ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!.
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَلَا تَنفَعُ الشَّفَاعَةُ عِندَهُ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ ۚ حَتَّىٰ إِذَا فُزِّعَ عَن قُلُوبِهِمْ قَالُوا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ ۖ قَالُوا الْحَقَّ ۖ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ
যার জন্যে অনুমতি দেয়া হয়, তার জন্যে ব্যতীত আল্লাহর কাছে কারও সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না।(সূরা সা'বা-২৩)
মুমিনগণের শাফায়াত গ্রহণযোগ্য হবে। এ সম্পর্কে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি থেকে বর্ণিত,
( وَإِذَا رَأَوْا أَنَّهُمْ قَدْ نَجَوْا فِي إِخْوَانِهِمْ يَقُولُونَ : رَبَّنَا إِخْوَانُنَا كَانُوا يُصَلُّونَ مَعَنَا وَيَصُومُونَ مَعَنَا وَيَعْمَلُونَ مَعَنَا فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى ( اذْهَبُوا فَمَنْ وَجَدْتُمْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ دِينَارٍ مِنْ إِيمَانٍ فَأَخْرِجُوهُ ) وَيُحَرِّمُ اللَّهُ صُوَرَهُمْ عَلَى النَّارِ فَيَأْتُونَهُمْ وَبَعْضُهُمْ قَدْ غَابَ فِي النَّارِ إِلَى قَدَمِهِ وَإِلَى أَنْصَافِ سَاقَيْهِ فَيُخْرِجُونَ مَنْ عَرَفُوا ثُمَّ يَعُودُونَ فَيَقُولُ ( اذْهَبُوا فَمَنْ وَجَدْتُمْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ نِصْفِ دِينَارٍ فَأَخْرِجُوهُ ) فَيُخْرِجُونَ مَنْ عَرَفُوا ثُمَّ يَعُودُونَ فَيَقُولُ ( اذْهَبُوا فَمَنْ وَجَدْتُمْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ مِنْ إِيمَانٍ فَأَخْرِجُوهُ ) فَيُخْرِجُونَ مَنْ عَرَفُوا ، قَالَ أَبُو سَعِيدٍ : " فَإِنْ لَمْ تُصَدِّقُونِي فَاقْرَءُوا ( إِنَّ اللَّهَ لا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِنْ تَكُ حَسَنَةً يُضَاعِفْهَا )
যখন ঈমানদারগন এই দৃশ্যটি অবলোকন করবে যে, তাদের ভাইদেরকে রেখে একমাত্র তারাই নাজাত পেয়েছে, তখন তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদের সেসব ভাই কোথায়, যারা আমাদের সঙ্গে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করত, রোযা পালন করত, নেক কাজ করত? তখন আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে বলবেনঃ তোমরা যাও, যাদের অন্তরে এক দীনার বরাবর ঈমান পাবে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আন। আল্লাহ তাআলা তাদের মুখমণ্ডল জাহান্নামের ওপর হারাম করে দিয়েছেন। এদের কেউ কেউ দু’পা ও দু’পায়ের নলীর অধিক পর্যন্ত জাহান্নামের মধ্যে থাকবে। তারা যাদেরকে চিনতে পারে, তাদেরকে বের করবে। তারপর এরা আবার প্রত্যাবর্তন করবে।
আল্লাহ আবার তাদেরকে বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে অর্ধ দীনার পরিমাণ ঈমান পাবে তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা গিয়ে তাদেরকেই বের করে নিয়ে আসবে যাদেরকে তারা চিনতে পারবে। তারপর আবার প্রত্যাবর্তন করবে। আল্লাহ তাদেরকে আবার বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে অনু পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা যাদেরকে চিনতে পাবে তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। বর্ণনাকারী আর সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেনঃ তোমরা যদি আমাকে বিশ্বাস না কর, তাহলে আল্লাহর এ বানীটি পড়ঃ আল্লাহ অণু পরিমানও জুলুম করেন না। এবং অণু পরিমান পূণ্য কাজ হলেও আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ করেন (৪ঃ ৪০)।(সহীহ বোখারী-৬৯৩২)
সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতিত মু'মিনদের শাফায়াত ও আল্লাহ তা'আলা কবুল করবেন। তবে মু'মিনদের শাফায়াত গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে।
(১) আল্লাহর হুকুম থাকতে হবে।
(২) শাফায়াত কারী সম্পর্কে আল্লাহ সন্তুষ্ট হতে হবে।
(৩) যে সম্পর্কে শাফায়াত করা হবে, তা আল্লাহর সন্তুষ্টির মধ্য থেকে হতে হবে।
সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
সুতরাং কোন গাইরে মাহরাম হাফেজ আলেমকে ওয়াদা করানো যে, সে যদি আগে জান্নাতে যায় তাহলে সে যেন আপনার জন্য সুুপারিশ করে, আর আপনি যদি আগে জান্নাতে যান, আপনি তার জন্য সুপারিশ করবেন। এরকমটা আখেরাতে কার্যকরী হবে কি না? তা আল্লাহই ভালো জানেন। এরকম ওয়াদা করা কখনো মুনাসিব হবে না।কেননা আল্লাহর হুকুম ব্যতিত সেই দিন কেউ সুপারিশ করতে পারবে না। সুতরাং এরকম ওযাদা না করে বরং নিজের জন্য এবং অপর ভাইয়ের জন্য দুনিয়াতে দু'আ করে যাওয়াই উচিত ও কর্তব্য।