আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
63 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ,  আমি ৭ মাসের প্রেগন্যান্ট।  আমার হিমোগ্লোবিন কম থাকায় রক্ত নিতে হবে ২ ব্যাগ। এখন আমি যদি কোন হিন্দু ব্যক্তি থেকে রক্ত নিই তাতে কি  শরয়ী দৃষ্টিতে কোন নিষেধাজ্ঞা আছে? এতে কি আমার ঈমানের উপর কোন প্রভাব পড়তে পারে? একটু ইমার্জেন্সি জানালে উপকার হত।  জাযাকিল্লাহু খইর।

1 Answer

0 votes
by (766,140 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/38095/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছে, 
শরীয়তের বিধান হলো কোনো অভিজ্ঞ ডাক্তার যদি কোনো অসুস্থ ব্যাক্তি সম্পর্কে বলে যে তাকে রক্ত দেওয়া ব্যাতিত তার বেঁচে থাকা মুশকিল,তাহলে তাকে রক্ত দেওয়া যাবে।
(কিতাবুন নাওয়াজেল ১৬/২০২)

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

عن مسروق قال: من اضطرب إلی المیتۃ والدم ولحم الخنزیر فلم یأکل ولم یشرب حتی یموت دخل النار۔ (السنن الکبریٰ للبیہقي ۱۴؍۳۸۲ رقم: ۲۰۱۹۶)
সারমর্মঃ
যে ব্যাক্তি মুরদাহ খাওয়ার উপর নিরুপায় হয়ে যায়,অথবা রক্ত,শুকরের গোশত খাওয়ার উপর নিরুপায় হয়ে যায়,অতঃপর তাহা না খেয়ে মারা যায়,তাহলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

অসুস্থ ব্যক্তিকে রক্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে-

এক. যখন কোনো অসুস্থ ব্যক্তির জীবননাশের আশঙ্কা দেখা দেয় এবং অভিজ্ঞ ডাক্তারের মতে তার শরীরে অন্যের রক্ত দেওয়া ছাড়া বাঁচানোর কোনো পন্থা থাকে না, তখন রক্ত দিতে কোনো অসুবিধা নেই। বরং এ ক্ষেত্রে ইসলাম রক্তদানে উৎসাহ দিয়েছে।

দুই. রক্ত দেওয়া প্রয়োজন। অর্থাৎ অসুস্থ ব্যক্তির মৃত্যুর আশঙ্কা নেই, কিন্তু রক্ত দেওয়া ছাড়া তার জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যাবে অথবা রোগমুক্তি বিলম্বিত হয়; এমন অবস্থায় রক্ত দেওয়া আবশ্যিক জায়েজ।

তিন. যখন রোগীর শরীরে রক্ত দেওয়ার খুব বেশি প্রয়োজন দেখা দেয় না, বরং রক্ত না দেওয়ার অবকাশ থাকে; তখন অযথা রক্ত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

চার. যখন জীবননাশের এবং অসুস্থতা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না, বরং শুধু শক্তি বৃদ্ধি এবং সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্য থাকে; সে অবস্থায় ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক রক্তদান জায়েজ নয়।
(জাওয়াহিরুল ফিকহ, খ-: ২, পৃষ্ঠা: ৩৮)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন, 
একজন মুসলিম রোগীকে একজন অমুসলিমের রক্ত দিয়ে রক্তদান করা জায়েজ, কিন্তু এটি উত্তম নয়।

কারণ একজন অমুসলিমের রক্তে অশুভ প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার এবং তাকে প্রভাবিত করার জাতীয় ঝুঁকি রয়েছে, যে কারণে উম্মাহর নেককার ব্যক্তিরা একজন ফাসেকাহ মহিলার বুকের দুধ খাওয়ানো পছন্দ করতেন না। 

অতএব, যতটা সম্ভব একজন মুসলিম রোগীকে একজন অমুসলিমের রক্ত দিয়ে রক্তদান করা থেকে বিরত থাকাই ভালো। 

হ্যাঁ যদি বিশেষ প্রয়োজন হয় এবং অন্য কোন উপায় না থাকে, তাহলে তখন এমনটি করার পরামর্শ থাকবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 90 views
...