আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
106 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম।
আমার হায়েজ ঠিক ই ছিল ১ সপ্তাহের মধ্য শেষ হত সেটা আস্তে আস্তে ৯/১০ দিনে গিয়ে শেষ হতে লাগল। এবং ১৫ দিন পর পর ই হায়েজ হয় হাল্কা আগে রক্তস্রাব দেখা দিত। কিন্তু এরপরে হালকা হলুদাভ বা এশ কালার স্রাব দেখা যাচ্ছিল তো হায়েজ এর ধরে স্বলাত অফ করতাম এবং সেটার ৩/৪ দিন পর ব্লিডিং হত ১০ দিনের দিন শেষ হত এরকম কয়েক বছর চলেছে এখন ও ১৫ দিনের দিন বা ১৬ দিনের দিন পুরোপুরি সাদা না কেমন যেন ধরায়াও যায় না কালার তারপর আমি স্বলাত অফ করি দেখা যায় তিন চার দিনের দিন ফোটা ব্লাড যায় এরপর ৭ দিনের দিন ভারী ব্লাড যায় আর এই ভারী ব্লাড ১১/১২/১৩ তম দিন গুলাও থাকে কালচে গন্ধ এটা ঝরতে থাকে না তবে একটু পর পর ই দেখা যায়।
এই মাসে ১৬ দিনের দিন কেমন যেন অন্য কালার ধরা যায় না আবার সাদাও লাগেনা পরে আমি অভ্যাসবসত স্বলাত অফ রাখি এবং এই অফ রাখার মধ্যও সাদা রঙ এর স্রাব পাই তারপর ৭/৮ দিনের দিন গিয়ে ব্লিডিং শুরু হয় এখন ১১ তম দিনেও কালচে /লাল স্রাব দেখা যাচ্ছে। এখন আমি হায়েজের শুরু কোনটাকে ধরব?  ১১/১২ তম দিনেও যে স্রাব যায় কালচে রংয়ের গন্ধযুক্ত এই সময় কি স্বলাত পড়ব ইস্তেহাজা ধরে নকি আমার কোথাও ভুল হচ্ছে, স্বলাত নিয়ে আমি বেশ ঝামেলায় পড়ে গেসি ওয়াসওয়াসা কাজ করে আমি এখন কিভাবে হিসেব করব? হায়েজ

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী তুহর তথা দুই হায়েজের মাঝে পবিত্রতার সর্বনিম্ন সীমা পনেরো দিন।
এই পনেরো দিনের মধ্যে কোনো রক্ত আসলে সেটি হায়েজ নয়,বরং সেটি ইস্তেহাজা তথা অসুস্থতা।
এই সময়ে নামাজ রোযা আদায় করতে হবে।    
হজরত হান্নাদ [রহ] আম্মাজান আয়েশা [রা]-এর হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, ফাতিমা বিনতে হুবাইশ নামক এক নারী একবার রাসুল [সা]-এর সমীপে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসুল, আমি একজন ইস্তেহাযাগ্রস্ত মেয়ে। আমি তো পাক হই না। তাই আমি কি নামাজ পড়া ছেড়ে দেবো? রাসুল [সা] বললেন, না, কারণ এ রক্ত হায়েযের নয়; বরং এ হলো শিরা থেকে বেরিয়ে আসা রক্ত। সুতরাং যখন তোমার হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলি আসে তখন সে দিনগুলি নামাজ ছেড়ে দেবে। আর হায়েযের দিন চলে গেলে তোমার রক্ত ধুয়ে নেবে এবং নামাজ আদায় করবে। [তিরমিজি, হাদিস-১২৫]
,
আরো জানুনঃ   

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ৩ তিন,আর সর্বোচ্ছ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬)  

হাদীস শরীফে এসেছে   
أقل الحیض للجاریۃ البکر والثیب ثلاثۃ أیام ولیالیہا وأکثرہ عشرۃ أیام
دار قطني، السنن، 1: 219، رقم: 61
রাসুল সাঃ বলেন  মহিলাদের হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা হলো ৩ দিন ৩ রাত,সর্বোচ্চ সীমা হলো ১০ দিন ১০ রাত।

হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক,সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। 
উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা।
(কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)

তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,

عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "

তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।(মুয়াত্তা মালিক-১২৭)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে পূর্বের হায়েজ বন্ধ হওয়ার ১৬ তম দিনে আপনি যে স্রাব দেখেছেন,এটি যদি সাদা ব্যাতিত অন্য কালারের হয়ে থাকে,সেক্ষেত্রে ১৬ তম দিন হতে পূর্বের মাসের অভ্যাস অনুপাতে আপনি হায়েজ ধরবেন। 

পূর্বের হায়েজ বন্ধ হওয়ার ১৬ তম দিনে আপনি যে স্রাব দেখেছেন,এটি যদি সাদা কালারের হয়ে থাকে,সেক্ষেত্রে ৭/৮ম দিন হতে পূর্বের মাসের অভ্যাস অনুপাতে আপনি হায়েজ ধরবেন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
সাদা কালার নাকি কি কালার বুঝাও যায় না কেমন যেন সাদাও মনে হয় আবার অন্য রং ও মনে হয় তখন কিভাবে কি ধরব? আর যদি অন্য রং ধরে স্বলাত অফ করি মাঝে সাদা রংয়ের স্রাব ও পাই আবার অন্য রং এর মত ও পাই আর সবশেষে ৭/৮ তম দিনে ব্লিডিং শুরু হয়। এরকম হলে কোনটা ধরব হায়েজ? 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 211 views
...