আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
8 views
ago in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (34 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ,


‌১. আমি ভুল করে এক জনের (পুরুষের) কাপড় পাল্টাতে দেখে ফেলেছি তবে তার সতর দেখিনি।এখন এক্ষেত্রে আমার করণীয় কি?(বি:দ্র: তার দরজা খোলা ছিল)

২.তাবলীগের গাশতে এক ভাই ভুল কিছু বলে ফেলেছিল।এই কারণে প্রায় সবার হাসি আসে।আমারো এসেছিল তবে নিজেকে আটকে রেখেছি।আমি তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে হাসি নাই।আমি কি তার হক নষ্ট করেছি?

৩. বিতরের নামাজ পড়ার সময় ২য় রাকাতে তাহাশাহুদ পড়ছিলাম ঐসময় মনে হলো আমি ১ম রাকাতে আছি তাই আল্লাহু আকবার বলে আবার উঠে দাড়ালাম তখন বুঝতে পারলাম যে,আমি ২য় রাকাতেই ছিলাম তাই আমি আবার বসে পরি আর যে পর্যন্ত তাশাহুদ পড়েছিলাম সেখান থেকে শুরু করে তাশাহুদ শেষ করে যথানিয়মে নামাজ পড়ি আর সাহু সিজদা দেই। আমার নামাজ কি আদায় হয়েছে?

৪.রোজা অবস্থায় আমি কুলি করার সময় ভুল করে পানির কিছু ফোটা জিহ্বার শেষ প্রান্তে চলে যায় আমি থুতু ফেলি কিন্তু এরপর আমি ডুব গিললে সম্ভবত পানির কিছু অংশ গলায় চলে যায় ও ঢেকুর আসে।ঐটা পানি কিনা নিশ্চিত না। আমার রোজা কি ভেঙ্গে গেছে?(২৩ শে রমজান ২০২৫)

৫. বিতরের নামাজে দুয়া কুনুতে "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম " পড়তে গিয়ে শেষে যে "জীম" আছে তাতে সম্ভবত ভুল করে জীমের মাখরাজের বদলে জীহ্বার আগা বা তার কাছাকাছি জিহ্বার উপরে তালুর সাথে লাগিয়ে জীম উচ্চারণ করি এবং উচ্চারণ এর সময় অনেকট "যাল" এর মত হয়।এখন নামাজ কি ভেঙ্গে গেছে? এবং এতে কি গুণাহ হয়েছে?
(বিতর - ২৪ শে মার্চ ২০২৫ )

৬.যেসব নামাজ নিঃশব্দে পড়তে হয় সেই নামাজে যদি কোনো সুরা পড়া সহ অন্যান্য সময় যেমন রুকু সেজদা, বৈঠকে যদি কোনো অংশ জোড়ে পড়ে আর এটা ভুলে পড়েছে নাকি ইচ্ছা করে পড়েছি তা নিশ্চিত না। এতে নামাজ কি ভেঙ্গে যাবে?আর জোরে পড়েছি কিনা নিঃশব্দে পড়েছি তা নিয়ে যদি সন্দেহ হয় তবে নামাজ কি ভেঙ্গে যাবে?আর এসব ক্ষেত্রে কি গুনাহ হবে?(আছর এর ফরজ নামাজ ২৯ শে জানুয়ারি ২০২৫)

৭. নামাজে যদি রুকুতে যেতে নিল কিন্তু হাত হাঁটুতে রাখার আগে যদি সুবহানা রব্বিয়াল আযীম বলা শুরু করে তবে নামাজ কি হবে?আর যদি এ নিয়ে সন্দেহ হয় তবে নামাজ হবে?
(এশার ফরজ নামাজ ৩০ শে জানুয়ারি ২০২৫)

৮.নামাজে যদি সিজদাতে যাওয়ার সময় ইচ্ছা করে বা ভুল করে যদি হাত মাটিতে ঘষা মারি একবার তবে কি নামাজ ভেঙ্গে যাবে এবং এতে কি গুণাহ হবে?আর যদি এরকমটা হয় কিন্তু এটা ইচ্ছা করে হয়েছে নাকি ভুল করে হয়েছে তা নিশ্চিত না তখন করণীয় কি?
(যোহরের ২ রাকাত সুন্নত -১১ ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫

৯. ইবুক (বই) লেখার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত টপিক কি জায়েয?

ক. প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে,প্রকৃতি নিয়ে।
খ. স্বাস্থ্য বিষয়ক,রোগ ভাইরাস, চিকিৎসা,রোগ প্রতিরোধ, প্রতিকার বিষয়ক।
গ. পড়াশোনা বিষয়ক

১০. যেসব ইবুক সাইটে হারাম-হালাল উভয় টপিকের বই বিক্রি হয় সেসব সাইট শরীয়তসম্মত টপিক এর বই বিক্রি করে ইনকাম করা কি জায়েজ?

1 Answer

0 votes
ago by (720,840 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
https://www.ifatwa.info/7802/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
কারো সতরের দিকে তাকানো অবশ্যই কবিরা গোনাহ।
হাসান বসরী (রহঃ) হতে মুরসালরূপে বর্ণিত।
"عن الحسن مرسلًا قال: بلغني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لعن الله الناظر والمنظور إليه".(کتاب النکاح،باب النظر إلى المخطوبة وبيان العورات،936/2ط:المکتب الاسلامی۔بیروت)
তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বেচ্ছায় নারীকে দর্শনকারী পুরুষ ও স্বেচ্ছায় প্রদর্শনকারিণী নারী উভয়ের ওপর আল্লাহ তা’আলার লা’নাত (অভিশাপ)।[মিশকাত-৩১২৫, শু‘আবুল ঈমান ৭৩৯৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৩৫৬৬। (হাদীসটি যঈফ, কারণ এর সনদে ‘আবদুর রহমান বিন সালমান একজন দুর্বল রাবী)]

মুল্লা আলী কারী রাহ লিখেন,
"وعن الحسن) أي البصري (مرسلا قال: بلغني) أي عن الصحابة (أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قال: لعن الله الناظر) أي بالقصد والاختيار (والمنظور إليه) أي من غير عذر واضطرار، وحذف المفعول ليعم جميع ما لا يجوز النظر إليه تفخيما لشأنه (رواه البيهقي في شعب الإيمان)۔"(كتاب النکاح،59/5 ط:دارالفکر)
সতরের দিকে স্বেচ্ছায় দৃষ্টি প্রদানকারী এবং বিনা উজরে সতর প্রদর্শন কারীর উপর আল্লাহর লা'নত।

আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত।
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ وَلَا الْمَرْأَةُ إِلَى عَوْرَةِ الْمَرْأَةِ وَلَا يُفْضِي الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ وَلَا تُفْضِي الْمَرْأَةُ إِلَى الْمَرْأَةِ فِي ثوب وَاحِد» . رَوَاهُ مُسلم
 তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো পুরুষ যেন অপর পুরুষের এবং কোনো নারী যেন অপর নারীর সতর (লজ্জাস্থান) না দেখে। আর কোনো পুরুষ যেন অপর পুরুষের সাথে এক কাপড়ের নিচে না ঘুমায় (পৌঁছে)। আর কোনো নারীও যেন অপর নারীর সাথে এক কাপড়ের নিচে না থাকে। [সহীহ মুসলিম ৩৩৮, তিরমিযী ২৭৯৩, আহমাদ ১১৬০১, ইরওয়া ১৮০৮, সহীহ আল জামি‘ ৭৮০০,মিশকাত-৩১০০]

’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত।
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ: «يَا عَلِيُّ لَا تُبْرِزْ فَخِذَكَ وَلَا تَنْظُرْ إِلَى فَخِذِ حَيٍّ وَلَا مَيِّتٍ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ’আলী! তুমি নিজের উরু (রান) খুলো না এবং কোনো জীবিত বা মৃতের উরুর প্রতিও দৃষ্টিপাত করো না। [আবূ দাঊদ ৩১৪০, ইবনু মাজাহ ১৪৬০, আহমাদ ১২৪৯, ইরওয়া ৬৯৮, য‘ঈফ আল জামি‘ ৬১৮৭, মিশকাত-৩১১৩] হাদিসটির সনদ যঈফ। 

"الأصل أن النظر إلى العورة حرام."
(المبسوط للسرخسی- کتاب الخنثی،105/30 ط:دارالمعرفۃ)
সতরের দিকে দৃষ্টি প্রদান করা হারাম।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যেহেতু তার সতর দেখেননি, তাই আপনার গুনাহ হবে না।

(০২)
প্রশ্নের বিবরণ মতে এতে তার হক নষ্ট হয়নি।
তবে সে কষ্ট পেয়ে থাকলে আপনি তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে পারেন।

(০৩)
আপনার নামাজ আদায় হয়েছে।

(০৪)
যেহেতু এই পানি গলায় চলে গিয়েছে, তাই আপনার রোজা ভেঙ্গে গিয়েছে। 

(০৫)
আপনার নামাজ আদায় হয়েছে।
এতে আপনার গুনাহ হয়নি।

(০৬)
এক্ষেত্রে নামাজ শুদ্ধ হওয়ার মতো কিরাআত তথা বড় এক আয়াত বা ছোট তিন আয়াত পরিমাণ কেরাত জোরে পড়ে থাকলে সেজদায়ে সাহু আবশ্যক হবে।

(০৭)
এক্ষেত্রে নামাজ হয়ে যাবে।

(০৮)
এতে নামাজ হয়ে যাবে।

তবে দুই হাত দ্বারা যদি এমন ভাবে করা হয় যাতে আমলের কাসির-এর ন্যায় মনে হয়, সেক্ষেত্রে নামাজ ভেঙ্গে যাবে।

(০৯)
হ্যাঁ জায়েজ আছে।

(১০)
যেসব ইবুক সাইটে হারাম-হালাল উভয় টপিকের বই বিক্রি হয়, সেসব সাইটে শরীয়তসম্মত টপিক এর বই বিক্রি করে ইনকাম করা জায়েজ আছে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ago by (720,840 points)
الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (2/ 81):

"(والجهر فيما يخافت فيه) للإمام، (وعكسه) لكل مصل في الأصح، والأصح تقديره (بقدر ما تجوز به الصلاة في الفصلين. وقيل:) قائله قاضي خان، يجب السهو (بهما) أي بالجهر والمخافتة (مطلقاً) أي قل أو كثر.

(قوله: والجهر فيما يخافت فيه للإمام إلخ) في العبارة قلب، وصوابها: والجهر فيما يخافت لكل مصل، وعكسه للإمام، ح وهذا ما صححه في البدائع والدرر، ومال إليه في الفتح وشرح المنية والبحر والنهر والحلية على خلاف ما في الهداية والزيلعي وغيرهما، من أن وجوب الجهر والمخافتة من خصائص الإمام دون المنفرد.

والحاصل: أن الجهر في الجهرية لا يجب على المنفرد اتفاقاً؛ وإنما الخلاف في وجوب الإخفاء عليه في السرية، وظاهر الرواية عدم الوجوب، كما صرح بذلك في التتارخانية عن المحيط، وكذا في الذخيرة وشروح الهداية كالنهاية والكفاية والعناية ومعراج الدراية. وصرحوا بأن وجوب السهو عليه إذا جهر فيما يخافت رواية النوادر اهـ فعلى ظاهر الرواية لا سهو على المنفرد إذا جهر فيما يخافت فيه، وإنما هو على الإمام فقط.

(قوله: والأصح إلخ) وصححه في الهداية والفتح والتبيين والمنية؛ لأن اليسير من الجهر والإخفاء لا يمكن الاحتراز عنه، وعن الكثير يمكن، وما تصح به الصلاة كثير، غير أن ذلك عنده آية واحدة، وعندهما ثلاث آيات هداية. (قوله: في الفصلين) أي في المسألتين مسألة الجهر والإخفاء".

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...