আসসালামু আলাইকুম, আমি একজন অসহায় মা অসহায় নারী, আমার বিয়ের ৯ বছর চলে, ফ্যামিলি গত ভাবেই আমাদের বিয়ে হয়, আমার বিয়ের সময় আমার বয়স ছিলো ২০+ আর আমার হাসবেন্ড এর ৪০+. আমাদের দুইটা সন্তান আছে, আমার স্বামী অনেক অল্প বয়স থেকেই বিভিন্ন নারীর সাথে জিনায় লিপ্ত ছিলো, আমার বিদের দের বছর পরে এক নারী এসে দাবি করে তার সাথে আমার স্বামী মসজিদ ধরে বিয়ে হয়েছে, তাদের বিয়েতে কোন কাজি বা শাক্ষি ছিলো না, তাদের একটা মেয়েও আছে, এই বিষয় আমার স্বামীকে জিজ্ঞেস করলে সে অই মহিলাকে অনেক বকাঝকা করে আর সম্পুর্ন বিষয় টা অশিকার করে, তবে সেটা আমার সামনে অই মহিলার ফোন ধরতে বললে সেটা ধরেনা বা তাকে সরাসরি কিছু বলতে পারেনা, তখন বিষয় টা আমার সন্দেহ হয় এবং আমি রাগ করে আমার ৭ মাসের ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যাই,
তবে সেখানে গিয়েও মায়ের খারাপ ব্যবহার আর স্বামীর মিথ্যা অপবাদ (সে বাড়ি ফিরতে বললে আমি যখন বলি আর ফিরবো না তখন সে আমাকে বলে সে আমার আর আমার বাবার নামে মিথ্যা মামলা দেবে যে আমি তার ২০ ভরি গহনা নিয়ে পালিয়ে গেছি, আর তার একজন শ্বার্নকার বন্ধু আছে তাই এই কাজ টা করাতার জন্য অনেক সহজ ছিলো, কিন্তু আমি তার বাড়ি থেকে সম্পুর্ন নিশ্ব হয়ে তার দেওয়া নাকফুল টাও খুলে হাতের মোবাইল টাও দিয়ে এক কাপড়ে ছেলেকে নিয়ে বেড় হয়ে গিয়েছিলাম, আমার বাবা খুভ গরিব তার এতগুলো গহনা দেওয়ার স্বাধ্য নেই তাই ) ভয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হই,
ফিরে আসার পর সে কুরআন শরীফ ধরে আল্লাহর নামে কসম কেরে বলে অই নারীর সাথে সে আর কখনো যোগাযোগ করবে না বা কোন ধরনের সম্পর্ক রাখবে না, তারপর থেকে অনিচ্ছা সত্যেও তার সাথে সংসার করে যাচ্ছি, আর সে খুভ স্বাভাবিক ভাবেই আমার সাথে সংসার করে তবে কিছু সময় কিছু বিষয় সন্দেহ হলেও প্রমান পাইনি, কিন্তু ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে হঠাৎ তার একটা মেমরিকার্ড আমি বিছানাই পাই, তার পকেট থেকে পরেযায়, সেই মেমরিকার্ড টা আমার মোবাইল এ চালু করার পরে তার অতিতের সকল নোংরামি র প্রমান আমার হাতে আসে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২২ সাল পযন্ত করাঅনেক নোংরামির ছবি পাই সেখানে, তখন ও আমি তাকে ছেড়ে দিতে চাইলে সে আবার সন্তান দের রেখে দেওয়ার হুমকি দেয়, আর আমার ভাইয়ের ক্ষতি করার হুমকি দেয়, আর আবারও কুরআন ধরে আল্লাহর কসম কেরে বলে এরপর থেকে সে আর এসব কিছুর সাথে নিজেকে জরাবে না, বিগত দুই বছর ধরে সে প্রায় প্রতিদিন ই কুরআন শরীফ ধরে আল্লাহর নামে কসম কেরে বলে সে কোন জিনায় লিপ্ত নেই, কোন নারির সাথে ফোনেও কথা বলেনা এমন আরও অনেক অনেক কসম কারে, অথচ আমার জন্য আনা শাড়ি সে সেইম আরেকটা কিনে আনে, আমার জন্য কেনা জামা সে সেইম আরেকটা কিনে, বিদেশ ঘুরতে গেলে আমার জন্য কেনা সেইম শ্যম্পু সাবান সে আরেকটা কিনে, আরও এমন অনেক অনেক কিছুতেই সন্দেহ হয় তার প্রতি, কিন্তু এগুলো জিজ্ঞেস করলে সে অন্ন অন্ন বন্ধুদের নাম দেয়, যে তারা আনতে বলেছে বা নানা অজুহাত আরকি.
গত ৫ ডিসেম্বর থেকে, প্রায় দেড়মাস ধরে তার সাথে আমার ঝগড়া লাগার পর আমার ননাস এসে আমাকে মারধর করে এটা নিয়ে অনেক ঝামেলা হওয়ার পর থেকে সে সময় মতো ঘরে আসেনা খাবার খায়না আমার আত্বীয় স্বজন সবার কাছে আমার নামে অনেক অনেক অভিযোগ করে, আর বলে সে আমাকে ডিভোর্স দেবে, কিন্তু সে ডিভোর্স ও দেয়না আবার ঠিকমতো ঘর সংসারেও মনোযোগ দেয়না, আগের থেকেই সে আমার ভরন পোষনে উদাশীন, সন্তানদের টা মোটামুটি পালন করলেও আমার দ্বায়িত্ব সে নিতে চায়না, বলে টাকা নেই, কিন্তু সে তার ফ্যামিলি বোন ভাগিনা ভাগনি, তাদের ঘরের নাতি নাতনী দের ও শীতের পোশাক গরমের আলাদা পোশাক, ঈদের পোশাক বিদেশে ঘুরতে গেলে তাদের জন্য নানা রকমের গিফট সব ই করছে শুধু আমার বিষয় উদাশীন আর বলবে টাকা নেই.
গত বুধবার তার মোবাইলে আমি সেই নারীর নাম্বার কল লিস্টে পাই আবার, তাকে জিজ্ঞেস করলে সে নাম্বার কেটে দিয়ে মিথ্যা নাটক সাজায় আরও নানা রকমের কথা বলে বিষয় টা অশিক্কার করে, কিন্তু নিজের চোখ যে তো অবিশ্বাস করা যায়না আমিতো নিজে দেখেছি নাম্বার টা কল লিস্টে.
এরপর থেকে আমি খুভ ভেংগে পড়েছি, আমি আর কিছুতেই নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছিনা, সারাদিন রাত আমার খুভ কান্না পায়, আর মরে যেতে ইচ্ছে করে, কিন্তু আল্লাহর হুকুম অমান্য করে আমি আত্তহত্যাও করতে চাইনা, তবে সারাদিন রাত নামায পরে আমি একটাই দোয়া করি আল্লাহ যেনো আমাকে আর আমার দুই সন্তান কে তার কাছে নিয়ে যান আর আমাদের সব আয়ু যেনো আমার স্বামীকে দিয়ে দেন.
এক দিকে সে আমার দ্বায়িত্ব নেয়না আবার ডিভোর্স ও দেয়না, আমি নিজে দিতে চাইলে বাচ্চাদের নিজের কাছে রেখে দেওয়ার হুমকি দেয়, তার ফ্যামিলির সমস্যার কারনে আমি বাড়ি ছেড়ে আলাদা বাড়িতে যেতে চাইলে সে রাজি হয়না সে এই বাড়ি ছেড়ে যাবেনা, অপরদিকে তার পরোকিয়া, সবকিছু মিলিয়ে আমি বড্ড বেশি অসহায় হয়ে পরেছি,
এখন আমি যদি যোর করে আলাদা ঘর নিয়ে তাকে রেখে সন্তানদেরকে নিয়ে আলাদা থাকি ডিভোর্স ছাড়া, কিন্তু তার সাথে সব ধরনের শারীরিক সম্পর্ক ছিন্ন করি তাহলে কি আমি গুনাহগার হবো?? তার নোংরা শরীর টার কথা মনে হলেও আমার গা ঘিন ঘিন করে. তাই তার থেকে দূরে থাকতে চাই,
অপর দিকে এই মুহূর্তে আমি যদি মৃত্যু কামনা করি তাহলে কি খুভ অপরাধ হবে??
তআর সাথে ডিভোর্স নেওয়াও সম্ভব না, তার সাথে সংসার করাও সম্ভব না, এই অবস্থায় আমি মৃত্যু ছাড়া আর কোন পথ খোলা দেখছিনা,
আমি সাধ্য মতো ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরার চেস্টা করি, তাহাজ্জুদ, হাজত, নামায পরার চেস্টা করি, যথা সম্ভব ইস্তেগফার দুরুদ পড়া কুরআন তিলাওয়াত করা, সকল পুরুষ দের থেকে দূরে থাকা, সকল পুরুষ আত্বীয় স্বজন দের সাথে কথা বা দেখা কোনটাই হয়না, মোটকথা সকল প্রকার হারাম থেকে দূরে থাকার চেস্টা করি আর আল্লাহর রহমতের পথে চলার চেস্টা করি তারপর ও এইবার আমি কোন পথ খুজে পাচ্ছিনা. কি করবো নিজেও বুজে উঠতে পারছিনা. আমাকে একটা পথ বলে দিলে মুনাসিব হতো.