণ কেন যে, সে তার গোলামের সাথে তার বাঁদীর বিবাহ দেয়, অতঃপর তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়? নারীর ঊরু স্পর্শ করা যার জন্য বৈধ, তালাকের অধিকার তার।
(সুনানে ইবনে মাজাহ ২০৮১.বায়হাকী ৯/১৫৭, ইরওয়াহ ২০৪১।)

★শরীয়তের বিধান অনুযায়ী  মহিলা নিজের উপর কেবল তখনি তালাক পতিত করতে পারবে, যদি স্বামী তাকে তালাক দেবার অধিকার দিয়ে থাকে।
এটি নিকাহ নামার ১৮ নং ধারাতে হ্যাঁ লেখার মাধ্যমেই হোক,বা পরবর্তীতে মৌখিক বা লিখিত ভাবেই হোক।
,  
সুতরাং স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা প্রদান করে,আর স্ত্রী স্বামী কর্তৃক তালাকে তাভবিজের ক্ষমতাবলে লিখিত বা মৌখিকভাবে নিজের নফসের উপর তালাক দিয়ে দিলে সেটি পতিত হয়ে যাবে।

আরো জানুনঃ 

ফাতাওয়ায়ে শামীতে আছেঃ
   
قال لھا: طلقي نفسک ولم ینو أو نوی واحدة فطلقت وقعت رجعیة الخ (الدر المختار مع رد المحتار، کتاب الطلاق، باب الأمر بالید، ۴: ۵۷۵، ط: مکتبة زکریا دیوبند)۔
সারমর্মঃ
কেহ যদি তার স্ত্রীকে বলে,তুমি তোমার নিজের নফসকে তালাক দাও,কোনো নিয়ত না করে,অথবা এক তালাকের নিয়ত করে,অতঃপর স্ত্রী তালাক দেয়,তাহলে এক তালাকে রজয়ী পতিত হবে।     

رجل قال لامرأتہ خذي طلاقک، فقالت: أخذت، یقع الطلاق۔ (الفتاویٰ الہندیۃ، کتاب الطلاق / الفصل الثاني في إیقاع الطلاق ۱؍۳۵۹)
সারমর্মঃ
কোনো ব্যাক্তি যদি তার স্ত্রীকে বলে,তুমি তোমার তালাক গ্রহন করো।
স্ত্রী যদি বলে যে গ্রহন করলাম,তাহলে তালাক পতিত হয়ে যাবে।    

’’ ولو قال اختاری فقالت أنا اختارنفسی طلق ‘‘ ( الھدایۃ : ۲/۳۷۷)
সারমর্মঃ
স্বামী যদি বলে (তালাক সংক্রান্ত)  তোমার ইখতিয়ার,বা তোমার ইচ্ছা।
স্ত্রী যদি বলে আমি নিজের নফসের প্রতি ইখতিয়ার করলাম,তাহলে তালাক পতিত হবে। 
আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে তালাক পতিত হয়নি।
তবে স্ত্রী নিজের উপর তালাক নেয়ার অধিকার পেয়েছে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (3 points)


.
শায়েখ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারে গেছিলাম স্ত্রীকে নিয়ে হুজুর বলছে যে হয়নি তবে স্ত্রী অধিকার পেয়েছে নিজের উপর নেয়ার।
.
। কিন্তু তবুও মনে ওয়াসওয়াসা আসে আমি সত্যি বললাম তো? আমি এভাবেই বলছি তো?অজান্তে কিছু হয়ে গেলো না তো, রাগের মাথায় অনেক কিছু মনেও নেই। এখন মনে হয় আমি জেনাকার, হয়তো সম্পর্ক হারাম এই সেই। যখনি সন্দেহ আসে আবার ভাবতে বসি কি বলছিলাম, কোন কথায় বলছিলাম কি করছিলাম, ইচ্ছে থাকলে তো আমি মনে মনে আসতাগফিরুল্লাহ বা (তালাক না) এমনটা বলতাম। মনে হচ্ছে আমি জেনাকার, ওয়াইফ হালাল তো। এখন কি করবো?
.
জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মুফতির কাছে ওই ঘটনার দিনই সাথে সাথে লিখিত নিয়ে যাই ও কথা বলি এবং তিনি আমাকে ও আমার স্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, তিনি আমার আমার স্ত্রীর থেকে জানতে চান যে সে গ্রহন করলাম বা নিলাম বা দিলাম বলেছে কিনা? সব মিলিয়ে তিনি ফতোয়া দেন সমস্যা হয়নি সতর্ক থাকবেন ভবিষ্যতে। এখন আমি আবার ভাবতে বসি সব ঠিক আছে তো? আবার ঘটনা ভাবতে বসি কি কি হয়েছিলো, কি কি বলছিলাম সব মনে পড়ে না, আবার ফের ভাবতে বসি, নামাজ পড়তে গেলে মনে চিন্তা আসে নিজের উপর তুই তো জেনাকার নামাজ পড়ে কি লাভ? এখন পাগল হয়ে যাচ্ছি আমি কি করবো। সেম জিনিস আমার ডাক্তার দেখাতে গেলেও হয়। আমি কি করবো?আমাকে একটু আল্লাহর ওয়াস্তে ভাই হিসেবে সহয়তা করুন।এই আমার এখন আবার আগের ঘটনা বারবার ভাবতে বসা ও চিন্তা করে বের করার চেষ্টা এটাকে ইসলাম কি বলে?

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...