আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
137 views
in সালাত(Prayer) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম।
সম্মানিত উস্তাদ আমার নামাজ নিয়ে কিছু প্রশ্ন ছিলো।

১। নামাজে বাংলা ( আমি ক্বিবলামুখি হয়ে আল্লাহর নামে ফজরের সুন্নত/ফরজ নামাজের নিয়ত বেঁধেছি) এভাবে কি নিয়ত করা যাবে?

২। নামাজ শেষে বসে তাশাহুদ+দুরুদ+দোয়ায়ে মাসুরা+( বিতরে দোয়ায়ে কুনুত পড়া)  এই নিয়ম টা কি ঠিক আছে? হানাফি মাজহাব অনুসারে....

৩। তারাবিহ নামাজের আগে তো আমরা ইশার নামাজ আদায় করি ১৫ রাকাত সেক্ষেত্রে বিতর ও তারাবিহ পড়ে পড়তে হয় তাই না? ইশার ১২ রাখাত পড়ে মুনাজাত আদায় করে কি  তারাবিহ শুরু করবো? এবং তারাবিহ ২০ রাখাত পড়ে কি আগে  মুনাজাত শেষ করে তারপর কি বিতর পড়ে আবার মুনাজাত করবো??

৪। তারাবীহ নামাজ সুন্নত নাকি নফল? আর তারাবীহ পড়ে ৪ রাকাতে বেলায় যে একটি দোয়া ( সুবহানাজিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি) এই দোয়া কি পড়তে হয়? এবং মোনাজাতে যে আরেকটি দোয়া ( আল্লাহুম্মা ইন্না নাস আলুকাল)  পড়া কতটা যৌক্তিক??

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
https://ifatwa.info/4188/ নং ফাতাওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে,নিয়ত মানে হল মনস্থির করা। কোন কাজটি করছি? কেন করছি? কার জন্য করছি? কি করছি? এসব বিষয় নির্ধারণ করার নাম হল নিয়ত।

প্রতিটি কাজের সওয়াব পাবার জন্য নিয়ত থাকা আবশ্যক।

নিয়ত বাংলায় বা আরবীতে বলা জরুরী নয়। আরবীতে যেসব নিয়ত আমাদের দেশে প্রচলিত এসব শব্দে কোন নিয়ত কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়।তবে এসব নিয়তগুলো মূলত আমরা মনে মনে যে বিষয়গুলোর নিয়ত করে থাকি, তারই আরবীতে প্রকাশিত রূপ। এসব সুন্নাত মনে না করে এমনিতে পড়তে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সুন্নত মনে করলে বিদআত হবে।

মূল কথা, নামাযের নিয়তের জন্য আরবীতে মুখে নিয়ত করার প্রমাণ নেই। মনে মনে নিয়ত করলেই যথেষ্ট।

হাদীস শরীফে এসেছে   

عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ «إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِامْرِئٍ مَا نَوٰى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهٗ إِلَى اللهِ وَرَسُوْلِه فَهِجْرَتُهٗ إِلَى اللهِ وَرَسُولِه وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهٗ اِلٰى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا فَهِجْرَتُهٗ إِلٰى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ»

 ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিয়্যাতের উপরই কাজের ফলাফল নির্ভরশীল। মানুষ তার নিয়্যাত অনুযায়ী ফল পাবে। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সন্তুষ্টির জন্য হিজরত করবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সন্তুষ্টির জন্যই গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার স্বার্থপ্রাপ্তির জন্য অথবা কোন মহিলাকে বিবাহের জন্য হিজরত করবে সে হিজরত তার নিয়্যাত অনুসারেই হবে যে নিয়্যাতে সে হিজরত করেছে।  সহীহ : বুখারী ১, মুসলিম ১৯০৭, তিরমিযী ১৬৩৭, নাসায়ী ৭৫, আবূ দাঊদ ২২০১, ইবনু মাজাহ্ ৪২২৭, আহমাদ ১৬৯, ৩০২।

তবে কিছু উলামায়ে কেরামগন নামাজের শুরুতে মুখে  নিয়ত করাকে পুরোপুরি ভাবে বিদয়াত বলে আখ্যায়িত করেছেন।   

তারা কিছু রেফারেন্স দেনঃ 
*হাফিয ইবনুল ক্বাইয়্যিম রহ. বলেনঃ

মুখে নিয়ত পাঠ করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈ কারো হতেই কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। মুখে পাঠের এই পদ্ধতি শয়তানের একটি কুমন্ত্রণা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন শুধু “আল্লাহু আকবার” বলতেন। আর আগে কিছু বলতেন না। সুতরাং মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত পাঠ করা বিদআত। চার ইমামও এরূপ নিয়তনামা পড়াকে পছন্দ করেন নি। [ইগাসাতুল লাহফান, ১/১৩৬ ।। যাদুল মাআদ, ১/৫১]

“আরবি নিয়ত শব্দের অর্থ হল মনে ইচ্ছা পোষণ করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এটা প্রমাণিত নেই। না প্রমাণিত আছে কোন সাহাবী এবং তাবেঈ থেকেও। তাই মুখে নিয়ত পাঠ করা বিদআত।” [ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, ৩৩৯-৩৪০ পৃষ্ঠা]

*মোল্লা আলী কারী রহ. বলেন:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ত্রিশ হাজার ওয়াক্ত নামায আদায় করেছেন। তথাপি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এই কথা বর্ণিত নেই যে, আমি অমুক অমুক ওয়াক্ত নামাযের নিয়ত করছি। সুতরাং মুখে নিয়ত উচ্চারণ না করাটাই সুন্নাত। জেনে রাখুন, শব্দ উচ্চারণ করে মুখে নিয়ত করা জায়েজ নয়। কারণ এটা বিদআত। সুতরাং যে কাজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেন নি তা যে করে সে বিদআতি। [দেখুনঃ মিরকাত, ১/৩৬-৩৭]

সুতরাং সালাত শুরু করার পূর্বে কোন সালাত, কয় রাকআত, তা ফরয, সুন্নত না কি নফল এ বিষয়গুলো অন্তরে জাগ্রত থাকলে তাই নিয়তের জন্য যথেষ্ট।

যেহেতু এক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামদের মতবিরোধ রয়েছে,তাই জরুরি,সুন্নাত মনে না করে পড়া যদিও জায়েজ আছে,তব  সতর্কতামূলক মুখে নিয়ত না করাই উচিত বলে মনে করছি। অন্তর থেকেই নিয়ত করে নিবে।

★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতিতে নামাজে আপনি এভাবে বাংলায় নিয়ত করতে পারবেন।

এতে কোনো সমস্যা নেই।

(০২)
ঠিক আছে।

তবে বিতর নামাজে দোয়ায়ে কুনুত শেষ বৈঠকে নয়।
বরং ৩য় রাকাতে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা মিলানোর পর তাকবির বলে হাত বেঁধে দোয়ায়ে কুনুত পড়তে হয়।

(০৩)
ঈশার চার রাকাত ফরজ নামাজের পর ২ রাকাত সুন্নত পড়ে তারাবিহ আদায় করবেন, এরপর বিতর নামাজ আদায় করবেন।

এমতাবস্থায় কোন ক্ষেত্রেই দোয়া করা আবশ্যক নয়। আপনি চাইলে দুইবার দোয়া করতে পারেন। চাইলে যে কোন একবার দোয়া করতে পারেন। চাইলে কোনরূপ দোয়া নাও করতে পারে কোন সমস্যা নেই।

(০৪)
তারাবীহ এর সালাত প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমানের উপর সুন্নাতে মুআক্কাদা। 

তারাবিহ নামাজে প্রশ্নে উল্লেখিত উভয় দোয়া পড়ার বিধান জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...