0 votes
80 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (18 points)
আসসালামু আলাইকুম।
আমার ভাই জেনারেল লাইনে পড়াশুনা করেছেন। ভার্সিটিতে উঠার পর থেকে (২০০৯ সাল থেকে) মাঝেমধ্যে তাবলীগে সময় দেন। দ্বীনি লেবাসে চলেন, নামাজ, রোজাও রাখেন, নন মাহরাম এড়িয়ে চলারও চেষ্টা করেন। এখন উনি এক বছর ধরে আমেরিকাতে আছেন। ওখানে সেটেল হবেন।
তো সমস্যা হল, উনার সাথে যখনই কথা হয় তখনই চাকরির কথা বলে, বিসিএস এর প্রস্তুতি নিতে বলে, প্রতি সপ্তাহে কোন মাহরাম ছাড়াই বাইরে আম্মুকে নিয়ে ঘুরতে বেড়াতে বলে, উনার কথা আমি বড় হয়েছি কোন পুরুষ ছাড়া একা ঘুরতে পারি আমি, আমার বিয়ে নিয়ে কোন কথা বলে না, উনি চান আমি চাকরি করি, আত্মনির্ভরশীল হই, নাহলে বিয়ের পর হাজবেন্ড আমাকে ডমিনেট করবে, কথা শুনাবে, উনি আমাকে আমেরিকান দ্বীনদার মেয়েদের উদাহরণ টেনে বলে ওরা তো দিব্যি বাইরে দ্বীনের খাতিরে এদিক সেদিক যাচ্ছে, নিজে গাড়ি ড্রাইভ করে। মেয়েরা চাকরি না করে ঘর সামলাবে, বিয়ে করে সংসার করবে, চাকরির দায়িত্ব পুরুষদের এটা বললে উনি বলে কওমী মাদ্রাসায় একটা নির্দিষ্ট  একটা সিলেবাস, একটা গন্ডির ভেতর রেখে পড়াশুনা করানো হয়, তাই তারা চায়না মেয়েরা বাইরে যাক, চাকরি করুক, মেয়েরা মসজিদে গিয়ে দ্বীন শিখুক, এই শিক্ষাপদ্ধতিতে তারা শিখে ঘরের মেয়েদের কিভাবে ডমিনেট করতে হয়, এখন সাহাবাদের যুগ নেই, তাই নাকি আমাকে বিয়ে করে হাজবেন্ডের উপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে না।

 এসব বলে আমাকে বোঝাতে চান। তাই এই বিষয়ে আপনাদের মতামত চাই। উনি ঠিক না আমি ঠিক করছি? উনাকে কিভাবে বোঝাতে পারি? আর যদি বুঝতে না চায় তাহলে কি চুপ থাকাই শ্রেয়?
by (17 points)
এমন চিন্তাধারা কেন গড়ে উঠেছে এবং এর উত্তোরণ কী সে বিষয়ে জানতে এই বইটি পড়া যায়। নারীবাদ এবং ইসলাম নিয়ে ভালো ধারণা গড়ে উঠবে আশা করি। 

1 Answer

+1 vote
by (203,920 points)
edited by
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

প্রয়োজন, অপরাগতা কিংবা ঠেকায় পড়ার পরিস্থিতি ছাড়া সাধারণ অবস্থায় নারীদেরকে ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শরীয়ত তাদের ওপর এমন দায়িত্ব আরোপ করে নি, যার কারণে তাদের ঘরের বাইরে যেতে হয়। 

আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى
‘আর তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে এবং জাহিলিয়াতযুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না।’(সূরা আহযাব ৩৩)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ ، وَإِنَّهَا إِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ ، وَإِنَّهَا لا تَكُونُ أَقْرَبَ إِلَى اللَّهِ مِنْهَا فِي قَعْرِ بَيْتِهَا
‘নারী গোপন জিনিস, যখন সে ঘর থেকে বের হয় শয়তান তাকে তাড়া করে। আর সে আল্লাহ তাআলার সবচে’ নিকটতম তখন হয় যখন সে নিজের ঘরের মাঝে লুকিয়ে থাকে।’ (তাবরানী ২৯৭৪)

নারী মসজিদে যাওয়ার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنَّ ‘তাদের জন্য তাদের ঘর উত্তম।’ (আবু দাউদ ৫৬৭)

নারী চাকরির খাতিরে ঘর থেকে বের হতে পারবে। তবে এর জন্য কিছু নিয়ম ও শর্ত রয়েছে। নিয়ম ও শর্তগুলো মেনে চললে নারীর জন্য ঘর থেকে বের হওয়া জায়েয হবে; অন্যথায় নয়। 
যেমন,
– যদি সত্যিকারে তার চাকরি করার প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে তার জন্য চাকরি করা জায়েয হবে।
– চাকরিটা তার দৈহিক, মানসিক স্বভাব ও রুচির সঙ্গে সামন্জস্যশীল হতে হবে। যেমন, ডাক্তারি, নার্সিং, শিক্ষা, সেলাই কিংবা এ জাতীয় পেশা হতে হবে।
– কর্মক্ষেত্রে পর্দার পরিপূর্ণ পরিবেশ থাকতে হবে। অন্যথায় জায়েয হবে না।
– চাকরির কারণে যাতে পরপুরুষের সঙ্গে সফর করতে না হয়।
– কর্মক্ষেত্রে আসা-যাওয়ার পথে যাতে কোন হারাম কাজ করতে না হয়। যেমন, ড্রাইভারের সঙ্গে একাকী যাওয়া, পারফিউম ব্যবহার করা ইত্যাদি।
– নারীর প্রধান কাজ ও দায়িত্ব হচ্ছে স্বামীর খেদমত করা, তার সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা ও মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করা। যদি চাকরি করতে গিয়ে এসব দায়িত্ব পালনে ব্যাপক অসুবিধা হয় তাহলে তার জন্য চাকরি করা জায়েয হবে না। (ফাতাওয়াল মারআতিল মুসলিমাহ ২/৯৮১ ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/৩৫৯)

মহিলাদের জন্য পর্দা রক্ষা করে ব্যবসা বাণিজ্য ও চাকুরী করা জায়েজ আছে। তবে এক্ষেত্রে যেন পর্দা লঙ্ঘণ না হয়, সেই সাথে শরয়ী অন্য কোন বিধান লঙ্ঘিত না হয়, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
হ্যাঁ, যদি উপার্জনক্ষম কোন মাহরাম আত্মীয় থাকে, বা অভিভাবক থাকে, তাহলে মহিলাদের জন্য ব্যবসা ও চাকরীর জন্য বাহিরে যাওয়া উচিত নয়।

শরয়ী পর্দা ও বিধান অনুসরণ করে মহিলাদের ব্যবসা বাণিজ্য ও চাকুরী করাতে কোন নিষেধাজ্ঞা আসেনি। তা’ই শরয়ী কোন কারণ ছাড়া মহিলাদের ব্যবসা করা ও চাকুরী করাকে হারাম বলার সুযোগ নেই।

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/১১৭; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৫৫; আলবাহরুর রায়েক ১/২০০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৮, ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/৩৫৯

তবে যদি পর্দা লঙ্ঘণ হয়, পুরুষদের মিলে একসাথে কাজ করতে হয়, সেই সাথে ফিতনার আশংকা হয়, তাহলে জায়েজ নেই।
,
আরো জানুনঃ
,
★★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যেহেতু পরিবারে সক্ষম পুরুষ আছে,তাই আপনার জন্য কর্মক্ষেত্রে যাওয়া উচিত নয়।
আপনার জন্য উক্ত কথা গুলি এড়িয়ে চলা উচিত,আপনি পরিপূর্ণ ভাবে দ্বীন মেনে চলুন। 
,
আপনার যদি চাকুরী বেশি প্রয়োজন হয়, উপরে উল্লেখিত শর্ত মেনে যদি চাকুরী করতে পারেন,তাহলে  
বিসিএস এর প্রস্তুতি নিতে পারেন,চাকুরী করতে পারেন,কোনো সমস্যা নেই।
,
তবে পরিপূর্ণ ভাবে উক্ত শর্ত গুলো মানতে হবে।  
বর্তমান ফিতনার যামানায় উক্ত শর্ত গুলো পরিপূর্ণ ভাবে মেনে মহিলাদের চাকুরী করা অনেকটাই কষ্টকর,তাই আপনার জন্য চাকুরী না করার সিদ্ধান্ত সঠিক।
আপনার জন্য উক্ত কথা গুলি এড়িয়ে চলা উচিত,আপনি পরিপূর্ণ ভাবে দ্বীন মেনে চলুন। 

আপনি যদি চাকুরী না করেন,আত্মনির্ভরশীল না হোন, তাহলে বিবাহের পর হাজবেন্ড আপনাকে ডমিনেট করবে, কথা শুনাবে,বিষয়টি সঠিক নয়।
কোনো দ্বীনদার পাত্র এমন হতেই পারেনা।
,
আল্লাহর কাছে দোয়া করুন,যাতে আল্লাহ তায়ালা কোনো দ্বীনদার পাত্রের সাথে আপনার বিবাহের ব্যবস্থা করেন।  


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...