আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
107 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (23 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ উস্তায,

আমার কাবিন হয়েছে গত ২৪ সালের নভেম্বরে। তখন আমি কয়েক ভরি রুপার একটি গহনা সেট পাই। এরপর ২৪ সালেরই ডিসেম্বরের শেষে আমাকে শশুর বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। তখন আরেক সেট রুপার গহনা দেয়া হয়েছে। সর্বমোট রুপা হয়েছে প্রায় ৩৩ ভরি। (রুপাগুলো সর্বনিম্ন ক্যারেটের ধরেছি, এগুলোর উপর স্বর্ণের পানির কালার করা)

আর আমার মোহরানা ছিলো ফাতেমি মোহর, মোহর হিসেবে স্বর্ণ দিয়েছেন উনারা প্রায় ১ ভরি ৪ আনা ২ রতি (আমি ২২ ক্যারেট ধরে নিয়েছি)। মোহরানা আরও বাকি আছে, পরে পরিশোধ করবেন বলেছেন।
উল্লেখ্য, সে হিসেবে ২৫ সালের কুরবানী ঈদে আমার কুরবানী ওয়াজিব ছিলো। কিন্তু আমি আদায় করতে পারিনি। এবছর অর্থাৎ ২৬ সালে তো আমার উপর যাকাতও ওয়াজিব হয়ে গেছে। যেহেতু সোনা-রুপার এক বছর অতিক্রম হয়ে গেছে। আমার কোনো জমানো টাকা নাই। আমি প্রায় ২০ হাজার টাকার ঋণগ্রস্ত। আমার নিজস্ব ইনকাম নাই। আমার স্বামী আমার যাকাত, কুরবানি এগুলোর টাকা দিবেন। উনার নিজেরও অনেকখানি ঋণ আছে।

এখন জানতে চাচ্ছি-
১. আমার কতো টাকা যাকাত দিতে হবে?
২. কুরবানির কাজা হিসেবে কি করণীয়?
৩. ফিতরা দিতে হবে? কত টাকা দিবো?
৪. যতটা জানি, নিজ পিতামাতাকে যাকাত দেয়া যায় না৷ আমার মা গরিব এবং ঋণগ্রস্ত। আমার বান্ধবী তার এক আত্মীয়াকে যাকাত দেয়। এক্ষেত্রে আমি কি আমার বান্ধবীর সাথে এভাবে চুক্তি করতে পারি যে, সে দিবে আমার মাকে যাকাত এবং আমি দিবো তার আত্মীয়াকে যাকাত??৫

৫. কুরবানির কাফফারা ও কাযা দুটো কি আলাদা জিনিস?
৬. বিয়েতে স্বর্ণের কানের দুল হাদিয়া পেয়েছিলাম। এগুলো শাশুড়ি মায়ের কাছে আছে। চাইলে পেয়ে যাবো। কিন্তু এখনো হাতে পাইনি। এগুলো কি কুরবানী ও যাকাতের নিসাবের অন্তর্ভুক্ত ধরবো? এগুলোর পরিমাণ জানিনা।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী স্বর্ণের ক্ষেত্রে যাকাতের নিসাব হল বিশ মিসকাল। -সুনানে আবু দাউদ ১/২২১; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক  হাদীস ৭০৭৭, ৭০৮২
আধুনিক হিসাবে সাড়ে সাত ভরি।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى قَالَا حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوسَى أَنْبَأَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَعِيلَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ وَاقِدٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْخُذُ مِنْ كُلِّ عِشْرِينَ دِينَارًا فَصَاعِدًا نِصْفَ دِينَارٍ وَمِنْ الْأَرْبَعِينَ دِينَارًا دِينَارًا

ইবনু ‘উমার ও ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)  থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বিশ দিনার বা তার চেয়ে কিছু বেশি হলে অর্ধ দিনার এবং চল্লিশ দিনারে এক দিনার (যাকাত) গ্রহণ করতেন।

ইবনে মাজাহ ১৭৯১ ইরওয়াহ ৮১৩।
দারাকুতনী ১৮৭৯, ১৮৯২।

সাড়ে ৫২ ভরি রুপা হলে তার উপর যাকাত ফরজ। 
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 
عن أبي سعيد الْخُدْرِي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «ليس فيما دون خمس أَوَاقٍ صدقة، ولا فيما دون خمس ذَوْدٍ صدقة، ولا فيما دُونَ خمسة أَوْسُقٍ صدقة».  
[صحيح] - [متفق عليه]

আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পাঁচ উকিয়ার কম রৌপ্যমুদ্রায় যাকাত নেই এবং পাঁচটি উটের কমের ওপর যাকাত নেই। পাঁচ ওয়াসাক এর কম শষ্যের ওপর যাকাত নেই।”
(বুখারী,মুসলিম)

শরীয়তের বিধান হলো যদি কাহারো কাছে সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্য-দ্রব্য- এগুলোর কোনোটি পৃথকভাবে পূর্ণ  নিসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু এসবের একাধিক সামগ্রী এ পরিমাণ রয়েছে, যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয় তাহলে এক্ষেত্রে সকল সম্পদ হিসাব করে যাকাত দিতে হবে।
(মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৬৬,৭০৮১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯৩)

আরো জানুনঃ  

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনাকে রুপার পাশাপাশি স্বর্ণের ওপর ও যাকাত দিতে হবে।

এক্ষেত্রে আপনি উক্ত রুপা ও স্বর্ণের বর্তমান (নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক হওয়ার বছর পূর্ণ হওয়ার দিনের) বাজার মুল্য ধরে তাহা হতে ঋণের ২০ হাজার টাকা মাইনাস ক-তে অবশিষ্ট টাকার শতকরা আড়াই পার্সেন্ট তথা চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত হিসেবে প্রদান করবেন।

এক্ষেত্রে আপনার যেহেতু টাকা নেই সেক্ষেত্রে আপনি কিছু রুপা বা কিছু স্বর্ণ বিক্রয় করে যাকাত আদায় করবেন।

তবে আপনার স্বামী যদি আপনার পক্ষ থেকে আদায় করে দেয়, তাহলেও আদায় হয়ে যাবে

(০২)
এক্ষেত্রে কুরবানীর কাজা হিসেবে একটা নুন্যতম ১ বৎসর বয়সী বয়সের বকরির মূল্য গরীবদেরকে সদকাহ করে দিতে হবে। 

সাধরণ সদকার খাতে কুরবানির পশুর মূল্য দিতে হবে। পশুর দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক বৎসর বয়সী একটা মধ্যম ধরণের একটা ছাগলের মূল্য ধর্তব্য হবে। 

একটা ছাগলের মূল্য কয়েকজনের মধ্যে বন্টন করা যাবে। আবার কোনো একজন গরীব মিসকিনকেও দেওয়া যাবে। 

حتى مضت أيام النحر تصدق بقيمة شاة تجوز فى الأضحية (بدائع الصنائع-4/203، هندية-5/296)
সারমর্মঃ
কুরবনী যদি না দেয়া হয়,আর এভাবেই কুরবানীর দিন গুলি যদি অতিবাহিত হয়ে যায় তাহলে একটি ছাগলের মূল্য সদকাহ করে দিবে। 

ولو تركت التضحية ومضت ايام النحر تصدق….. بقيمتها غنى شراها اولا لتعلقها بذمته بشرائها اولا، والمراد بالقيمة قيمة شاة تجزئ فيها وتحته فى الشامى قيمة شاة وسط (الدر المختار مع الشامى-9/463-465
সারমর্মঃ
কেহ যদি কুরবানী ছেড়ে দেয়,আর এভাবেই কুরবানীর দিন গুলি যদি অতিবাহিত হয়ে যায় তাহলে একটি মধ্যম মানের  ছাগলের মূল্য সদকাহ করে দিবে। 

আরো জানুনঃ- 

(০৩)
হ্যাঁ ফিতরা দিতে হবে।

এক্ষেত্রে কত টাকা দিতে হবে,এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 

(০৪)
এভাবে চুক্তি করা শরীয়ত সমর্থন করে না।

তবে অনেকেই বলেন যে এভাবেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে।

(০৫)
এক্ষেত্রে কাফফারা নেই।
এমতাবস্থায় কুরবানীর কাজা হিসেবে একটা নুন্যতম ১ বৎসর বয়সী বয়সের বকরির মূল্য গরীবদেরকে সদকাহ করে দিতে হবে। 

(০৬)
প্রশ্নের বিবরন মতে এসব অলংকার যদি আপনার হস্তগত হয়ে থাকে তারপর শাশুড়ির কাছে রেখে থাকেন, অথবা আপনার সম্মতিতেই শাশুড়ির কাছে রেখে থাকেন, তাহলে এগুলোকে কুরবানী ও যাকাতের নিসাবের অন্তর্ভুক্ত ধরবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...