আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
79 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (10 points)
আসসালামু আলাইকুম,১৪ ফেব্রুয়ারি,

সেদিন সেহরির শেষ সময় ছিল ৫:১৬,ফজরের ওয়াক্তও ৫:১৬ তেই ছিল, পানি খাওয়া শেষ করে দেখি করে দেখি ৫:১৬ বেজে অনেক সময় পার হয়ে গেচে,মানে ৫:১৬ মিনিটে শেষকরি,কয়েক সেকেন্ড বলতে আমি কত সেকেন্ড পার হয়েছে আমি স্মরণ করতে পারছি নাহ,এখন আমার রোজা কি হবে! আর এটা আমার ফরজ রোজা, কাজা রাখছি,


২)কারো ফোনে মাহরাম হোক বা নন মাহরাম,আমি কিভাবে সেই পিক ডিলেট করবো! যদি না করে আমি কিভাবে দায় মুক্ত হবো!


৩)নন মাহরাম কে আমার পিক ডিলিট করার জন্য বলতে পারবো! যদি কোনো উপায় না থাকে তখন!


৪) একজন সরকারি চাকুরীজীবি।তার অফিসের কক্ষে থাকা জিনিস - যা প্রধানত ওই কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ব্যবহার করার জন্য দেয়,কিন্তু সে যদি সেই টিস্যু,কলম,স্টাবলারের পিন,স্প্রে,হ্যানডওয়াশ আনে, এগুলো তার পরিবারের জন্য আনে,তাহলে পরিবারের লোকেরা তা ব্যবহার করতে পারবে! (আমি জিজ্ঞেস করলে সে বলে,এগুলো চুরি করে এনেছে!)তাহলে এই চুরি করা জিনিস ব্যবহার করলে কি হবে!! আবার এই জিনিসগুলো আমাদের জরুরাত,(আপনাদের ফতোয়াতে দেখলাম জরুরত হারামকে হালাল করে)


৪)আমি একজনকে জিজ্ঞেস করলাম কিস্তি মানে তো সুদ নেওয়া,সে বললো তাদের প্রয়োজনেই নিচে,অন্য কোনোভাবে ম্যানেজ করার উপায় ছিল নাহ,ওই পরিবারের ছেলের কারনে কিস্তি নিয়েছে,১০ বার কিস্তি নিচে,এখনো কিস্তি একটা আছে,৪০,০০০ দিলে শেষ হবে,এখন আমার ভাই আমাদের জন্য জা কিছু আনলো, আমাদের যে টাকা দিলো,খরচ করলো, সব কি হারাম হিসাবে গণ্য হবে?আমি তাদের বললে তারা বলে এটা তো জরুরত ছিলো,এটাও জানে তারা এটা সুদ,হারাম!(এখানেও বলি,জরুরত তো হারামকে হালাল করে)এটা কি জরুরতের কাতারেই পড়বে! এই বিষয়টা বুঝিয়ে বলবেন একটু,বিস্তারিত। ইংশা আল্লাহ।


৫) আমার ভাই ২০১৯ সালে সরকারি চাকরিতে ৬০,০০০০ টাকা দিয়ে জয়েন করে,এটাতো ঘুষ,এই চাকরি থেকে পাওয়া বেতন থেকে আমাদের জন্য যা খরচ করেছে বা করে,বা যে পেনশন পাবে,সবই কি হারাম! আমার ঘরে ভাই ছাড়া অন্য কোনো উপার্জনকারী নেই,বাবা উপার্জন নেই,যদি তার টাকা হারামও হয়, সেই টাকা না নেই তাহলে তো চলা খুব মুশকিল হবে!
৫)হারাম খাওয়ার কুফল কি!
৬)–আমার সামনে কেউ অন্যায় করলে,যিনা,ব্যভিচার,পরকিয়া করলে আমার কেমন ব্যবহার হবে তাদের সঙ্গে,বা যারা খারাপ কাজ করে তাদের কিভাবে বুঝাবো!

— মা বাবাকে কিভাবে বুঝাবো, যদি তারা দ্বীনের জ্ঞান দিয়ে বুঝাতে না পারি!!

—যারা খারাপ কাজ করে তাদের ব্যাপরে মা বাবা বা যে কাউকে সতর্ক করা, যেমন- মা ওরা তো অন্যায় করছে,ওরা নোংরামি করতেচে,কিংবা এই আজাব থেকে বাঁচার জন্য যদি প্রমাণ হিসেবে ভিডিও কিংবা পিক তুলি এতে আমার কি গিবত কিংবা অনঅধিকার চর্চা হবে!

শাইখ একটু সুন্দর করে বুঝিয়ে বলবেন,তাহলে মুনাসিব হতো,জাঝাকাল্লাহ।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-

أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَائِكُمْ ۚ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ ۗ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَخْتَانُونَ أَنفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنكُمْ ۖ فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ ۚ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ۖ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ ۚ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ

রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরন কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে। সূরা বাকারা,১৮৭


★চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডারে সতর্কতামূলক ৩ মিনিট পূর্বে সেহরীর শেষ টাইম লিখে দেয়া থাকে, সুতরাং নিজ ইবাদতকে হেফাজত করার স্বার্থে  সতর্কতামূলক ৩ মিনিট পূর্বেই খাবারদাবার শেষ করা ও উচিৎ ও  জরুরী।তবে যদি সঙ্গত কোনো কারণে দু-তিন মিনিট দেড়ী হয়ে যায়,তাহলেও রোযা হবে।কেননা ৩ মিনিট তো রিজার্ভ রয়েছে।যা প্রয়োজনের মূহুর্তে ব্যবহার করা হবে।কিন্তু ৩ মিনিট থেকে একটি মূহুর্তও আর ক্ষমাযোগ্য হবে না। 


আরো জানুনঃ- 

https://www.ifatwa.info/1959


★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনার উক্ত রোজা আদায় হয়নি। পুনরায় সেই রোজা আদায় করতে হবে।

(০২)
এক্ষেত্রে আপনি তাকে আপনার পিকগুলো ডিলিট করতে বলবেন। সে পিক ডিলিট না করলে আপনি তাকে শরীয়তের শাস্তির বিধানগুলো জানাবেন।

(০৩)
এক্ষেত্রে আপনি আপনার মাহরাম কোন পুরুষের মাধ্যমে সেই নন মাহরামকে আপনার পিকগুলো ডিলিট করতে বলবেন।

(০৪)
এক্ষেত্রে তারা মূলত সুদ প্রদান করছে, সুদ গ্রহণ করছে না।

সুতরাং তারা যে আপনাদের টাকা দিয়েছে বা খরচ দিয়েছে, সেটি গ্রহণ করা আপনাদের জন্য হারাম হবে না।

(০৫)
উক্ত চাকরি হতে তিনি যে বেতন পাবেন, সে বেতন গুলো হালাল হবে। বেতন হারাম হবে না।

সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়গুলি নিয়ে চিন্তিত না হওয়ার পরামর্শ থাকবে।

(০৬)
এক্ষেত্রে আপনি শরীয়তের বিধান, জাহান্নামের শাস্তির বিষয় তাদেরকে জানাবেন।

আপনি সাধ্যমত তাদেরকে জানানোর চেষ্টা করবেন। মানা না মানা তাদের বিষয়। কিন্তু আপনি আপনার পক্ষ হতে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

পাশাপাশি মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে তাদের হেদায়াতের দোয়া করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...