আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
90 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম,আমি একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট।আমরা একটা বাচ্চা আছে।ওর বয়স বর্তমানে ৯ মাস।আমি বাচ্চাকে নিয়ে একাই থাকি।ফ্যামিলির কেউ সাথে থাকে না।বাচ্চাকে পালতে ফ্যামিলি সাপোর্ট পাই না কোনো।সাথে হেল্পিং হেন্ড একজন আছে।আমি কলেজে থাকাকালীন সে বাচ্চাকে রাখে।কলেজ থেকে এসে আমিই ওকে দেখভাল করি।ওর সবকিছু একা হাতে সামলাই।আমার পরিবার আমার থেকে প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার দূরে থাকার কারণে আমাকে এসে সাহায্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।এমতাবস্থায় একমাস আগে আমি জানতে পারি যে আমি আবারো গর্ভধারণ করেছি।আমার বাচ্চাটাকে আমি রাখতে চেয়েছিলাম।কিন্তু সবকিছু একা সামলানো আমার জন্য ক্রমাগত কষ্টকর হয়ে যাচ্ছিলো।কয়েকমাস আগেই একটা সন্তান জন্মদান,পড়ালেখার অমানবিক চাপ সাথে একা একটা দুধের শিশু সামলানো এবং আবার গর্ভধারণ, আমি অত্যাধিক দূর্বল হয়ে পরি।বড় বাচ্চা দুধ কম পাচ্ছিলো ফলে ও জ্বালাতন শুরু করে।আমি খেয়াল করলাম যে আমি ওর উপর রাগ দেখাচ্ছি।একদিন ছোটো বাচ্চাটাকে চড় দিয়ে বসি।পরে নিজেই আবার কান্না করি।তাছাড়া আমি প্রথম বাচ্চা জন্মের পর থেকেই পোস্ট পার্টাম ডিপ্রেশনে আক্রান্ত ছিলাম।বড় বাচ্চা জন্মের পর আমার শাশুড়ী এসে চারমাস থেকেছিলেন।তখন উনি আমাকে মেন্টালি অনেক টর্চার করেছেন।আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম।আমাকে এন্টি ডিপ্রেসেন্টও খেতে হয়েছে।এবং এখন পর্যন্তও আমি পোস্ট পার্টাম ডিপ্রেশনে ভুগছি।কেউ এটা গুরুত্বই দেয় না।যখন আমি বলি আমার ম্যান্টাল সাপোর্ট দরকার তখন শুনতে হয় তুমি একটু বেশিই চিন্তা করো।আমি পড়ালেখা ছেড়ে দেয়ার কথা শুনলে সবার মাথায় আকাশ ভেঙে পরে, আমার বাবা আমার মায়ের উপর টর্চার শুরু করে,কিন্তু কেউ আমাকে সাহায্য করে না। হুট করেই একদিন সিদ্ধান্ত নেই যে,আমি প্র্যাগনেন্সি টার্মিনেট করবো।আমি এই কষ্ট আর সহ্য করতে পারছি না।এবং আমার আড়াই মাসের বাচ্চা টাকে আমি আল্লাহর কাছে পাঠিয়ে দেই।ভেবেছিলাম সব ঠিক হয়ে যাবে।কিন্তু না,আমি তো এখন আরো বেশি কষ্ট পাচ্ছি।অপরাধবোধে শেষ হয়ে যাচ্ছি। আমি ঘুমাতে পারি না,খেতে পারি না।সবকিছুই করে যাচ্ছি কিন্তু মানসিক শান্তি পাচ্ছি না।বারবার প্যানিক অ্যাটাক হচ্ছে। আল্লাহর কাছে কি জবাব দিবো,জাহান্নামের শাস্তি, সাথে আমার বাচ্চাটার কথা চিন্তা আসলেই আমি প্রচন্ড ভেঙে পরি,হাত-পায়ে কাঁপুনি আসে,সারা শরীর অবশ হয়ে যায়।আমি অসংখ্য বার তাওবা করেছি।আল্লাহর কাছে অনেক কান্না করেছি তিনি যাতে আমাকে ক্ষমা করে দেন।এই পাপের কাফফরা কি আছে?আমি কি করলে ক্ষমা পাবো,আমার মানসিক প্রশান্তি ফিরে আসবে?আমি জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চাই।

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
চারমাস পূর্বে গর্ভপাতঃ
অর্থাৎ-গর্ভাশয়ে সৃষ্ট সন্তান চারমাস অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে ঔষধের মাধ্যমে বিনষ্ট করে দেয়।

চারমাস পর গর্ভপাতঃ
অর্থাৎ-গর্ভাশয়ে সৃষ্ট সন্তানকে চারমাস অতিবাহিত হওয়ার পর ঔষধের মাধ্যমে বিনষ্ট করে দেয়া।

চারমাস পূর্বে গর্ভপাত
এ পদ্ধতি শরীয়ত সম্মত প্রয়োজন ব্যতীত নাজায়েজ ও হারাম।
বিশেষ কিছু কারণে শরীয়ত অনুমোদন প্রদান করে থাকে।
(ক)বর্তমানে কোলে দুধের একটি শিশু রয়েছে,অপরদিকে উক্ত মহিলার গর্ভাশয়ে নতুন সন্তানও উৎপাদিত হচ্ছে। গর্ভের ধরুন দুধ একেবারে শুকিয়ে গেছে। অপরদিকে উক্ত সন্তানকে অন্যকোনো উপায়ে লালনপালন করা যাচ্ছেনা। মায়ের দুধ ব্যতীত অন্যকিছুতে সে মূখই দিচ্ছে না। এমতাবস্থায় চারমাস হয়নি এমন গর্ভকে গর্ভপাত করা বৈধ রয়েছে।
(খ)কোনো মুসলমান বিজ্ঞ ডাক্তার উক্ত গর্ভবতী মহিলাকে পরিদর্শন করে বলে যে,গর্ভপাত না করলে মহিলার জান বা কোনো অঙ্গ বিনাশের আশঙ্কা রয়েছে।

চারমাস পর গর্ভপাত সম্পূর্ণ হারাম।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-
https://www.ifatwa.info/446

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
প্রশ্নের বিবরণমতে আপনি চার মাসের পূর্বে গর্ভপাত করতে পারবেন। আপনার গোনাহ হবে না। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
আমার প্রশ্নটা ভালো ভাবে পড়ে তারপর উত্তর দেয়ার অনুরোধ রইলো।এখানে আমি তো স্বামীর কথা কিছু বলি নি
by (814,710 points)
সংযোজন ও সংশোধন করা হয়েছে।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...