আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
17 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)

আগের মাসের হায়েজ শেষ হয়ে ১৫ দিন পবিত্র থাকার পর,নভেম্বরের ২৭ ও ২৮ তারিখে একবিন্দু পরিমান হলুদ স্রাব দেখা গিয়েছিল একবার করে। তখন নামায বন্ধ রেখেছিলাম ।৩য় দিন থেকে সাদা স্রাব দেখা যায়।তাই ইস্তিহাযা ভেবে নামায পরেছি। পরের কদিন সাদা স্রাবই ছিল। কিন্তু ৬ তারিখে রক্ত এসেছে। অর্থাৎ ২৭ তারিখ হলুদ স্রাব দেখার সময় হতে হিসাব করলে ৬ তারিখ ৯ম দিন হয়।মানে ১০ দিনের ভিতর ই রক্ত এসেছে। ১৩ তারিখ পর্যন্ত চলছে।

১) প্রশ্নঃ তাহলে ২৭ তারিখ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত হায়েয ধরতে হবে না? নাকি অন্য কিছু?

হায়েজের ১০ দিন পার হউয়ার পর রক্ত আসলে তো সেটা ইস্তিহাযা ধরতে হয়। আমি শরীর ধুয়ে অজু করে নামায পরতে বস্লাম। ছোটো সুরা দিয়ে নামায পরে খেয়াল করলাম রক্ত এসেছে।কিন্তু নামাজের মধ্যে বুঝি নাই কখন এসেছে।পুর ওয়াক্তই একটু পর পর চেক করে দেখলাম রক্ত আছে।

২)ওই ওয়াক্তের নামায আমাকে তো আবার পরতে হবে না ।তাই না?

মাজুরের মাসালা তে আপ্নারা বলেছেন-
"শরয়ীভাবে মা'যুর প্রমাণিত হওয়ার জন্য কোনো নামাযের শুরু থেকে শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত উযর স্থায়ী থাকা শর্ত।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৪০)

কোনো ব্যাক্তি মা'যুর প্রমানিত হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী ওয়াক্ত গুলোতে পুরো সময় উক্ত ওযর পাওয়া জরুরি নয়,বরং পরবর্তী প্রতি ওয়াক্তে এক বারও যদি উক্ত ওযর পাওয়া যায়,তাহলে সে মা'যুরই থাকবে। "

  ৩) প্রশ্নঃ এইকথার ( "বরং পরবর্তী প্রতি ওয়াক্তে এক বারও যদি উক্ত ওযর পাওয়া যায়,তাহলে সে মা'যুরই থাকবে। ") মানে কি?
তাহলে আমি তো মাজুর।মাজুর প্রমানিত হওয়ার পর পরের ওয়াক্তে আমি আবার অজু করে নামাজ পরতে বস্লাম।নামায পরার সময় রক্ত আসে নাই।কিন্তু কিছু পরে ওই ওয়াক্তের মধ্যেই রক্ত আসে। তাহলে পরের ওয়াক্তের জন্য ও তো আমি মাজুর তাই না?
 

by (1 point)
আর একটা প্রশ্নঃ ইস্তিহাযা শেষ হওয়ার পর যখন সাদা স্রাব আসে।মানে ইস্তিহাযা অবস্থায় আমি মাজুর ছিলাম। ফযরের ওয়াক্তেও চেক করে দেখছি আমার রক্ত আসছে। পরে জোহরের ওয়াক্তে যদি নামাযের ভিতর একবার সাদা স্রাব আসে।

আমি কি তাহলে আর মাজুর থাকব না? তাহলে আমার কি জোহরের ওই নামায পরা হয়নি?
নাকি সাদা স্রাব একবার হলেও আমি  আসরের ওয়াক্ত ও মাজুর?

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ৩ তিন,আর সর্বোচ্ছ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬)  

হাদীস শরীফে এসেছে   
أقل الحیض للجاریۃ البکر والثیب ثلاثۃ أیام ولیالیہا وأکثرہ عشرۃ أیام
دار قطني، السنن، 1: 219، رقم: 61
রাসুল সাঃ বলেন  মহিলাদের হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা হলো ৩ দিন ৩ রাত,সর্বোচ্চ সীমা হলো ১০ দিন ১০ রাত।

হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক,সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। 
উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা।
(কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)

তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,

عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "

তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।(মুয়াত্তা মালিক-১২৭)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ২৭ শে ডিসেম্বর হতে হিসাব করলে ৬ ই জানুয়ারী ১১ তম দিন হয়।

সুতরাং আপনি ৬ ই জানুয়ারী হতে হায়েজ ধরবেন। 

(০২)
হ্যাঁ, সেই নামাজ আপনাকে পুনরায় আদায় করতে হবে।

(০৩)
আপনি যদি সত্যিই মা'যুর হয়ে থাকেন,সেক্ষেত্রে প্রশ্নের বিবরন মতে পরবর্তী ওয়াক্তেও আপনি মা'যুর থাকবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...