আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
21 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

১)রাবেয়া বসরী (রা) ঘরে বসেই ওনার প্রয়োজনীয় সব কিছু পেয়ে যেতেন এটা কি সত্যি শাইখ?যদি সত্যি হয় তাহলে একটু বলবেন দয়া করে যে উনি কি এমন আমল করতেন যার বদলে আল্লাহর এত প্রিয় বান্দা হয়ে ঘরে বসেই সব পেয়ে যেতেন?

আমি একজন মেয়ে হয়ে ঐ লেভেলের আমল করা কি সম্ভব আমার পক্ষে?

২)আউয়াল ওয়াক্ত শুরু এবং শেষ কখন এটা কিভাবে বুঝবো শাইখ?

৩)সাদা স্রাবের সমস্যা আমার নেই আলহামদুলিল্লাহ। তারপরও দেখা যায় অনেক ক্ষণ ধরে নামাজ পড়লে একটু বের হয়‌ই। তো ওয়াশ রুমে গিয়ে পরিষ্কার হয়ে ওজু করে আবার নামাজে মনোযোগ আনা কঠিন হয়ে যায়।তাই আমি ছোট্ট একটা সুতি কাপড় নিয়ে প্রস্রাবের রাস্তার ভেতর গুঁজে দেই।এতে কি স্রাব বের হলেও ওজু ভেঙে যাবে শাইখ?স্রাব তো সব গুঁজে দেওয়া কাপড়ে লাগছে।

৪) রোজা অবস্থায় এই কাপড় এভাবে গুঁজে দেওয়া যাবে?

৫) রোজা অবস্থায় রান্না করার সময় আমি তো ইচ্ছে করে ধোঁয়া মুখে নিচ্ছি না। তারপরও চেষ্টা করি নাক মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রান্না করতে। সবসময় এটা সম্ভব হয় না।এতে রোজায় কোনো অসুবিধা হবে শাইখ?

৬)"আল্লাহ সব কাজ যেন আপনার সন্তুষ্টির জন্য করতে পারি।ছোট বড় সব ভালো কাজে আপনি আমার নিয়তটা ঠিক রাখুন"।

এই দোয়ায় আল্লাহ তায়ালার কোন গুণবাচক নাম ব্যবহার করতে পারি?

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
রাবেয়া বসরী (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন প্রথম যুগের একজন বিখ্যাত আল্লাহভীরু নারী ও সুফি সাধিকা। তাঁর জীবন নিয়ে যে সব কিতাব লেখা হয়েছে (যেমন: তাযকিরাতুল আউলিয়া ইত্যাদি), সেগুলোতে বলা হয়, তিনি দুনিয়ার ওপর ভরসা না করে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করতেন।
অনেক সময় তাঁর প্রয়োজনীয় খাবার বা জিনিসপত্র এমনভাবে এসে যেত যে মানুষ এতে বিস্মিত হতো।

এগুলোকে সুফিরা কেরামত (আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তবে এই ঘটনাগুলো সহিহ হাদিস বা শক্ত ঐতিহাসিক সূত্রে প্রমাণিত নয়।

একজন মেয়ে হয়েও আপনি সেই পরিমান আমল করতে পারবেন।

(০২)
আওয়াল ওয়াক্তে নামাজ পড়া বলতে ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথে নামাজ পড়া বুঝায়।

আযান হওয়ার সাথে সাথে নয়,কেননা অনেক সময় ওয়াক্ত আসার অনেক পরে আমাদের মসজিদ গুলোতে আযান হয়। তাই আযানের অপেক্ষা নয়,বরং ওয়াক্ত আসা মাত্র নামাজ আদায় উত্তম।
,
আউয়াল ওয়াক্তে ছালাত আদায়ের গুরুত্ব :
আল্লাহ তা‘আলা ছালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে বলেন,

 إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ كِتَابًا مَوْقُوْتًا 

‘নিশ্চয় মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ছালাত ফরয করা হয়েছে’ (নিসা ১০৩)।

عَنْ أُمِّ فَرْوَةَ قَالَتْ سُئِلَ رَسُوْلُ اللهِ أَىُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ الصَّلاَةُ فِىْ أَوَّلِ وَقْتِهَا.

উম্মু ফারওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আমল সমূহের মধ্যে কোন্ আমল সর্বাধিক উত্তম? তিনি উত্তরে বলেন, আউয়াল ওয়াক্তে ছালাত আদায় করা।
ছহীহ আবুদাঊদ হা/৪২৬, ১/৬১ পৃঃ; তিরমিযী হা/১৭০, ১/৪২ পৃঃ; সনদ ছহীহ; মিশকাত হা/৬০৭; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৫৯, ২/১৭৯ পৃঃ।

والمراد بأول وقت الصلاة من حين دخول وقتها.
في الشرح الممتع للشيخ ابن عثيمين: الصلاة على وقتها ـ أي: من حين دخول وقتها

সারমর্মঃ
নামাজের আওয়াল ওয়াক্ত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ওয়াক্ত দাখিল হওয়ার পর পরই নামাজ আদায় করা।
শায়েখ ইবনে উসাইমিন রহঃ এমনটিই উল্লেখ করেছেন।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
আউয়াল ওয়াক্ত বুঝার জন্য আপনার জেলার ইসলামী ফাউন্ডেশন করতে প্রণীত চিরস্থায়ী নামাজের ক্যালেন্ডার দেখতে হবে।

সেটা দেখে আপনি বুঝবেন নামাজের আওয়াল ওয়াক্ত কোনটি এবং নামাজের ওয়াক্ত শেষ হচ্ছে কোন সময়।

(০৩)
এতে স্রাব বের হলেও ওজু ভেঙে যাবে। 

(০৪)
ভেজা কাপড় লজ্জাস্থানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করালে রোযা ভেঙ্গে যাবে।

(০৫)
অনিচ্ছাকৃত হওয়ায় এতে রোজা ভেঙে যাবেনা।

(০৬)
রহমান,রহিম যেকোনো নাম ব্যবহার করতে পারেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...