জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
(০১)
হাদীস শরীফে এসেছে-
يَا عَمَّارُ إِنَّمَا يُغْسَلُ الثَّوْبُ مِنْ خَمْسٍ: مِنَ الْغَائِطِ وَالْبَوْلِ وَالْقَيْءِ وَالدَّمِ وَالْمَنِيِّ
আম্মার বিন ইয়াসার রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-নিশ্চয় ৫টি কারণে কাপড় ধৌত করতে হয়, যথা-১-পায়খানা, ২-প্রশ্রাব, ৩-বমি, ৪-রক্ত, ৫-বীর্য। {সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৪৫৮}
(قَوْلُهُ: إلَّا حَجَرًا خَشِنًا إلَخْ) فِي الْخَانِيَّةِ مَا نَصُّهُ: الْحَجَرُ إذَا أَصَابَتْهُ النَّجَاسَةُ، إنْ كَانَ حَجَرًا يَتَشَرَّبُ النَّجَاسَةَ كَحَجَرِ الرَّحَى يَكُونُ يُبْسُهُ طَهَارَةً، وَإِنْ كَانَ لَا يَتَشَرَّبُ لَا يَطْهُرُ إلَّا بِالْغَسْلِ. اهـ. وَمِثْلُهُ فِي الْبَحْرِ.
وَبَحَثَ فِيهِ فِي شَرْحِ الْمُنْيَةِ فَقَالَ هَذَا بِنَاءً عَلَى أَنَّ النَّصَّ الْوَارِدَ فِي الْأَرْضِ مَعْقُولُ الْمَعْنَى؛ لِأَنَّ الْأَرْضَ تَجْذِبُ النَّجَاسَةَ وَالْهَوَاءَ يُجَفِّفُهَا فَيُقَاسُ عَلَيْهِ مَا يُوجَدُ فِيهِ ذَلِكَ الْمَعْنَى الَّذِي هُوَ الِاجْتِذَابُ، وَلَكِنْ يَلْزَمُ مِنْهُ أَنْ يَطْهُرَ اللَّبِنُ وَالْآجُرُّ بِالْجَفَافِ وَذَهَابِ الْأَثَرِ وَإِنْ كَانَ مُنْفَصِلًا عَنْ الْأَرْضِ لِوُجُودِ التَّشَرُّبِ وَالِاجْتِذَابِ. اهـ. وَعَلَى هَذَا اسْتَظْهَرَ فِي الْحِلْيَةِ حَمْلَ مَا فِي الْخَانِيَّةِ عَلَى الْحَجَرِ الْمَفْرُوشِ دُونَ الْمَوْضُوعِ، وَهَذَا هُوَ الْمُتَبَادِرُ مِنْ عِبَارَةِ الشُّرُنْبُلَالِيَّةِ، لَكِنْ يَرُدُّ عَلَيْهِ أَنَّهُ لَا يَظْهَرُ فَرْقٌ حِينَئِذٍ بَيْنَ الْخَشِنِ وَغَيْرِهِ، فَالْأَوْلَى حَمْلُهُ عَلَى الْمُنْفَصِلِ كَمَا هُوَ الْمَفْهُومُ الْمُتَبَادِرُ مِنْ عِبَارَةِ الْخَانِيَّةِ وَالْبَحْرِ.
وَيُجَابُ عَمَّا بَحَثَهُ فِي شَرْحِ الْمُنْيَةِ بِأَنَّ اللَّبِنَ وَالْآجُرَّ قَدْ خَرَجَا بِالطَّبْخِ وَالصَّنْعَةِ عَنْ مَاهِيَّتِهمَا الْأَصْلِيَّةِ بِخِلَافِ الْحَجَرِ فَإِنَّهُ عَلَى أَصْلِ خِلْقَتِهِ فَأَشْبَهَ الْأَرْضَ بِأَصْلِهِ، وَأَشْبَهَ غَيْرَهَا بِانْفِصَالِهِ عَنْهَا، فَقُلْنَا إذَا كَانَ خَشِنًا فَهُوَ فِي حُكْمِ الْأَرْضِ؛ لِأَنَّهُ لَا يَتَشَرَّبُ النَّجَاسَةَ، وَإِنْ كَانَ أَمْلَسَ فَهُوَ فِي حُكْمِ غَيْرِهَا؛ لِأَنَّهُ لَا يَتَشَرَّبُ النَّجَاسَةَ - وَاَللَّهُ أَعْلَمُ -
«حاشية ابن عابدين = رد المحتار ط الحلبي» (1/ 312)
মর্মার্থ-
ফ্লোর যদি টাইলসবিহীন হয়, তাহলে নাপাকির ওপর পানি ঢেলে দিলে তা পবিত্র হয়ে যাবে। তবে পানি ঢালার পূর্বেই যদি শুকিয়ে যায়, তাহলেও পবিত্র হয়ে যাবে। কেননা তা মাটির হুকুমে। আর যদি ফ্লোর টাইলসবিশিষ্ট হয় এবং টাইলসগুলো আয়নার মতো সমান হয় এবং পানি চোষার ক্ষমতা না রাখে, তাহলে তা আয়নার হুকুমে। অর্থাৎ কোন কাপড় জাতীয় বস্তু দ্বারা মুছে ফেললে পবিত্র হয়ে যাবে। কিন্তু টাইলসে যদি মাটির মতো শোষণ ক্ষমতা থাকে, তাহলে তা মাটির হুকুমে। অর্থাৎ শুকানোর দ্বারা পবিত্র হয়ে যাবে। আর যদি শোষণ ক্ষমতা না থাকে এবং আয়নার মতো সমানও না হয়, তাহলে নাপাকি দূর হওয়া পর্যন্ত পানি দিয়ে তা ভালো ভাবে ধুতে হবে। (আরো জানতে দেখুন- ই’লাউস সুনান: ১/৩৯২, হিদায়া: ১/৫৬, ফতহুল কদীর: ১/১৭৪, মাবসুতে সারখসী: ১/২০৬)
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যদি এক টুকরো কাপড় দিয়ে তিনবার মুছতে চান, তাহলে প্রতিবার কাপড় দিয়ে মোছার পর সেই কাপড়কে ভালোভাবে ধুয়ে পাক করে নিতে হবে।
এক্ষেত্রে ট্যাপের পানিতে সরাসরি সে কাপড়টি ভালোভাবে ধোয়ার পরামর্শ রইলো।
(০২)
এক্ষেত্রে বাসায় এসে শরীর ও কাপড় পাক করে ওযু করে নামাজ পড়তে হবে। নতুবা টিউশনিতে যাওয়ার আগেই নামাজ পড়ে নিতে হবে। অন্যথায় সেই সময় টিউশনি বাদ দিতে হবে।
(০৩)
হ্যাঁ গুনাহ হবে।
(০৪)
ওজু ছাড়া কুরআনের আয়াত (স্পর্শ করে) লেখা যাবেনা।
(০৫)
সেই রুমে নামাজ পড়লে যদিও নামাজ আদায় হয়ে যাবে, তবে নামাজটি মাকরূহ হবে।
(০৬)
সে যদি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ কোন বিধান নিয়ে হাসিঠাট্টা অথবা অস্বীকার করে বা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে, তাহলে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে।
(০৭)
ফজরের নামাজ কাজা হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে সূর্য উদয়ের পর ইশরাকের ওয়াক্ত হতে যোহরের ওয়াক্ত আসার আগেই তাহা আদায় করতে হবে।
যদি যোহরের ওয়াক্ত আসার আগেই আদায় না করা হয়, সেক্ষেত্রে যোহরের ওয়াক্তে আগে ফজরের নামাজের কাযা আদায় করতে হবে, তারপর যোহরের নামাজ আদায় করতে হবে।
হ্যাঁ যদি সেই ব্যক্তির জীবনে ছয় ওয়াক্ত বা তার চেয়েও বেশি নামাজ কাজা থেকে থাকে, সে ক্ষেত্রে সে চাইলে জোহরের নামাজ আগেও পড়তে পারে, কাজা পরে তুলে নিতে পারবে।
(০৮)
ঐখান থেকে সাদাকাহ করা যাবে।
(০৯)
আইনের খেলাফ হয় এটি জায়েজ নয়।
এমতাবস্থায় কুমিল্লা থেকে সরাসরি টিকিট কাটার বা এ বিষয়ে সেখানকার দায়িত্বশীল কারো সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ থাকবে।
এক্ষেত্রে যে কয়বার আপনি এভাবে সফর করেছেন, আনুমানিক ভাবে সমপরিমান টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিবেন।
(১০)
সাদকা করার সময় সকল উম্মাহর পক্ষ থেকে,রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে সাদকা করা যাবে।
(১১)
কোনো ব্যাক্তি যদি শেষ বৈঠকে সেজদায়ে সাহু আদায় করেছে কিনা,আদায় করে থাকলে দুটি সেজদাহ দিয়েছে না কি একটি সেজদাহ দিয়েছে,এই ব্যাপারে সন্দেহে পরে যায়,তাহলে সে প্রবল ধারনার ভিত্তিতে আমল করবে।
যদি কোনোদিকেই প্রবল ধারনা না হয়,সেক্ষেত্রে পুনরায় সেজদায়ে সাহু আদায় করে নামাজ শেষ করবে।
في الدر المختار مع رد المحتار:
اليقين لا يزول بالشك.
(قبيل باب صلاةالمريض،ج2،ص:95،مط: سعيد)
সারমর্মঃ
নিশ্চিত বিষয় সন্দেহের দ্বারা দূর হয়না।
وفيه ايضا:
يجب السجود فى جميع صور الشك سواء عمل بالتحري او بني على الاقل.
(قبيل باب صلاةالمريض،ج2،ص:95،مط: سعيد)
সারমর্মঃ
সেজদায়ে সাহু সন্দেহের সমস্ত ছুরতে ওয়াজিব হবে,চাই তাহাররি করে আমল করুক,বা কম সংখ্যাকে ধরে নিয়ে আমল করুক।
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত মুছল্লি প্রবল ধারনার ভিত্তিতে আমল করবেন।
যদি তার প্রবল ধারনা হয় যে সে সেজদায়ে সাহু আদায় করেছে, সেক্ষেত্রে তার নামাজ হয়ে গিয়েছে। কোনো সমস্যা নেই।
আর যদি প্রবল ধারনা হয় যে সে সেজদায়ে সাহু আদায় করেনি,বা কোনো দিকেই প্রবল ধারনা না আসে,সেক্ষেত্রে সে যেহেতু মসজিদ থেকে বের হয়ে গিয়েছে, তাই ওয়াক্ত থাকলে ওই নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে।
আর ওয়াক্ত না থাকলে পুনরায় আদায় না করলেও মাকরুহের সহিত উক্ত নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
(১২)
এক্ষেত্রে ওয়াক্তের মধ্যে সেই নামাজ পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব।
(১৩)
মাছ, মুরগী (জবাইকৃত) কাটার পর ময়লা পানি কাপড়ে লাগলে ওই কাপড় দিয়ে নামাজ পড়া যাবে।
তবে মুরগির জবার সময় কোন রক্ত কাপড়ে লাগলে বা সেই সময়কার প্রবাহিত কোন রক্ত কাপড়ে লাগলে সেই কাপড়ে নামাজ পড়া যাবে না।
(১৪)
এসব চিন্তার মাথায় আসলেই সে বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইবে, আর এসব চিন্তাকে কোনভাবেই সে পাত্তা দেবে না।
(১৫)
এক্ষেত্রে নামাজ ভেঙ্গে যাওয়ার মত অর্থ বিকৃত হলে নামাজ ভেঙ্গে যাবে।
(১৬)
এক্ষেত্রেও আশা করি হাতের কোন আঙ্গুল সাক্ষ্য দিবে,ইনশাআল্লাহ।
(১৭)
হ্যাঁ, কবুল হবে ইনশাআল্লাহ।
(১৮)
ফজর ও আসরের নামাজের পর কাযা নামাজ পড়া যাবে।
তবে সূর্য উদয়ের সময়, সূর্য ডুবে যাওয়ার সময় কাজা নামাজ আদায় করা যাবে না।
হ্যাঁ সেই দিনের আসরের নামাজ যদি কাজা হয়ে থাকে, তাহলে ওই দিন সূর্য ডুবে যাওয়ার সময় সেদিনের আসরের নামাজের কাজা আদায় করা যাবে।
(১৯)
সেক্ষেত্রে তার পায়ে যদি নাপাকি থাকে, তাহলে তো উক্ত স্থান নাপাক হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় সেই স্থান যদি শুকিয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে তার ওপর শুকনো জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করা যাবে। অন্যথায় নামাজ আদায় করা যাবে না।
(২০)
নোটপ্যাডটি ধরতে ওজু করা লাগবেনা।
(২১)
এক্ষেত্রেও মিসওয়াকের ফজিলত অর্জন হবে।