আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
120 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (13 points)
আসসালামু আলাইকুম।
আমি আমার স্বামীর সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ মনোমালিন্যপূর্ন সম্পর্কে আছি। উনি অনেক দ্বীনদার মানুষ। আমার ভিতর ফরয ইবাদতে ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া তার মন মত হতে পারি না। চেষ্টা করলেও পারি না। কোন দিক দিয়ে তিনি আমাকে নিয়ে খুশি নন। আর এমনকি এজন্য তিনি ২য় বিবাহও করতে চান। তাতে আমার কোন বাধা নেই। আমাদের ১ টা সন্তান রয়েছে যার বয়স ৩ বছর। আমি এই বাচ্চা হওয়ার পর থেকেই মূলত তার সাথে আমার সম্পর্কের অবনতি দেখতে পাচ্ছি। আমি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে থাকাকালীন তার সাথে অনেক রাগারাগি করতাম। এবং তারও অনেক আচরনে আমি তার প্রতি সম্মানবোধ করতাম না, কষ্ট পেতাম। কিস্ত ভেবেছিলাম তিনি আমাকে মাফ করে দেবেন এবং আমাকে শুধরাতে সাহায্য করবেন, নিজেও নিজের ভুল গুলো শুধরাবেন। কিন্ত তার বদতে দিন দিন তিনি আমার প্রতি আরো উদাসীন আর অবহেলার আচরন করেন যেগুলো আমাকে কঠিনভাবে আহত করছে। আমি মানসিকভাবে অনেক বেশি ভেঙ্গে পড়েছি। তার এসব নিত্যদিনের আচরনে আমি কষ্টের কারনে যা নামায কালাম পড়তাম বা আমল করার চেষ্টা করতাম তার কিছুতেই আর এস্তেকামাত থাকতে পারি না। বরং সন্তানের দ্বীনি তারবিয়্যাহ, দৈনন্দিন কাজ কর্ম সব কিছুতেই এসবের প্রভাব লক্ষ্য করছি। আমি বুঝতে পারছি তার প্রতি দুর্বলতা আমাকে দ্বীন থেকে দুরে নিয়ে যাচ্ছে। আমি যে আশা করি যে তিনি আমার প্রতি কোমল হবেন, বিনয়ী হবেন এবং দায়িত্বের সাথে ক্ষমা করে দিয়ে আমাকে তার সন্তানদের মা হিসেবে পাশে নিয়ে চলবেন কিন্ত তার মনোভাব সম্পূর্ন উল্টো। তিনি বরং আমাকে খারাপ চোখে দেখেন, আমাকে তার অসহ্য লাগে, আমার কোন ১ টা ভালো দিক তার চোখে পড়ে না এমনকি আমার প্রতি তার বিন্দু মাত্র সম্মান টুকু নেই। ভালোবাসা আবেগ কেয়ার এজাতীয় শব্দ দুরে থাক। তিনি নিজ মুখে এগুলো আমাকে বলেছেন ও বারংবার। এমনকি ছোটখাট কথা কাটাকাটিতেও তিনি আমাকে নিচু অনুভব করাতে, আমাকে কতটা ঘৃনা করেন তা বুঝাতে বাকি রাখেন না। এমনকি জান্নাতেও তিনি আমাকে চান না। এমনকি কাবার সামনে গিয়েও আমাকে যেন মাফ করা না হয় এমন সব দুআ তিনি করেন। আমি তার কাছে বারংবার মাফ চেয়েছি। চেষ্টা করেছি তার পছন্দসই চলতে। এখনো চেষ্টা জারি আছে কিন্ত তার আচরনের বিন্দু মাত্র পরিবর্তন হয় না আমার প্রতি। অন্যান্য দ্বীনি ভাইদের স্ত্রীদের দ্বীনদারিতায় মুগ্ধ হয়ে তিনি আমাকে তাদের সাথে তুলনা করেন। যেগুলো তার অন্তরে এমনভাবে বদ্ধমূল হয়ে গেছে যে ওমন স্ত্রী না পেলে তার হবে না। আমি যদি তাদের লেভেলে পৌছাতে পারি তাহলে আমার প্রতি তিনি কোমল হবেন নতুবা যখনই সামর্থ্য হবে দ্বীনদার স্ত্রী নিয়াসবেন এমন প্রচেষ্টায় আছেন। এখন আমি ইমানগতভাবে খুবই করুন অবস্থায় আছি। আমার গর্ভে আরেকটা সন্তান। আমার ইচ্ছা সন্তানগুলোকে দ্বীনের জন্য বড় করা। কিন্ত আমার নিজের ইসলাহ ব্যতীত সন্তানদের সঠিক তারবিয়্যাহ আমি দিতে পারছি না। আমার স্বামী আমাকে ভরনপোষন দেন। আমাকে পর্দায় রাখেন। আমান সন্তানের ভরনপোষন দেন এবং আমার দেনমোহর থেকে শুরু করে যাবতীয় ব্যাপারে ইনসাফ করেছেন। কিন্ত আমি তার সাথে এরুপ মানসিক যন্ত্রনাদায়ক সম্পর্কে থাকতে পারছিনা। কারন আমি মহিলা মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই আমার স্বামীর কাছ থেকে আমার আবেগ অনুভুতির চাহিদা আছে যেগুলোর খেয়াল তিনি রাখবে এটা আমার জন্য একটা মৌলিক চাহিদা। কিন্ত তিনি আমার প্রতি এত বেশি রূঢ় হয়ে গেছেন যা তার পরিচিত যে কেউ শুনলেই অবাক হয়। আমি আমার দোষ অস্বীকার করি না। কিন্ত আমি মনে করি তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমার সাথে কোন বিদ্বেষ অন্তরে পোষন করেন যেটা দীর্ঘদিনের। এভাবে তার সাথে থাকতে লাগলে আমি মানসিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে যাচ্ছি। তিনি হয়ত আমাকে নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন করেন না। কিন্ত তার চুপ থেকেও যেই মানসিক নির্যাতন আমি সহ্য করি তা আমার জন্য দিন দিন অসহনীয় হয়ে যাচ্ছে। যার আমার সাথে এত সমস্যা আমি এমন মানুষের স্ত্রী হয়ে থাকার চেয়ে সব কলঙ্ক মেনে নিয়ে একাকিত্বের জীবন মেনে নিতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করবো। অন্তত একা থেকে আল্লাহর দিকে সিজদাহ দিতে হতাশায় ভুগবো না।
কোন আলেমের কাছে গিয়ে তিনি এসব নিয়ে আলোচনা কে লজ্জাজনক মনে করেন। কাউন্সেলিং বা এধরনের বিষয়কে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। তার মতে, একমাত্র আমার অনেক সমস্যা আছে সেগুলো ঠিক করলেই তিনি নাকি আমার প্রতি আবেগ অনুভূতি দেখাবেন বা আমি যা চাই তা পাবো। যেমন ভালো আচরন, আবেগ অনুভূতি ভালোবাসা ইত্যাদি। অতএব তিনি কোন আলেমের নিকট যাবেন না এসব নিয়ে।

এখন আমার প্রশ্ন হলো, যেহেতু তিনি আমার ভরনপোষন দেন এবং আমার প্রতি তার দায়িত্ব পালন করেন। তারপরও তার সাথে সংসার করা আমার জন্য কষ্টদায়ক হয়ে যাচ্ছে কারন আমি মানসিকভাবে নির্যাতিত অনুভব করছি, এমনকি তিনি স্বাভাবিকভাবে আমার সাথে কোন কথা বরেন না। কোন মাশওয়ারা করেন না। কোন আবেগ অনুভূতির কথা বলেন না, শোনেন ও না। আমার জন্য তার কোন সময়ও নেই যদিএ বাইরের মানুষদের দেয়ার জন্য অনেক সময় আর ইন্টারেস্ট তার আছে, তাহলে
(১) তার সাথে আমি কি খুলা তালাক নিতে পারি কি না?
(২) যদি পারি, তাহলে কিসের বিনিময়ে সরে যাবো? তিনি আমার দেনমোহর পুরোটা পরিশোধ করেছেন কিন্ত সেগুলো আমার কাছে এখন নেই।
আমি এস্তেখারা করে যাচ্ছি, কারন আমার সন্তানদের জন্যই মূলত আমি তার সাথে বিচ্ছেদের চিন্তা করি না। কিন্ত তিনি দিন দিন আমার প্রতি কঠিন থেকে কঠিনতম আচরন করে যাচ্ছেন যা আমাকেও কঠিন করে ফেলছে। আমি এসবের ভিতরেও আল্লাহর জন্য সন্তান নিজের গর্ভে ধারন করেছি আবার কিন্ত তারপরও তার আমার প্রতি তার সন্তানের মা হিসাবেও বিন্দুমাত্র আবেগ অনুভূতি বা সম্মান কাজ করে না আমি তা তার আচরন আর কথায় স্পষ্টভাবে বুঝি। এসবের কারনে আমি আমার বাচ্চার সাথেও সুস্থ্য আচরন করতে ব্যর্থ হচ্ছি। আর আমার দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্ম যেমন কঠিন হয়ে যাচ্ছে তেমনি আমলের অবস্থা খুবই করুন হয়ে পড়েছে হতাশায় ভুগে ভুগে।
দয়া করে আমাকে পরামর্শ দেবেন। যদিও একদিক থেকে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কষ্টকর। আমি রাগ ক্ষোভ দেখিয়ে অভিমান করে চলে যাবো বললেও তিনি কখনোই আমাকে থামানোর জন্য হলেও কিছুই বলেন না। মনে হয় তিনি আমার এসব কথায় আমার দৌড় কতটুকু সেটা দেখতে চান। আর আমি চাই তার আমার প্রতি কেয়ার দেখতে। যেগুলো কখনোই তিনি দেখান না।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ- 
بسم الله الرحمن الرحيم


https://ifatwa.info/25088/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ-
স্বামীর পক্ষ থেকে যে তালাক দেয়া হয় সেটাকে তালাক বলা হয়।

আর স্ত্রীর পক্ষ থেকে কাযী সাহেব বা উনার স্থলাভিষিক্ত কারো নিকট তালাক চাওয়ার ভিত্তিতে মালের বিনিময়ে যে বিবাহ বিচ্ছেদ করা হয়, তাকে খোলা বলে।
,
খোলা তালাক দ্বারা বায়েন তালাক পতিত হয়। 
যদি এক তালাকের উপর খোলা হয়ে থাকে,তাহলে এক তালাকে বায়েন পতিত হবে।
যদি কোনো সংখ্যা লেখা না থাকে, তাহলেও এক তালাকে বায়েন পতিত হবে।
,
যদি তিন তালাকের উপর খোলা করে থাকে, তাহলে তিন তালাক পতিত হবে।
,
খোলা হচ্ছে: কোন কিছুর বিনিময়ে স্ত্রী বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। এক্ষেত্রে স্বামী সে বিনিময়টি গ্রহণ করে স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে; এ বিনিময়টি স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদত্ত মোহরানা হোক কিংবা এর চেয়ে বেশি সম্পদ হোক কিংবা এর চেয়ে কম হোক।

★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
খোলা তালাক দ্বারা বায়েন তালাক পতিত হয়।
সেক্ষেত্রে ইদ্দত তিন হায়েজ অতিক্রম করা হবে।
এক হায়েজ নয়।    

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ , أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «جَعَلَ الْخُلْعَ تَطْلِيقَةً بَائِنَةً»

হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ খোলাকে এক তালাকে বাইন সাব্যস্ত করেছেন। {সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৪০২৫, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১৮৪৪৮, মুজামে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-২৩০, আসসুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-১৪৮৬৫}

খোলা তালাক  সংক্রান্ত জানুনঃ
,
কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া কোন মহিলা তার স্বামী থেকে তালাক চাওয়া হারাম ও কবীরা গুনাহ্।

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا طَلَاقًا فِيْ غَيْرِ مَا بَأْسٍ ؛ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْـجَنَّةِ.

‘‘যে কোন মহিলা কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া নিজ স্বামীর নিকট তালাক চাইলো তার উপর জান্নাতের সুগন্ধি হারাম হয়ে যাবে’’। (আবূ দাউদ ২২২৬; তিরমিযী ১১৮৭; ইব্নু মাজাহ্ ২০৫৫)

এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরন মতে আপনার স্বামী আপনার ভরনপোষন দেন। আপনাকে পর্দায় রাখেন। আপনার সন্তানের ভরনপোষন দেন এবং আপনার দেনমোহর থেকে শুরু করে যাবতীয় ব্যাপারে ইনসাফ করেছেন। 

এক্ষেত্রে তিনি যদি আপনার শারীরিক হক পূর্ণ ভাবে আদায় করেন,সেক্ষেত্রে তালাক চাওয়ার বৈধতা নেই।

এক্ষেত্রে আপনি তার সাথে এরুপ মানসিক যন্ত্রনাদায়ক সম্পর্কে থাকতে পারছেননা,এক্ষেত্রে আপনি তার সাথে বসে একান্ত এ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। এতে সমাধান না হলে পরামর্শ থাকবে স্বামীকে নিয়ে মাস্তুরাত জামাতে যাবেন।

প্রতি মাসে তিন দিন আল্লাহর রাস্তায় সময় লাগাবেন। প্রতি বছরে একবার স্বামীকে নিয়ে চিল্লায় যাবেন। ইনশাআল্লাহ আপনাদের মন মেজাজ সংশোধন হয়ে যাবে।

এতেও কাজ না হলে উভয় পরিবারের মুরব্বিদের মাধ্যমে মিটিং করে বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি ভাবে আপনারা আলোচনা করবেন ইনশাআল্লাহ সমাধান মিলবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
তিনি আমার মনসিক দিকের প্রতি যেমনি কেয়ারলেস, তেমনি অসম্মানজনক আচরন ও করেন। তার ব্যাপারে আমি এখনো কোন অভিযোগ করিনি কারন আমি তার সব বিষয়ে ছাড় দিয়ে চলার মনোভাবে আছি। কিন্ত তিনি আমার কোন কিছু নিয়েই সন্তুষ্ট না। আর আমার সাথে স্বাভাবিক কথাবার্তা, আচরন ইত্যাদি করেন না। আমার শারীরিক চাহিদার ব্যাপারেও তিনি  উদাসীন যদিও বলবো না যে তিনি অক্ষম। বরং আমি এখানেও তার কেয়ারলেসনেস দেখি। আমি তার ত্রুটির ব্যাপারে শুধুই ছাড় দিয়ে চলছি আর আমার কিঞ্চিৎ ত্রুটির ব্যাপারেও তিনি আমাকে যা কষ্ট দেয় সেসব আচরন জারি রেখেছেন। উঠতে বসতে ভর্ৎসনা করেন। ছোট খাট বিষয়ে আমার ইমান নেই, তাকওয়া নেই, আমি ফেমিনিস্ট ইত্যাদি কথা দ্বারা আমাকে কষ্ট দেন। আমি কি কথা বা আচরনে  কষ্ট পাই তা তাকে বিস্তারিত বললেও তাতে তার কোন আসে যায় না। এধরনের অবহেলা আমাকে এসলাহের বদলে হতাশার মাধ্যমে আরো দুর্বল করে দিচ্ছে দিন দিন। আপনি মাসতরাত জামায়াতের যেই পরামর্শ দিলেন, জনাব সেখানে আমাকে নিতে পারবেন না যেহেতু আমাদের ছোট বাচ্চা আছে তাছাড়া উনি নিজেই চিল্লা বা এজাতীয় জামায়াতে নিয়মিত আসা যাওয়া করেন। 
সবচেয়ে গুরুতর বিষয় যে তার এসব আচরনের কারনে তার প্রতি আমার সম্মান হারাচ্ছে, দেখা যাচ্ছে তার ভিতরে আমাকে নিয়ে পুশে রাখা রাগের কারনে তিনি আমার গর্ভে সন্তান থাকা অবস্থায়ও আমার গায়ে হাত তুলেছেন এবং আগেও বেশ কয়েকবার আমার গায়ে হাত তুলেছেন সন্তানের সামনে কিন্ত আজ পর্যন্ত সেসবের কারনে আমার কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন নি, সরি বলা তো দুরের বিষয়। আমি তার দ্বীনদারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলি না কারন আমার দৃষ্টিতে এসলাহ একটা চলমান প্রক্রিয়া কিন্ত তিনি যেমন আমাকে বদদ্বীন বলে বলে ভর্ৎসনা করেন তেমনি আমি চাইলে তার আমল নিয়ে মানুষের সামনে তাকে উন্মোচন করতে পারি কিন্ত আমি তার সাথে সুসম্পর্কই চাই। যেটা তিনি যদি চাইতেন তাহলে এধরনের আচরন আমার সাথে করতে পারতেন না। তিনি আমার ভরনপোষন ঠিকভাবে করলেও তো আমাকে মানসিকভাবে টর্চার করে চলেছেন। এটার সমাধান আমি কোথায় পাবো? 

পরিবারের মুরুব্বি যেমন তার মাকেই আমি খোলামেলা এগুলো বলার পর তার মা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন কিন্ত তাতেও তার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। আমি আমান পরিবারকে এসবের ভিতর আনতে চাই না কারন আমার পরিবারকে তিনি অন্তর থেকে ঘৃনা করে, অসম্মান করে, আমাকে আমার মা বাপ ধরেও গালি দেন প্রয়োজনে এবং তারা মানে আমার পরিবার তার (আমার স্বামীর) লেভেলের দ্বীনের বুঝ নিয়েও চলেন না যে আমার স্বামী তাদের কথা নেবেন বা বুঝবেন। স্বাভাবিকভাবেই তিনি আমার পরিবারকে আমার দালাল মনে করেন। 

শেষমেস ছিলো তার আলেম সহচর্য, যাদেরকো জানিয়েও লাভ হয়নি। নয়তো তারা উপহাস করে তার উপর যে তার স্ত্রী মানে আমি নাকি বদদ্বীন এবং অননুগত, এবং তাদের বুঝানোতেও আমার স্বামীর কোন ফায়দা হয় না। 

এসব সমস্যা দীর্ঘ ৯ বছরের। 
by (770,460 points)
আপনার স্বামী যেহেতু আপনার শারীরিক চাহিদার ব্যাপারে উদাসীন, পাশাপাশি তিনি আপনাকে প্রহার করেন এবং গর্ভাবস্থা তেও তিনি আপনাকে প্রহার করেছেন, পাশাপাশি তিনি সর্বদা আপনার উপর দীর্ঘ ৯ বছর ধরে মানসিক টর্চার চালিয়েই যাচ্ছেন,এসব বিষয় বিবেচনা করে আপনি চাইলে আপনার স্বামী হতে তালাক নিতে পারবেন।

তিনি তালাক দিতে রাজি না হলে আপনি আদালতের মাধ্যমে খোলা তালাক নিতে পারবেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...