আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
227 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম । আমার বিয়ে হয়েছে তিন বছর হলো । আমার হাজব্যান্ড এবং আমি দুইজন ই স্টুডেন্ট । বাসা থেকে দুইজন এর পরিবার দুইজন এর খরচ বহন করছে । পড়াশুনা রানিং এবং ইনকাম সোর্স না থাকায় হাজব্যান্ড এখন ও পরিবার এর দায়িত্ব নিতে সক্ষম নন । আমার আব্বু আম্মু সবসময় চায় ভবিষ্যৎ এ আমি যেন সরকারি বা ভালো কোনো জব করি । হাজব্যান্ড দীনদার ভবিষ্যৎ এ আল্লাহ রিযিক এর ব্যবস্থা করে দেবেন ইনশাআল্লাহ। সে চায় না আমি চাকরি করি , আমার নিজের ও তেমন ইচ্ছা নাই । কিন্তু আমার আব্বু আম্মু যেহেতু পড়াশুনা সব কিছুর খরচ বহন করছে তাদের ইচ্ছা যে তাদের মতো নয়তো তার থেকে ভালো কোনো চাকরি করতে হবে । আম্মু মাঝে মধ্যে অনেক বেশি ইমোশনাল কথা ও বলে যে আমি ডিপেনডেন্ট না হলে মরে গেলেও নাকি তাদের আত্তা শান্তি পাবে না ।  তারা এখন ই আমায় চাকরির কোচিং এ ভর্তি হতে বলে এন্ড সো ওন যাবতীয় যা যা করতে হয় সব  cost bear করবে । এমতাবস্থায় আমার কি করা উচিৎ ?? বা তাদের খুশির জন্য ও কি করতে পারি? বা চাকরী করলেও কোন ধরনের চাকরির চেষ্টা করা জায়েয হবে ??
by (1 point)
আমি ইংলিশ এ পড়ছি । সহশিক্ষা হারাম অনেক বার মনে হয়েছে জেনারেল স্টাডি বাদ দেব কিন্তু পারিপার্শ্বিক , পরিবার সব কিছু মিলিয়ে সম্ভব হয় নি । আব্বু আম্মু দুইজন এ সরকারি চাকরিজীবী । সব কিছু মিলিয়ে মানুষ কে দেখানো হোক বা না হোক তাদের মতো চাকরি করতে হবে ব্যাপার টা এমন । আমি যদি বলি চাকরি করব না বা পড়াশুনা বাদ দেব তখন আমার সাথে কথা বলতে চায় না । আম্মু অনেক সময় কান্না কাটি ও করে । বলে শরীয়াহ মেনে পর্দা করেও তো চাকরি করা যায় । এখন তাদের অবাধ্য হয়ে কি পড়াশুনা সব কিছু বাদ দেওয়া আমার উচিত হবে । নাকি চাকরির চেষ্টা করবো করলেও কোন ক্ষেত্রে ? 
by (1 point)
হাজব্যান্ড এর পারিবারিক অবস্থান তুলনামূলক একটু কম আর এখন o চাকরীজীবি নয় । আমার রেজাল্ট জেএসসি এসএসসি hsc সব কিছুতে গোল্ডেন ৫.০ এখন ও অনার্স e first class । যার জন্য তাদের এক্সপেকটেশন অনেক বেশি । এমন না তাদের কে চাকরি করে খাওয়াতে হবে । কিন্তু তাদের ধারণা আমি চাকরি না করলে আমার অন্যান্য ভাই বোন এর তুলনায় কম ভালো থাকবো । উস্তাদ আমি উভয় সংকট এ পরে গেছি । প্লীজ জানাবেন এমতাবস্থায় কি করা উচিত 

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

মহিলাদের জন্য স্বামীর অনুমতি ব্যাতিত চাকরি করা নাজায়েজ। 
তবে তারপরেও কেহ যদি চাকুরী করে,তাহলে তার ইনকাম হালাল হবে,হারাম হবেনা।      
তবে স্বামীর বৈধ আদেশ অমান্যের গুনাহ তার হবে।

শরীয়তের বিধান হলো স্বামীর বৈধ আদেশ পালন করা ওয়াজিব।  

হাদীস শরীফে  এসেছে-

একবার এক নারী সাহাবী রাসূলের কাছে এলেন নিজের কোনো প্রয়োজনে। যাওয়ার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি স্বামী আছে? তিনি বললেন, জী, আছে। নবীজী বললেন, তার সাথে তোমার আচরণ কেমন? সে বলল, আমি যথাসাধ্য তার সাথে ভালো আচরণ করার চেষ্টা করি। তখন নবীজী বললেন, فانظري أين أنت منه، فإنما هو جنتك ونارك
 হাঁ, তার সাথে তোমার আচরণের বিষয়ে সজাগ থাকো, কারণ সে তোমার জান্নাত বা তোমার জাহান্নাম। (মুআত্তা মালেক, হাদীস ৯৫২; মুসনাদে আহমাদ, ৪/৩৪১ হাদীস ১৯০০৩; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ২৭৬৯; সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদীস ১৪৭০৬)

অপর হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إذا صلت المرأة خمسها ، وصامت شهرها ، وحصنت فرجها ، وأطاعت زوجها قيل لها : ادخلي الجنة من أي أبواب الجنة شئت
নারী যখন পাঁচ ওয়াক্ত  নামায ঠিকমত আদায় করবে, রমযানের রোযা রাখবে,  আপন লজ্জাস্থানের হেফাযত করবে,  স্বামীর আনুগত্য করবে তখন সে  জান্নাতের যেই দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে। (সহীহ ইবনে হিব্বান,  হাদীস ৪১৬৩)

★স্বামী যদি স্ত্রীকে চাকরির অনুমতি না দেন, তাহলে ওই স্ত্রী চাকরি করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে চাকরির অনুমতি না দেওয়া স্বামীর জন্য জায়েজ রয়েছে। স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রী চাকরি করতে পারবেন না, এটি তার জন্য জায়েজ নেই। এই কাজটি স্ত্রী করলে তিনি গুনাহগার হবেন।
,
বিস্তারিত  জানুনঃ  

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার স্বামী যেহেতু আপনাকে চাকরি করতে দিতে রাজি নন, এমতাবস্থায় আপনার জন্য চাকরি করা জায়েজ হবে না।

তদুপরি বাবা-মার চাপে যদি আপনাকে চাকরি করতেই হয়, সেক্ষেত্রে উপরে উল্লেখিত লিংকে দেওয়া শর্ত মোতাবেক কোন চাকরি পেলে সেই চাকরি আপনি করতে পারেন।

সেক্ষেত্রে স্বামীর আদেশ অমান্যের গুনাহ আপনার হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (1 point)
উস্তাদ বাসার কথা চিন্তা করে হাজব্যান্ড বলছে যে চাকরি করলেও ৩,৪ বছর বা ৫ বছর সর্বোচ্চ । তার পর ও সেটা কোন চাকরি সেই প্রেক্ষিতে । পর্দা মেইনটেইন করে । শরীয়াহ মেনে । এখন আমি জানতে চাচ্ছি আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এমন কোন কোন পেশা আছে যেটার জন্য চেষ্টা করে চাকরি করা জায়েয হবে ???
by (770,460 points)
নারী চাকরির খাতিরে ঘর থেকে বের হতে পারবে। তবে এর জন্য কিছু নিয়ম ও শর্ত রয়েছে। নিয়ম ও শর্তগুলো মেনে চললে নারীর জন্য ঘর থেকে বের হওয়া জায়েয হবে; অন্যথায় নয়। 

যেমন,
– যদি সত্যিকারে তার চাকরি করার প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে তার জন্য চাকরি করা জায়েয হবে।

– চাকরিটা তার দৈহিক, মানসিক স্বভাব ও রুচির সঙ্গে সামন্জস্যশীল হতে হবে। যেমন, ডাক্তারি, নার্সিং, শিক্ষা, সেলাই কিংবা এ জাতীয় পেশা হতে হবে।

– কর্মক্ষেত্রে পর্দার পরিপূর্ণ পরিবেশ থাকতে হবে। অন্যথায় জায়েয হবে না।

– চাকরির কারণে যাতে পরপুরুষের সঙ্গে সফর করতে না হয়।

– কর্মক্ষেত্রে আসা-যাওয়ার পথে যাতে কোন হারাম কাজ করতে না হয়। যেমন, ড্রাইভারের সঙ্গে একাকী যাওয়া, পারফিউম ব্যবহার করা ইত্যাদি।

– নারীর প্রধান কাজ ও দায়িত্ব হচ্ছে স্বামীর খেদমত করা, তার সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা ও মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করা। যদি চাকরি করতে গিয়ে এসব দায়িত্ব পালনে ব্যাপক অসুবিধা হয় তাহলে তার জন্য চাকরি করা জায়েয হবে না। (ফাতাওয়াল মারআতিল মুসলিমাহ ২/৯৮১ ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/৩৫৯)

আরো জানুনঃ- 

★সুতরাং আপনি প্রাইমারি স্কুলে,বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বা মহিলা কলেজে শিক্ষকতা করতে পারেন।

অথবা উপরে উল্লেখিত শর্তাবলী মেনে যেকোনো চাকরি করতে পারেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...